ধর্ম

আগামী ২০ বছরে খ্রিস্টানদের ছাড়িয়ে শীর্ষে যাবে মুসলমানরা!

আগামী ২০ বছরে- বর্তমানে সারা বিশ্বে যেকোনও সম্প্রদায়ের থেকে খ্রিস্টান শিশুর জন্মই বেশি দেন মায়েরা। তবে আগামী ২০ বছরে চিত্রটা পাল্টাতে চলেছে।

মুসলিম মায়েদের প্রসব করা সন্তানের সংখ্যা বেশ খানিকটা বাড়তে চলেছে। মার্কিন গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এই তথ্য সামনে এসেছে। খবর ইন্ডিয়া টাইমসের।

এই সংস্থার গণনা বলছে, ‘এখন থেকে ২০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে খ্রিস্টানদের থেকে মুসলিম শিশু জন্মের সংখ্যা বাড়তে চলেছে।’

এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে ও আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের মোট মৃত্যুর মধ্যে বেশিরভাগই হয়েছে বা হতে চলেছে খ্রিস্টানদের।

কারণ তাদের জনসংখ্যায় তুলনামূলকভাবে বার্ধক্যের পরিমাণই বেশি। উল্টোদিকে, মুসলিম জনসংখ্যা সেই তুলনায় অনেক বেশি নবীন এবং তুলনামূলকভাবে তাদের ফার্টিলিটি রেটও বেশি।

বুধবার পিউ রিসার্চ সেন্টারের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘২০৩০-৩৫ সালের মধ্যে খ্রিস্টান শিশুর(২২৪ মিলিয়ন) থেকে মুসলিম শিশু(২২৫ মিলিয়ন) বেশি জন্মাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও মোট খ্রিস্টান জনসংখ্যা সর্বাধিকই থাকবে।’

২০১৫ সালে এই মার্কিন সংস্থার প্রোজেকশন ছিল, আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়ে চলা ধর্মীয় দল হবে মুসলিমরা। বুধবার পিউ-এর তরফে বলা হয়, এই দাবি যে সঠিক হতে চলেছে তার ইঙ্গিত ইতোমধ্যেই মিলেছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যা ইন্দোনেশিয়ায়।

শীতের সকালে পবিত্র কুরআন পড়ছেন আফ্রিদি

কয়েক দিন আগে বিপিএল খেলা শেষে নিজ দেশে ফিরেছেন পাকিস্তানের গ্রেট ক্রিকেটার শহীদ খান আফ্রিদি। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বেশকিছু দেশে এখন শীতকাল।

শীতের সকালে পবিত্র কুরআন পড়ছেন আফ্রিদি

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের আবহাওয়া প্রায় অনেকটা একই রকম। তাই সকাল বেলা সূর্যের আলো উপভোগ করতে চায় অনেকেই। ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদিও এমন মনের মানুষ।

তবে দেখা গেলো শুধু নিছক সুর্যের তাপে শীতই উপভোগ করছেন না তিনি। শীতের সকালে পবিত্র কুরআন হাতে নিয়ে সূর্যালোকে যান তিনি। আর মনের আনন্দে আনমনা হয়ে তিলাওয়াত করছেন পবিত্র কুরআন।

সবারই জেনে থাকার কথা পবিত্র কুরআনের একটি হরফ তিলাওয়াত করলে ১০টি করে নেকি পাওয়া যায়। অর্থবুঝে পড়লে আরও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। পাকিস্তানের ক্রিকেটার শহীদ খান আফ্রিদি তাই সময়কে হেলায় না কাটিয়ে পবিত্র কুরআন পড়ছেন।

আপনার জীবনে যাই ঘটুক না কেন নামাজ পড়ুন

আমার প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, নামাজ পড়ুন। আপনার জীবনে যাই ঘটুক না কেন নামাজ পড়ুন। আপনি যে পাপই করেন না কেন যত পরিমাণই করেন না কেন, নামাজ পড়ুন। কোন অজুহাত দেখাবেন না।

কোন কোন বোন এসে বলেন, ভাই আমি তো হিজাব পরি না। আমি তাকে বলি, নামাজ পড়ুন। সে বলে, দেখুন, আমি শালীন পোশাকও পরি না। আমি তাকে বলি, নামাজ পড়ুন। ভাই আমি মদ খাই, নামাজ পড়ুন।

ভাই আমি তো মাদক বিক্রি করি, নামাজ পড়ুন। আমি মাদক গ্রহণ করি, নামাজ পড়ুন। আমার মেয়ে বন্ধু আছে এবং আমি তার সাথে রাত্রি যাপন করি, আমি তাকে বলি, নামাজ পড়ুন। আপনার জীবনে যাই ঘটুক না কেন, নামাজ পড়ুন।

‘’ কিন্তু ভাই, এটা কীভাবে সম্ভব যে আমি এতো সব পাপ করা সত্ত্বেও নামাজ পড়বো!! এটা অসম্মানজনক, এর ফলে তো আমি মুনাফিক হয়ে গেলাম। ’’ আমি তাকে বলি, না, ঠিক এজন্যই আমরা নামাজ পড়ি। কারণ আমরা কেউই নিখুঁত নই, আমরা সবাই কম বেশি পাপ করি।

আমরা ভুল কাজ করি। নামাজ পড়ুন। আল্লাহ বলেন, ‘’নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে।’’ নামাজ পড়ুন।

কখনো কখনো মানুষ বলে, ‘’ আগে আমার জীবন ঠিক করে নেই, তারপর ইনশাল্লাহ, আমি নামাজ পড়া শুরু করবো।’’

প্রিয় বন্ধু, আপনি কোন কিছুই ঠিক করতে পারবেন না, যদি আপনি নামাজ না পড়েন। এজন্যই আমরা নামাজ পড়ি, আমাদের জীবনকে সঠিক পথে নিয়ে আসার জন্য। কোন কিছুকেই, কোন মানুষকেই আপনার এবং আল্লাহর মাঝে আসতে দিবেন না। নামাজ পড়ুন। আপনার জীবনে যাই ঘটুক না কেন, নামাজ পড়ুন। আপনি যেখানেই থাকেন না কেন, নামাজ পড়ুন।

মাঝে মাঝে মানুষ এসে আপনাকে বলে, ‘’ ভাই/বোন, আপনি তো একটা মুনাফিক। আপনি হিজাব পরেন না, আবার নামাজ পড়েন। তাকে বলুন, ‘’ ধন্যবাদ বোন। আমি একটা মুনাফিক। আল্লাহ আপনাকে উত্তম পুরস্কার দান করুন। কিন্তু আমার নামাজ হলো আমার এবং আল্লাহর মাঝে। এটা অন্য কারো বিজনেস না।

কোরআন ও মাথা ছুঁয়ে শপথ কিন্তু জানেন কি, ইসলাম কি বলে?

দেখা যায়, অনেকেই কোরআন ছুঁয়ে, মাথা ছুঁয়ে, মাজার বা পীরের নামে শপথ করে। কিন্তু জানেন কি ইসলাম কি বলে? ইসলামী বিধান মতে, তা শিরক ও সবচেয়ে বড় গুনাহ। হাদিস শরিফে আছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করে, সে অবশ্যই কুফরি বা শিরক করল।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ১৫৩৫)

শপথ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামে করতে হয়। কিন্তু কোরআন স্পর্শ করে যদি কেউ শপথ করে, তাহলে সে শপথও রক্ষা করতে হবে। কেননা কোরআন আল্লাহর কালাম। এটি রাব্বুল আলামিনের কথা। তাই এটিও এক ধরনের কসম।

এই ধরনের কসম করলে অবশ্যই তা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কালাম হওয়ার কারণে কোরআনের মর্যাদা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করার সুযোগ নেই। আল্লাহর নামে কসম করলে যেমন তার মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি, তেমনি কোরআন ছুঁয়ে শপথ করলে এর মর্যাদা কোনোভাবে ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

কোনো ব্যক্তি আল্লাহর নামে করা শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারাস্বরূপ তিনটি কাজের মধ্যে যেকোনো একটি কাজ করতে হবে।

এক. ১০ জন দরিদ্রকে মধ্যম শ্রেণির খাদ্য সকাল-বিকাল দুই বেলা খাওয়াতে হবে। এটি অর্থমূল্যে দিতে চাইলে প্রত্যেককে পৌনে দুই সের গম বা তার অর্থমূল্য দিতে হবে।

দুই. ১০ জন দরিদ্রকে ন্যূনতম ‘সতর ঢাকা’ পরিমাণ পোশাক-পরিচ্ছদ দান করতে হবে।

তিন. ক্রীতদাস থাকলে একজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দিতে হবে। কেউ যদি এ আর্থিক কাফফারা দিতে সমর্থ্য না হয়, তার জন্য কাফফারা হলো তিনটি রোজা রাখা। হানাফি মাজহাব মতে, ওই রোজা উপর্যুপরি ও ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে।

কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করে, তাহলে তার কাফফারা হলো কালেমা ত্বাইয়েবা ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি শপথ করতে গিয়ে লাত ও উজজার (আরবের মূর্তির) নামে শপথ করে বসে, সে যেন বলে, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত, হাদিস : ৩৪০৯)

স্মরণ রাখতে হবে, অহেতুক শপথ করা ইসলাম সমর্থন করে না। আবার শপথ ভঙ্গ করাও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

আপনার মতামত