হোম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এলন মাস্ক – বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার উদ্ভাবক

এলন মাস্ক – বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার উদ্ভাবক

এলন মাস্ক - বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার উদ্ভাবক

অদ্ভুত সব আইডিয়া! বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে নতুন সব ধারণা দিয়ে ব্যবসাসফল। বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার উদ্ভাবক। মহাকাশে যান পাঠানো নিয়েও ব্যবসা আছে তাঁর। এবার আলোচনায় এসেছেন মাটির নিচে গাড়ি চলাচলের নতুন ধারণা দিয়ে। এলন মাস্ককে নিয়ে লিখেছেন মিজানুর রহমান

পৃথিবী পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। বাস্তবে তা করতে পারেন কয়জন? তবে ব্যতিক্রমী এলন মাস্ক। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি পাল্টে দিয়েছেন পৃথিবীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। মহাকাশযান, ইলেকট্রিক গাড়ি ও অনলাইন ট্রানসেকশন—এই তিন ইন্ডাস্ট্রিকে আমূল বদলে দেওয়া স্বপ্নবাজ মানুষটির সবচেয়ে বড় স্বপ্ন একদিন মঙ্গলে হবে তাঁর বসতি। মঙ্গলে কোনো এক ঘরে এক কাপ কফি খেতে খেতে মৃত্যু হবে তাঁর। এমনই পাগলাটে তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন পৃথিবীকে জলবায়ু পরিবর্তনের হাত থেকে রক্ষা করতে। উদ্ভাবনী ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মানুষকে অসম্ভব সব স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। শুধু স্বপ্ন দেখিয়েই থেমে থাকছেন না, বাস্তবে রূপ দিতে নিজের সর্বস্ব বাজি রাখতেও পিছপা নন।

ধরা যাক টেসলা মোটরসের কথাই। পৃথিবীর প্রায় সব গাড়ি নির্মাতাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন—‘ইলেকট্রিক গাড়ি বাস্তবসম্মত ধারণা নয়। একটি গাড়ি চালানোর মতো ব্যাটারি এখনো শক্তিশালী হয়নি। ’ অথচ একই সময়ে মাস্ক টেসলাতে বিনিয়োগ করছিলেন কোটি কোটি ডলার।

নিজের প্রতি এই অগাধ বিশ্বাসই এলন মাস্কের জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবল বর্ণবাদী সংঘাতের সময় কানাডায় পাড়ি জমান ভালো শিক্ষার আসায়। সেখান থেকে কলেজ শেষ করে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বৃত্তি পান। এখানে এসেই পরিবর্তন হয়ে যায় মাস্কের জীবন। ইন্টারনেট তখন রমরমা। ইন্টারনেটের পূর্ণ সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এলন মাস্ক কাজ শুরু করেন। মাত্র দুই দিনের মাথায় স্ট্যানফোর্ডে গবেষণার কাজকে স্থগিত করে ভাই কিম্বাল মাস্ককে নিয়ে ১৯৯৫ সালে শুরু করে দিলেন জিপ টু নামের একটি কম্পানি। আজ আমরা যে অনলাইন সিটি গাইড দেখি তার শুরু সেখানেই।

পরে কম্প্যাক এই জিপ টুকে কিনে নেয় নগদ ৩০৭ মিলিয়ন ডলার ও ৩৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের শেয়ারের বিনিময়ে। এরপর এলন মাস্ক মানুষের প্রথাগত লেনদেনের পদ্ধতি ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সেই অনুভব থেকে তিনি পেপ্যালকে সহপ্রতিষ্ঠা করেন। পেপ্যালের মালিকানা ছেড়ে পান ১৬ কোটি ডলারের মতো।

তাঁর মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমস্যা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। শুধু এটিই মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আসন্ন বিপর্যয় থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পরিবর্তন করতে হবে এ অভ্যাস। আর এ তাগিদ থেকে তিনি তিনটি স্বপ্ন দেখেন।

এক. নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চলবে বাড়ি। দুই. যানবাহন চলবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে তৈরি বিদ্যুৎ থেকে। তিন. মানুষকে অন্য গ্রহে স্থানান্তর করতে হবে। আর এই তিন স্বপ্ন বাস্তব করতে প্রতিষ্ঠা করেন তিন প্রতিষ্ঠান।

সোলার সিটি

২০০৬ সালে এলন মাস্কের প্রতিষ্ঠিত এ কম্পানির মূল লক্ষ্য বিশ্বের সব বাড়িকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে চালানো। এলন এমন কিছু সোলার প্যানেলযুক্ত টাইলস উদ্ভাবন করেন, যা দিয়ে বাড়ির ছাদ তৈরি করা যাবে। এতে খরচ বাড়বে না একটুও, উল্টো ছাদ থেকে আসবে বিদ্যুৎ। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোলার সেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সোলার সিটি।

টেসলা মোটরস

২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত টেসলা মোটরসের সঙ্গে মাস্ক নিজের সম্পৃক্ততা বজায় রাখেন। তিনি এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। শুরুতে শুধু বিনিয়োগ করেই যুক্ত ছিলেন। তবে ভালো চলছে না দেখে ২০১৪ সালে প্রধান নির্বাহী পদটিও নেন। এর পর থেকেই বদলে যেতে থাকে টেসলার অবস্থা! তাঁর উদ্যোগেই টেসলা থেকে ‘মডেল এক্স’ গাড়িটি বাজারে আসে। প্রচলিত গাড়ির থেকেও এর দাম ও জ্বালানি খরচ অনেক কম।

স্পেস এক্স

মাস্ক বিশ্বাস করেন, মহাকাশ ভ্রমণের খরচ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে লাখ ডলারে নামিয়ে আনা সম্ভব। এ বিশ্বাসকে বাস্তব রূপ দিতে ২০০২ সালে শুরু করেন বেসরকারি মহাকাশযান কম্পানি স্পেস এক্স। তখনো মহাকাশ নিয়ে ব্যবসার কথা ভাবেননি কেউ। স্পেস এক্স এমন এক উপায় উদ্ভাবন করে, যাতে এক রকেট ব্যবহার করা যাবে বারবার। আর এতেই মহাকাশে যাওয়ার খরচ কমে যায় ৮০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাও এখন স্পেস এক্সের সেবা নিচ্ছে!

ট্রাফিক জ্যামের সমস্যা সমাধান

বিশ্বের অন্যতম বড় সমস্যা ট্রাফিক জ্যাম। আর এটি সমাধান করতে এলন মাস্ক দুটি প্রকল্প পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। একটি হাইপারলুপ, অন্যটি আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রাফিক সিস্টেম।

হাইপারলুপ : বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষ যাবে কয়েক ঘণ্টায়! এ স্বপ্ন বাস্তব করতে ‘হাইপারলুপ’ প্রকল্পে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছেন তিনি। এ ব্যবস্থায় যান চলবে হাজার মাইল বেগে।

আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রাফিক সিস্টেম : এটি একটি টানেল সিস্টেম। এটি প্রচলিত আন্ডারগ্রাউন্ড রোড থেকে আলাদা। এখানে যেকোনো ওপরের রাস্তা থেকে একটি লিফটের মতো যন্ত্রের সাহায্যে মাটির নিচে চলে যাবে, যেখানে আলাদা একটি ম্যাগনেটিক লাইনের মাধ্যমে গাড়িটি ২০০ কিলোমিটার বেগে গন্তব্যের দিকে ছুটে যাবে।

মঙ্গলে হবে মানুষের বসতি

এলন মাস্কের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—একদিন মঙ্গলে মানুষের বসতি হবে। আর জীবদ্দশায়ই তা দেখে যেতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। তাঁর মৃত্যু যেন মঙ্গলে হয়—এমনই চাওয়া মাস্কের। তাঁর মতে, দুই মেরুতে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বায়ুমণ্ডল উষ্ণ করা গেলে মানুষ বসবাস করতে পারবে মঙ্গলে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...