চিত্র বিচিত্র

অবিবাহিতরা পড়বেন না!

অবিবাহিতরা পড়বেন না- পরিবার পরিকল্পেনা বিভাগে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হলো:
শুভবিবাহ বা বিবাহ মানে কী?

উত্তর: এক কথায় ইহার জবাব দেওয়া মুশকিল। তাই এ সংক্রান্ত একাধিক মতামত এখানে সংযুক্ত করা হলো, স্যার।

১ নং সংজ্ঞা: বিবাহ এমন একটা বন্ধন যেখানে দুইজন মানুষ একসাথে মিলে জীবনভর সেইসব সমস‍্যা তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকে যেগুলি আগে কখনো ছিলই না!
২ নং সংজ্ঞা: বিবাহ এমন একটা মনোরম সুন্দর জঙ্গল যেখানে এক বাহাদুর সিংহকে একটা হরিণ অনায়াসেই শিকার করে!

৩ নং সংজ্ঞা: বিবাহ মানে ‘এই যে শুনছো’ থেকে ‘কালা (বধির) হয়ে গেছ নাকি’ পর্যন্ত একটা সফর!
৪ নং সংজ্ঞা: বিবাহ মানে ‘তোমার মতো কেউ হয় না’ থেকে ‘তোমার মতো অনেক দেখেছি’ পর্যন্ত একটা সফর!

৫ নং সংজ্ঞা: বিবাহ মানে ‘তুমি রেখে দাও’ থেকে ‘দয়া করে তুমি রাখ তো’ পর্যন্ত একটা সফর!
বিবাহ মানে ‘কোথায় গিয়েছিলে সোনা’ থেকে ‘কোথায় মরতে গিয়েছিলে?’ পর্যন্ত একটা সফর!

৬ নং সংজ্ঞা: বিবাহ মানে ‘অনেক ভাগ‍্য ভাল যে তোমার মতো ফেরেশাতাকে পেয়েছি’ থেকে ‘আমার ভাগ‍্যটাই খারাপ যে তোমার মতো জন্তুর পাল্লায় পড়েছি’ পর্যন্ত একটা সফর!

৭ নং সংজ্ঞা: বিবাহিত জীবন অনেকটাই কাশ্মিরের মতন! খুবই সুন্দর তো বটেই, তবে এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অনেক অজানা আতঙ্ক!

কোরআন ও মাথা ছুঁয়ে শপথ কিন্তু জানেন কি, ইসলাম কি বলে?

দেখা যায়, অনেকেই কোরআন ছুঁয়ে, মাথা ছুঁয়ে, মাজার বা পীরের নামে শপথ করে। কিন্তু জানেন কি ইসলাম কি বলে? ইসলামী বিধান মতে, তা শিরক ও সবচেয়ে বড় গুনাহ। হাদিস শরিফে আছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করে, সে অবশ্যই কুফরি বা শিরক করল।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ১৫৩৫)

শপথ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামে করতে হয়। কিন্তু কোরআন স্পর্শ করে যদি কেউ শপথ করে, তাহলে সে শপথও রক্ষা করতে হবে। কেননা কোরআন আল্লাহর কালাম। এটি রাব্বুল আলামিনের কথা। তাই এটিও এক ধরনের কসম।

এই ধরনের কসম করলে অবশ্যই তা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কালাম হওয়ার কারণে কোরআনের মর্যাদা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করার সুযোগ নেই। আল্লাহর নামে কসম করলে যেমন তার মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি, তেমনি কোরআন ছুঁয়ে শপথ করলে এর মর্যাদা কোনোভাবে ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

কোনো ব্যক্তি আল্লাহর নামে করা শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারাস্বরূপ তিনটি কাজের মধ্যে যেকোনো একটি কাজ করতে হবে।

এক. ১০ জন দরিদ্রকে মধ্যম শ্রেণির খাদ্য সকাল-বিকাল দুই বেলা খাওয়াতে হবে। এটি অর্থমূল্যে দিতে চাইলে প্রত্যেককে পৌনে দুই সের গম বা তার অর্থমূল্য দিতে হবে।

দুই. ১০ জন দরিদ্রকে ন্যূনতম ‘সতর ঢাকা’ পরিমাণ পোশাক-পরিচ্ছদ দান করতে হবে।

তিন. ক্রীতদাস থাকলে একজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দিতে হবে। কেউ যদি এ আর্থিক কাফফারা দিতে সমর্থ্য না হয়, তার জন্য কাফফারা হলো তিনটি রোজা রাখা। হানাফি মাজহাব মতে, ওই রোজা উপর্যুপরি ও ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে।

কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করে, তাহলে তার কাফফারা হলো কালেমা ত্বাইয়েবা ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি শপথ করতে গিয়ে লাত ও উজজার (আরবের মূর্তির) নামে শপথ করে বসে, সে যেন বলে, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত, হাদিস : ৩৪০৯)

স্মরণ রাখতে হবে, অহেতুক শপথ করা ইসলাম সমর্থন করে না। আবার শপথ ভঙ্গ করাও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

যে দোয়া পড়লে আল্লাহ তাআলা রোগ-ব্যাধি দূর করে দেবেন

মানুষের শরীরে অনেক সময় নানা ব্যথা বেদনা অনুভব হয়ে থাকে। এ ব্যথা বেদনা থেকে পরিত্রাণ পেতে হাদিসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল ও দোয়া করার জন্য বলা হয়েছে।

হজরত ওসমান ইবনে আবুল আছ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একবার তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট তার শরীরের ব্যথার কথা জানালেন। জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তুমি তোমার বেদনার জায়গায় হাত রাখ এবং তিন বার বিসমিল্লাহ বল এবং সাত বার এই দোয়া পড়-

উচ্চারণ : আউজু বিইযযাতিল্লাহি ওয়া ক্বুদরাতিহি মিন সাররি মা আঝিদু ওয়া উহাজিরু। (মুসলিম, মিশকাত)
অর্থ : আল্লাহ প্রতাপ ও তার ক্ষমতার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি এবং ঐ বস্তু হতে, যা অনুভব করছি ও আশংকা করছি, তার অনিষ্ট হতে।

সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো এ দোয়া এবং আমলটি করে ব্যথা থেকে আরোগ্য লাভ করতে পারি।

এছাড়া হার্ট বা হৃদপিণ্ড মানুষের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। হৃদপিণ্ড সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে, শরীরে একটি গোস্তের টুকরো আছে, যার এ টুকরোটি সুস্থ থাকবে, তার পুরো শরীরই সুস্থ থাকবে। আর যার এ গোস্তের টুকরোটি অসুস্থ হয়ে যাবে, তার পুরো শরীরই অসুস্থ হয়ে যাবে। আর তা সুস্থ রাখার উপায় হলো আল্লাহর জিকির।

মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি হার্ট বা হৃদপিণ্ড বর্তমান সময়ে অনেক বেশি রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। হার্ট বা হৃদপিণ্ডের ব্যথা বা যে কোনো রোগের সম্মুখীন হলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

কুরআনে এই হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে ও ব্যাথামুক্ত রাখতে আয়াত রয়েছে। যারা নিয়মিত কুরআনের আমল করবে আল্লাহ তাআলা তাদের হৃদপিণ্ডের ব্যথাসহ যাবতীয় রোগ-ব্যধিগুলো দূর করে দেবেন। আয়াতটি হলো-

উচ্চারণ : আল্লাজিনা আমানু ওয়া তাত্বমাইন্নু ক্বুলুবুহুম বিজিকরিল্লাহি আলা বিজিকরিল্লাহি তাত্বমাইন্নুল ক্বুলুবু।’ (সুরা রাদ : আয়াত ১৩)

যে ব্যক্তি সুরা রাদের উল্লেখিত আয়াত নিয়মিত ৪১ বার পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার হার্ট বা হৃদপিণ্ডের ব্যথা ও রোগ-ব্যাধি দূর করে দেবেন।

আপনার মতামত