আন্তর্জাতিক

আরব বিশ্বের দিকে ঝুঁকছে ইসরায়েল?

আরব বিশ্বের দিকে – সাম্প্রতিক সময়ে দু’টি ছবি আরববিশ্বের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়েছে। এর একটি হচ্ছে, ওমানের সুলতান কাবুস ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তাঁর প্রাসাদে স্বাগত জানাচ্ছেন। অন্যটি হলো, ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রী মিরি রেগেভ আমিরাতের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ জায়েদ মসজিদ পরিদর্শন করছেন। ছবি দু’টি অনেককেই অবাক করেছে।

অক্টোবরের শেষ নাগাদ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওমান সফর করেন। গত দুই দশকের মধ্যে প্রথম ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপসাগরীয় কোন দেশ সফর করলেন তিনি। অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ `শেখ জায়েদ বিন সুলতান` পরিদর্শন করেছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রী মিরি রেগেভ। প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পরে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আবুধাবির ওই মসজিদ পরিদর্শন করেন। ইসরায়েলি বাহিনী যখন প্রায় প্রতিদিনই ফিলিস্তিনি মুসলিমদের নির্মমভাবে হত্যা করছে ঠিক তখন মুসলিম দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে নেতানিয়াহু ও রেগেভের সফর নিয়ে সমালোচনা করছেন অনেকেই।

বর্তমানে মাত্র দু’টি আরব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে ইসরায়েলের। এর একটি হলো মিসর, অন্যটি জর্ডান। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েল সম্পর্ক জোরদার করছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ইসরায়েলেরও শত্রু দেশ ইরান। বলা চলে, ইরানের সঙ্গে বৈরিতাই এই তিনটি দেশের সম্পর্ককে গভীর করছে। ইসরায়েলের মতো সৌদি ও আমিরাতও ফিলিস্তিন ইস্যুকে এড়িয়েই যাচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ওমান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ক্ষোভের মুখে পড়েছে। নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানানোয় সেই ক্ষোভ কিছুটা হলেও ম্লান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মাসকট কাজ করবে বলে ধারনা করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা। এর আগে, বারাক ওবামা মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছিল মাসকট।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সফরের উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, এটা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একজন ইসরায়েলি কূটনীতিক বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই ইসরায়েল বহু দেশের সঙ্গে গোপনে সম্পর্ক রেখে চলে। যখনই সেটা প্রকাশ্যে এসেছে তখনই সমস্যা তৈরি হয়েছে। একারণে প্রথাগতভাবেই ইসরায়েল বেশ কিছু দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় গোপন রাখে। ওমান সফরের মাধ্যমে নেতানিয়াহু গোপন একটি সম্পর্ককেই প্রকাশ্যে আনলেন। তবে এর পেছনে তাঁর কী উদ্দেশ্য কাজ করেছে সেটাই দেখার বিষয়।

দি ইকোনমিস্ট অবলম্বনে

আপনার মতামত