সংবাদ | বিনোদন | সারাক্ষন

ফলের নামে এসব কী খাচ্ছি আমরা

ফলের নামে এসব কী খাচ্ছি আমরা- এটা নিঃসন্দেহ যে এই তরমুজের মাঝে রাসায়নিক দেয়া। রাসায়নিক দিয়ে জিনিসটা পচনের হাত থেকে দীর্ঘদিন যাবত বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে,সবসময়ে অন্যের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিচার লেখা হয়।

কিন্তু এই মুহূর্তে যা লিখছি, সেটা আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাই। এবং আজ সকালেই ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতা।

সত্যি বলতে কি, খাবার ফরমালিন দেয় বা খারাপ রাসায়নিক দেয়, এটা আমরা সবাই জানি। অনেকেই হয়তো জেনেও পাত্তা দিই না। কিংবা মনে করি সবকিছু বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলছে।

কিন্তু জিনিসটা যখন চোখের সামনে এভাবে হাতে নাতে ধরা পড়ে যায়, তখন ভয়ে হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। বিশ্বাস করুন, ঘটনাটা ঘটার পর আমার মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল একটা স্রোত নেমে গেছে ভয়ের।

আমি খুব আতংকিত হয়ে ভাবছিলাম- ” প্রতিদিন স্বামী-সন্তানকে আমরা খাবারের নামে এই বিষ খাওয়াই? নিজে খাই? “গতকালকের কথা। সন্ধ্যায় আমি ও আমার বর পাড়ার মোড়ের ফলের দোকান থেকে একটা তরমুজ কিনি।

ছোট্ট সবুজ রঙের তরমুজ, ১৪০ টাকা দাম। সবসময়েই লোকটাকে তরমুজ নিয়ে বসতে দেখি, মানুষজন কিনে নিয়ে যায়, আমাদের কখনো খাওয়া হয়ে ওঠেনি।

দোকানদার বারবার বলল যে “থাই তরমুজ”, অনেক অনেক মজা, এখন এটাই চলছে। এখানে বলে রাখি, ফরমালিনের ভয়ে বেশ কিছুদিন হলো বেশীরভাগ ফল-সবজি খাওয়া বাদ দিয়েছি আমরা।

আর ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ ইত্যাদির জন্য বারান্দাতেই টুকটাক গাছ লাগিয়ে নিয়েছি। বেশ অনেকদিন পরই বাজারের দোকান থেকে কিছু কেনা হলো।যাই হোক, তরমুজটা গতকাল আর খাওয়া হয়নি। ডাইনিং টেবিলের ওপরে রেখে দিয়েছি। যে পলিথিনে দিয়েছে, সেটার মুখটা খুলে রেখেছি।

সকালে যখন চা বানাচ্ছি, দেখি তরমুজ থেকে ফেনা বের হচ্ছে! কোথা থেকে ফেনা বের হচ্ছে বুঝতে পারলাম না।

ভালো করে তাকিয়ে দেখি পলিথিনটার ভেতরে ডিমের লালার মত দেখতে একটা জিনিস জমে গেছে। প্রচণ্ড দুর্গন্ধ। জিনিসটা ধরতে পানির মত, দেখতে ডিমের লালার মত। আর তরমুজের গায়ে ফেনাটা সাবানের ফেনার মত দেখতে!সাথে সাথে ছবি তুলে ফেললাম।

তারপর রান্নাঘরের সিংকে নিয়ে গেলাম কাটার জন্য। আমি ভেবেছিলাম ভেতরে মনে হয় পচে-গলে শেষ, এই জন্য এমন দুর্গন্ধ ওয়ালা পানি বের হচ্ছে। কিন্তু তরমুজ দুইভাগ করতেই আবারও অবাক হবার পালা। তরমুজ ভেতরে টকটকে লাল!

হ্যাঁ, তরমুজটা ভেতরে টকটকে লাল এবং রিতীমত কচকচে, টাটকা তরমুজের মত। পচে যাবার কোন রকমের লক্ষণ নেই! নাকের কাছে নিলে একটা চাপা ভ্যাপসা দুর্গন্ধ ভক করে নাকে এসে লাগে। কিন্তু বাইরে থেকে দেখে কিচ্ছু বোঝার উপায় নেই। এমনই সুন্দর ও টাটকা দেখতে!

এটা নিঃসন্দেহ যে এই তরমুজের মাঝে রাসায়নিক দেয়া। রাসায়নিক দিয়ে জিনিসটা পচনের হাত থেকে দীর্ঘদিন যাবত বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে, এই জন্যই এই অবস্থা। জিনিসটা থাই তরমুজ হোক বা বাংলাদেশি, প্রশ্ন একটাই- এই জিনিস বাজারে বিক্রি হয় কীভাবে!

জানি এই প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। যে দেশে একটা ছোট্ট শিশুকে ধর্ষণের পর বীভৎস ভাবে হত্যা করলেও কোন বিচার মেলে না, সেই দেশে খাবারের স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে ভাবাটা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

কিন্তু তবুও ভাবতে বাধ্য হই…

কারণ প্রতিদিন আপনার-আমার মত অসংখ্য মানুষ নিজের হাতেই এসব বিষ খাওয়াচ্ছি আমাদের পরিবার ও আপনজনেদের। আমি অসহায় বোধ করি। তীব্র তীব্র তীব্র অসহায়।

একই রকম পোস্ট
Comments
লোড হচ্ছে...