সংবাদ | বিনোদন | সারাক্ষন

এক গ্লাস পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলেই রোগ বলবে পালাই পালাই!

এক গ্লাস পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলেই রোগ বলবে পালাই পালাই!- প্রতিদিন যদি এক গ্লাস পানিতে এক বা দু চামচ মধু মিশিয়ে খাওয়া যায়, তাহলে শরীরটাকে নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না। সেই সঙ্গে নানাবিধ রোগ থেকেও বেঁচে থাকা সম্ভব হয়। কী কী কাজে আসে এই মিশ্রনটি?

১. আর ভুগতে হবে না বদ-হজমেঃ

প্রতিদিন সকালে উঠে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে বদ-হজম বা গ্যাস-অম্বলের সমস্যা মাথা তোলার সুযোগই পায় না।

সেই সঙ্গে মধুতে থাকা একাধিক পুষ্টিকর উপাদান অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই আপনাকে যদি মাঝেমধ্যে বাইরের খাবার খেয়ে ক্ষিদে মেটাতে হয়ে, তাহলে আজ থেকেই পানি এবং মধুকে সঙ্গী বানান। দেখবেন কোনও ধরনের পেটের রোগ আপনাকে ছুঁতেও পারবে না।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করেঃ

বাড়ির বাইরে থাকলে মায়ের হাতের খাবার জোটে না। ফলে এদিক-সেদিক করে দিনযাপন করতে হয়। ফলে ঠিক মতো খাবার না পাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে শুরু করে। আর একবার যদি শরীরের এই রোগপ্রতিরোধী দেওয়াল ভেঙে যায়, তাহলে আর রক্ষা নেই।

তখন হাজারো রোগ শরীরে এসে বাসা বাঁধার সুযোগ পেয়ে যায়। তাই দেহের রোগপ্রতিরোধ সিস্টেমকে চাঙ্গা রাখাটা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজটি করবেন কিভাবে? খুব সহজ! প্রতিদিন মধু এবং হালকা গরম পানি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন রোগের ভোগান্তি আর পোয়াতে হবে না।

মধুতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট শরীরের অন্দরে খারাপ ব্যাকটেরিয়াদের বাঁচতে দেয় না। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই চাঙ্গা করে তোলে যে অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণুও শরীরের ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

প্রসঙ্গত, জেনারেল মাইক্রোবায়োলজিস স্পিং কনফারেন্সে মধুর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা চালাকালীন চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন মধুতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের খতম করে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩. অ্যালার্জির প্রকোপ কমায়ঃ

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এক গ্লাস গরম জলে মধু মিশিয়ে পান করলে আমাদের আশেপাশে ঘুরে বেড়ানো পলেন বা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারি উপাদানগুলি সেভাবে আমাদের উপর কোনও প্রভাব ফেলতে পারে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অ্যালার্জির প্রভাব কমতে শুরু করে।

৪. শক্তির ঘাটতি দূর হয়ঃ

ঠিক মতো খাবার না খাওয়ার কারণে প্রথমেই যে ক্ষতিটা হয়, তা হল শরীরের শক্তি কমতে শুরু করে। ফলে কাজে মন বসতে চায় না। সেই সঙ্গে সারাক্ষণই কেমন যেন ক্লান্তি বোধ ঘিরে থাকে। এমন পরিস্থিতে পানি-মধুর যুগোলবন্দী দারুন কাজে আসতে পারে।

কারণ একদিকে পানি দেহের অন্দরে পানির ঘাটতি দূর করে শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে। অন্যদিকে, মধু দেহে কার্বোহাইড্রেটের যোগান ঠিক রাখার মধ্য দিয়ে শক্তির ঘাটতি দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. গলার ব্যথা এবং সর্দির প্রকোপ কমায়ঃ

হঠাৎ ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার কারণে গলায় ব্যথা। সেই সঙ্গে হাঁচি-কাশি? এক গ্লাস গরম পানিতে কয়েক চামচ মধু মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। প্রসঙ্গত, বুকে সর্দি জমে থাকার মতো সমস্যা কমাতেও মধু এবং পানির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৬. ওজন কমায়ঃ

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানি, সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন অল্প দিনেই অতিরিক্ত মেদ কমে যাবে।

৭. শরীরে জমে থাকা বিষ বেরিয়ে যায়ঃ

খাবারের সঙ্গে তো বটেই, আরও নানাভাবে একাধিক ক্ষতিকর উপাদান আমাদের শরীরে এবং রক্তে প্রতিনিয়ত মিশে চলেছে। এই সব টক্সিক উপাদানগুলিকে যদি শরীর থেকে বের না করা যায়, তাহলেই কিন্তু বিপদ!

আর এক্ষেত্রে আপনাকে দারুনভাবে সাহায্য করতে পারে পানি এবং মধু। কিভাবে? এই পানীয়টি খাওয়ার পর পরই প্রস্রাবের হার বেড়ে যাবে। ফলে কিডনি প্রস্রাবের মধ্য দিয়ে শরীরে উপস্থিত এইসব টক্সিক উপাদানদের বের করে দিতে পারবে। এবং কমবে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা।

৮. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়ঃ

নিয়মিত মধু এবং পানি মিশিয়ে খেলে শরীরে ভাল কোলেস্টরলের মাত্রা বাড়ে। যা হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি শরীরকেও নানাবিধ রোগ থেকে দূরে রাখবে।

একই রকম পোস্ট
Comments
লোড হচ্ছে...