প্রযুক্তি

যেভাবে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি!

আকাশে দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি- আকাশ দেখতে কার না ভালো লাগে। তাইতো একটু মন খারাপ কিংবা উদাসীন হলেই ছাদে উঠে রাতের আকাশ দেখতে থাকি। ভাবতে থাকি প্রিজয়নের কথা।

এই আকাশ দেখার সময় কখনো কখনো আমরা আগুনের ফুলকির মতো দ্রুতগতিতে উল্কা পতন হওয়া দেখতে পাই। আবার কোনো কোনো নির্দিষ্ট সময় অজস্র উল্কার পতন একসঙ্গে দেখি। আর একসঙ্গে অজস্র উল্কা পতনই ‘পারসেইড’ উল্কাবৃষ্টি নামে পরিচিত।

তথ্যামতে, প্রতি বছর জুলাইয়ের ১৭ তারিখ থেকে আগস্টের ২৪ এর মধ্যে রাতের আকাশে পারসেইড উল্কাবৃষ্টি ঘটে থাকে। বছরের সেসময়টাই এখন চলছে। চলতি বছরে আগস্টের ১২-১৩ তারিখের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারসেইড উল্কাবৃষ্টি দেখতে পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল অমাবস্যা থাকায় উল্কাবৃষ্টি পর্যবেক্ষণে বাড়তি সুবিধা যোগ হয়েছে। কারণ এসময় আকাশ অন্ধকার থাকলে এবং ঝড়-বৃষ্টি না হলে প্রতি ঘন্টায় ৬০-১০০টি উল্কা পতন দেখতে পাওয়া সম্ভব। উল্কা পতনের সময় উল্কাপিন্ড ঘণ্টায় ১,৩৩,২০০ মাইল গতিতে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে। আর উল্কাপিন্ডগুলো ভূপৃষ্টে পৌঁছানোর আগেই বায়ুমন্ডলের সাথে ঘর্ষণে নিঃশেষ হয়ে যায়।

যেভাবে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি!

এই পারসেইড উল্কাবৃষ্টির নাম পারসিউস নক্ষত্রমন্ডলের নামানুসারে রাখা হয়েছে,যার উৎপত্তি সুফইট টাটল ধূমকেতু থেকে। প্রতি বছর আগস্টের মধ্যবর্তী সময়ে পৃথিবী তার মহাজাগতিক পথ পরিক্রমায় সুফইট টাটল ধূমকেতুর কক্ষপথের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করে।

সুফইট টাটল ধূমকেতুর লেজের অবিশিষ্টাংশ থেকেই উৎপত্তি ঘটে এইসব উল্কার। সুফইট টাটল ধূমকেতুটি ১৩৩ বছরে একবার নিজ কক্ষপথ ঘুরতে সক্ষম। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে এটি পৃথিবীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করে। পরবর্তী ২১২৬ সালে আবার এমনটি ঘটবে।

এই উল্কাবৃষ্টি দেখতে চাইলে মধ্যরাতে আকাশের উত্তর-পূর্ব দিকে চোখ রাখতে পারেন। খালি চোখেই এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে। এটি দেখার জন্য কোনো টেলিস্কোপ বা দূরবীন প্রয়োজন হবে না। তবে প্রয়োজন হবে পরিচ্ছন্ন আকাশ ও একান্ত ধৈর্য্য।

রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রথমেই উল্কাপাতের কেন্দ্রটি খুঁজে বের করতে হবে। আকাশ অন্ধকার থাকার কারণে চোখের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ১৫/২০ মিনিট সময় লাগতে পারে। তবে ধৈর্য্য না হারিয়ে আরাম করে বসুন এবং উপভোগ করুন এই মহাজাগতিক দৃশ্য।

আপনার মতামত