পরামর্শ

জেনে নিন কম খরচে ঢাকায় শপিং করার জনপ্রিয় কয়েকটি স্থান

কম খরচে ঢাকায় শপিং- কম খরচে ঢাকায় শপিং করার বেশ কিছু স্থান রয়েছে । ছোট- বড় আমরা সবাই শপিং করতে অনেক ভালবাসি আর সেটা যদি করা যায় সাদ্ধ্যের মধ্যেই তাহলেতো কোন কথাই নেই । আজ জেনে নেব আমরা ঢাকার কোথায় কোথায় কম দামে জিনিস কেনা যায় ।

নানা রকমের পোশাক, কসমেটিক্স, প্রয়োজনীয় জিনিস, অন্য দিকে লোভনীয় খাবার ইত্যাদির জন্য মানুষ এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় ছুটে বেড়ায়। ঢাকাতে রাস্তায় ঘুরে শপিং করার মজাই আলাদা।

পকেটের চিন্তা না করেই যেখানে শপিং করে, খেয়ে মজা সে শহরের নাম অবশ্যই ঢাকা। নামী-দামী শপিংমলের এসির হাওয়া খেয়ে চোখ কপালে ওঠা দামকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে ঢাকার এই সব মার্কেটের রমরমা ব্যবসা। জেনে নিন ঢাকা শহরের এমনই কয়েকটি মার্কেটের ঠিকানা।

নিউ মার্কেট:

দোকান হোক বা ফুটপাথ কমদামে জিনিসপত্র কেনার জন্য নিউ মার্কেটের জুড়ি নেই । এখানে শাড়ি থেকে শুরু করে বাচ্চাদের পোশাকসহ সব ধরণের পোশাক পাবেন কম দামে, তবে এরা তাদের ক্রেতাদের কাছে চড়া মূল্য হাকিয়ে থাকেন তাই আপনাকে একটু দর-দাম করে নিতে হবে । তাছাড়াও এখানে প্রসাধনী, জুতা, বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র, ব্যাগ, ঘরের পর্দা, বেডসীট ইত্যাদি অনেক কম দামে পাওয়া যায় ।

চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট ঃ

নিউ মার্কেটের পাশেই চন্দ্রিমা মার্কেটটি অবস্থিত । এখানে আপনি সব ধরনের ঘরোয়া জিনিস কম দামে কিনতে পারবেন। অল্পের মধ্যেই ঘর সাজাতে চাইলে আজই চলে যান চন্দ্রিমা মার্কেটে ।

মনের মত শপিং করতেও পারবেন সাথে আপনার পকেটের প্রশান্তিটাও বজায় থাকবে । এই মার্কেটে আপনি সোফার কভার থেকে শুরু করে ঘরের পর্দা, বেডসীট, ফুলদানী, ওয়ালমেট, জুতা, ট্রাভেল ব্যাগ, ছেলেদের শার্ট, প্যান্ট ৫০০-৮০০ এর মধ্যে ভাল মানের পাওয়া যাবে ।

আর ভাল মানের টি-শার্ট ও গেঞ্জি পাওয়া যাবে ২০০-২৫০ এর মধ্যে । এছাড়াও ছেলেদের সব ধরণের পোশাক এই মার্কেটে পাওয়া যায় ।

ইসলামপুর :

ইসলামপুর পাইকারি বাজারের জন্য খুবই ভাল । একসাথে পরিবারের জন্য অনেক কিছু কিনতে চাইলে চলে যান ইসলামপুর । এখানে একসাথে ৩/৪ টি ড্রেস কিনলে অচিন্তনীয় কম মুল্যে আপনি পোশাক কিনতে পারবেন । তাছাড়া খুচরা বেচাকেনাও এখানে হয়ে থাকে ।

গাউছিয়া মার্কেট:

গাউছিয়া মার্কেটের ফুটপাত ঘিরে রয়েছে টি শার্ট, মেয়েদের ট্রাউজার, অন্যান্য পোশাক ও স্যান্ডেলের বিশাল বাজার। সব বয়সের মেয়েদের কাছে এই স্যান্ডেলের বাজার বেশ জনপ্রিয়। যে কোনো ধরনের স্যান্ডেল পাওয়া যায় এখানে।

দাম পড়বে ১৫০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। এসব ফুটপাতে নিম্ন আয়ের মানুষরাই শুধু শপিং করেন তা নয়, বিত্তবানরাও করেন। খুচরা এবং পাইকারি সব ধরণের কেনা বেচাই হয়ে থাকে এখানে । মেয়েদের পোশাকের জন্যও এই মার্কেট অধিক জনপ্রিয়।

চাঁদনী চক শপিং কমপ্লেক্স ঃ

এখানে বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি থেকে শুরু করে প্রসাধনী পণ্য যেমন- মালা, দুল, চুড়ি, আংটি, পায়েল, নুপুর, লেডিস বেগ, লেডিস জুতা, থ্রি পিস, টু পিস, বয়স বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের ওড়না, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, ছোটদের পোশাক কম দামে পাওয়া যায় । বিশেষ করে ছুটির দিনে এই মার্কেটে তাই অত্যন্ত ভিড় করে মানুষ ।

মৌচাক মার্কেট:

মেয়েদের ওয়ানপিস জামা, শিশুদের পোশাক, শার্ট, টি শার্ট, স্যান্ডেল, ছাতা, ব্যাগ, প্রসাধনী সামগ্রী ও আরো অনেক ধরনের পণ্য অনেক সস্তায় পাওয়া যায় এখানে। মৌচাক মার্কেটে এজন্য ভিড় লেগেই থাকে । একটু দেখে-শুনে দরদাম করে কিনতে পারলে কম দামে ভাল পণ্য কিনতে পারবেন ।

হকার্স মার্কেট:

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ফুটপাতে ল্যাগিন্স, জ্যাগিন্স, মেয়েদের ওয়ানপিস জামা, শিশুদের পোশাক অনেক সস্তায় পাওয়া যায়। যা বড় কোনো ব্র্যান্ডের শোরুমে কয়েকগুণ বেশি দাম পড়বে। একটু দেখে-শুনে দরদাম করে কিনতে পারলে ভালোমানের পণ্য পাওয়া যায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে। ফুটপাতের অনেক দোকানেও আবার ‘একদর’ লেখা থাকে।

আজিজ সুপার মার্কেট ঃ

সাভারের আজিজ সুপার মার্কেট দেশীয় পণ্যের সমাহার নিয়ে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে । দেশীয় ছোট – বড় সব ধরণের বুটিক হাউসের পণ্য এখানে আপনি খুজে পাবেন।

বিশেষত ছেলেদের পাঞ্জাবী, টি-শার্ট, ফতুয়া, মেয়েদের শাড়ি, জামা, থ্রি-পিস, ব্যাগ ইত্যাদি পাওয়া যায় ।

এছাড়াও মিরপুর, মতিঝিল ও গুলিস্তান ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছেলেদের শার্ট, গেঞ্জি, টি-শার্ট,প্যান্টের কাপড় পাওয়া যায় ভালো ও অনেক বেশি পরিমাণে। তবে ছেলেদের জুতা, স্যান্ডেল ও চামড়ার বেল্ট পাওয়া যায় গুলিস্তানে বেশি। মতিঝিল, গুলিস্তানের ফুটপাতের দোকানগুলোতে তরুণদের শার্ট পাওয়া যায় নানা চেক ও ডিজাইনের। কম দামে এসব

শার্ট দেখলেই কিনতে ইচ্ছে করবে। জায়গা ভেদে এসব শার্টের দাম পড়বে ২০০-৫৫০ টাকায়। টি শার্টের দাম পড়বে ৩০- ৪০০ টাকায়। জিন্স প্যান্টের দাম পড়বে ২০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

কোথাও আছে কোথাও নেই : গ্যাস সংকট কাটেনি এখনও

রাজধানীতে গ্যাসের সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কোনো এলাকার লাইনে গ্যাস আছে আবার কোথাও নেই। যেসব এলাকার লাইনে গ্যাস আছে সেগুলোতে গ্যাসের চাপ অনেক কম। ফলে রান্নাবান্নায় সময় বেশি লাগছে। তবে গত দুই-তিনদিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার গ্যাসের সরবরাহ বেশি রয়েছে।

শীতকাল জেঁকে বসার আগেই গ্যাসের সংকটে নগরবাসী আতঙ্কিত। লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের মাধ্যমে রান্নাবান্নার কাজ সারতে বাধ্য হচ্ছেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আরমানুর রেজা ভুঁইয়ার দাবি গত শনিবার (৩ নভেম্বর) থেকে তিতাস গ্যাসের যে সংকট চলছিল তা এখন নেই।

তিনি বলেন, রাজধানীতে তিতাস গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ঘোড়াশাল সার কারখানায় গ্যাসচালিত বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সরবরাহ প্রায় আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে।

জানা গেছে, রাজধানীতে তিতাস গ্যাসের মোট চাহিদা ২০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিছুদিন আগে পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ পাওয়া গেলেও বর্তমানে সরবরাহ রয়েছে দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

সূত্র জানায়, গত শনিবার চট্টগ্রামের মহেশখালীতে রুপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) প্ল্যান্ট যন্ত্রাংশে মারাত্মক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড পেট্রোবাংলার একটি প্রতিষ্ঠান। একইভাবে আরপিজিসিএলও একটি প্রতিষ্ঠান। আরপিজিসিএল থেকে গ্যাস রুপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়। আরপিজিসিএলে সমস্যার কারণে তিতাস গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি চলছে।

রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা আশফাকুর রহমান জানান, গত কয়েকদিন যাবত লাইনে গ্যাস না থাকায় দিনের বেলায় চুলা জ্বলছে না। রান্না করা গরম গরম খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হলেও এখন রাতের রান্না করা খাবার তিনবেলা খেতে হয়।

কলাবাগানের গৃহবধূ আসমা খাতুন জানান, একই মহল্লার বাসাবাড়ির কোথাও গ্যাস থাকে কোথাও থাকে না। বিশেষ পদ্ধতিতে নাকি গ্যাস সংগ্রহ করা হয় বলে তিনি শুনেছেন। লাইনে গ্যাস না থাকায় সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্না করছেন বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত