চিত্র বিচিত্র

জানেন, কেন সবুজ বা নীল রং ব্যবহার করা হয় অপারেশন থিয়েটারে?

কেন সবুজ বা নীল রং- সজ্ঞানে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকেছেন কখনও? অনেকেই এই প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তরে দিবেন। তবে যাদের উত্তর নেতিবাচক হবে, তারা বিভিন্ন ডেইলি সোপ বা চলচ্চিত্রের দৌলতে অপারেশন থিয়েটার ভেতরের চেহারা বা পরিবেশ সম্পর্কে অবগত।

অপারেশন থিয়েটার মানেই মাথার উপর ছাদ থেকে ঝুলে থাকা বড় বড় উজ্জ্বল আলো, অপারেশন টেবিলের পাশে রোগীর মাথার কাছে কয়েকটা বড় মেশিন, মনিটর আর সবুজ বা নীল পোশাক পরা একদল চিকিৎসক।

সবুজ বা নীল পোশাক মানে, একেবারে মাথার সার্জিক্যাল ক্যাপ, মুখের মাস্ক থেকে শুরু করে গায়ে চড়ানো অ্যাপ্রন পর্যন্ত সবই এক রঙের।

এমনকি রোগীর বিছানার বা গায়ে দেওয়া চাদর, সবই হয় সবুজ নয়তো নীল রঙের। কিন্তু জানেন, কেন অপারেশন থিয়েটারের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে নীল বা সবুজ রং? কখনও ভেবে দেখে কেন সবুজ বা নীল রংই ব্যবহার করা হয় অপারেশন থিয়েটারে?

এই রং বাছার নেপথ্যে রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবুজ রং চোখের জন্য উপকারী, নীল রং চোখের পক্ষে আরামদায়ক। আর লাল রং চোখের জন্য ক্ষতিকর।

অপারেশন থিয়েটার মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটা-ছেড়া আর রক্ত। দীর্ঘ ক্ষণ একটানা লাল রক্ত দেখতে দেখতে অপারেশন থিয়েটারে থাকা চিকিৎসক-নার্সদের চোখ ধাঁধিয়ে যায়, সব জায়গাতেই লালচে ছোপ দেখেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জন্য দায়ী অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টি ভ্রম। এই দৃষ্টি ভ্রমের ফলে অস্ত্রোপচার চালিয়ে যেতে অসুবিধা হয়। তখন চারপাশের ও পোশাকের সবুজ বা নীল রং চোখকে আরাম দেয়। আর অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টি ভ্রমের প্রভাব প্রশমিত করে।

কিন্তু কেন লাল রং থেকেই অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টি ভ্রম তৈরি হয়, সবুজ বা নীল রং থেকে হয় না কেন? বিশ্বের তাবড় চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের চোখের কোষ প্রধানত তিন রকম রঙের হয়, লাল, সবুজ ও নীল। চোখের এই রঙিন কোষের সংখ্যা প্রায় ৬০-৭০ লক্ষ যার মধ্যে ৪৫ শতাংশই সবুজ রঙের।

তাই সবুজ রং মানুষের চোখের পক্ষে আরামদায়ক। লাল রঙের কোষের সংখ্যা সবচেয়ে কম থাকায় এই রং একটানা চোখের সামনে থাকলে অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টি ভ্রমের মতো সমস্যা তৈরি হয়।

ঘুমাবার আগে আপনার স্ত্রী সাথে এই ৫ টি কাজ করুন, তাহলে…

ঘুমাবার আগে আপনার স্ত্রী সাথে- বিয়ে করা আর সেই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখা কোন রকমের সহজ কাজ না । বিয়ের পর স্বামী আর স্ত্রীকে অনেক রকমের নিজের স্বাধ ইচ্ছে কে বলিদান দিতে হয়ে থাকে ।

আর মাঝে মাঝে এই সম্পর্কে কিছু ছোটো ভুল সেটিকে অনেক বড় জায়গায় আপনাদের সম্পর্ককে নিয়ে যেতে পারে । আর আপনার ছোটো একটি ভুল আপনার বিবাহিত জীবনকে নরক করে দিতে পারে ।

আপনারা দেখেছন অনেক মেয়ে বিয়ের পর নিজেকে তাঁর স্বামীর সাথে ঠিক ভাবে মানিয়ে নিতে পারেনা । আর এই সব সম্পর্ক ভাঙ্গার পেছনে শুধু ছেলেরা দায়ি না, তাঁর সাথে সমান ভাবে মেয়েরাও দায়ী ।

আর আপনি এই কথাটি শুনেছেন একটি হাতে কোন দিন তালি বাঝে না । আর বিয়ের পর যদি আপনার স্ত্রী আপনাকে ছেড়ে অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক রাখছে তাহলে সেটির জন্যে সব থেকে দায়ী আপনি ।

আর যদি আপনি আপনার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চান তাহলে আপনার সঙ্গির সাথে মাঝে মাঝে রোমান্স করুন । কারন দুজনের মনে মধ্যে ভালোবাসা রাখলে হয় না তাঁর মাঝে মাঝে রোমান্স করতে হয়ে থাকে সম্পর্কে ।

রোমান্স স্বামী আর স্ত্রী মধ্যে সমস্ত রকমের বিবাদের ধবংস করে দিয়ে থাকে । প্রত্যেক মেয়ে তাঁর নিজের জীবন সঙ্গিকে সবার থেকে বেশী ভালোবাসতে চেয়ে থাকে ।

আর সেই ভালোবাসা যদি সে না পেয়ে থাকে তাহলে সে অন্য পুরুষের দিকে বেশী আকর্ষিত হয়ে থাকে । আর ঘুমাবার আগে সারাদিনে যদি আপনি আপনার জীবন সঙ্গিকে একবার জড়িয়ে ধরেন তাহলে তাঁর এই সব ভুল গুলি কেটে যায় আর আপনাদের জীবন সুখের হয়ে উঠবে ।

প্রত্যেক মানুষ এর ভালোবাসা প্রকাশ করার পদ্ধতি আলাদা রকমের হয়ে থাকে । আর এর মধ্যে কিশ করা এমন একটি জিনিস যেটি দুজনের মধ্যে সমস্ত রকম মনের ভুল কাটিয়ে দিয়ে থাকে । আর শুধু পুরুষের মধ্যে না মহিলাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক করার একটি আলাদা রকমের চাহিদা থাকে ।

আর তাই সপ্তাহে এক বার তাঁর বেশী শারীরিক সম্পর্ক করুন । আর সব থেকে বড় ব্যাপার হল একে অন্যের প্রশংশা করুন তাহলে দেখবেন আপনাদের সম্পর্ক কোন দিন ভাঙ্গার জায়গায় আসবে না ।

অবিশ্বাস্য মনে হলেও মাথা ছাড়াই দেড় বছর বেঁচেছিল যে মুরগি!

মাথা ছাড়া কেউ কোনও দিন বাঁচতে পারে? কল্পবিজ্ঞানে তো এসব স্বাভাবিক ঘটনা, কিন্তু বাস্তবে? অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনটা দেখা গেছিল একটা মুরগির ক্ষেত্রে। একদিন, দু’দিন নয়, টানা আঠারো মাস বেঁচেছিল ছোট্ট প্রাণীটা, তা-ও আবার মাথা ছাড়া!

খাবার দোকানে মুরগি সাপ্লাই করতেন কলোরাডোর ফ্রুটা শহরের লয়েড ওলসেন ও তাঁর স্ত্রী ক্লারা। ১৯৪৫-এর সেপ্টেম্বরের এক সকালে প্রায় চল্লিশটি মুরগি কাটার পর তাঁদের নজর পড়ে, ধড় থেকে মাথা আলাদা হলেও একটি মুরগি টলতে টলতে হেঁটে-দৌড়াচ্ছে। মাথাহীন মুরগির মৃত্যুর অপেক্ষায় সেটিকে একটি বাক্সে রেখে দিয়ে ঘুমাতে যান দম্পতি।

পর দিন সকালে ঘুম ভেঙে তাঁরা যা দেখলেন, তাতে অবাক বললেও কম বলা হয়। সোনার ডিম না পাড়লেও এই মুরগির ‘ক্ষমতা’ যে তার চেয়ে কিছু কম নয়, তা বুঝতে দেরি করেননি ওলসেন। দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে ছোট্ট শহরে। টনক নড়ে সংবাদিকদের। দু’দিন আগেও যার পরিণতি লেখা ছিল খাবারের প্লেটে, রাতারাতি সে হয়ে যায় সেলেব্রিটি।

এক কথায়, অলৌকিক ভাবে নতুন জীবন পাওয়া মুরগির পোশাকি নাম হয় ‘মিরাক্‌ল মাইক’। মহার্ঘ পাখিটাকে দেখতে চার দিকে হইচই পড়ে যায়। সাধের মুরগিকে নিয়ে প্রদর্শনীর সুবাদেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখার স্বপ্ন সত্যি হয় লয়েডের।

কিন্তু মাথা ছাড়া কী ভাবে বেঁচে রইল মাইক? আমার-আপনার মতো এই প্রশ্ন জেগেছিল চিকিত্সক ও প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মনেও। কারণ, পরবর্তী সময় অনেকেই দ্বিতীয় মিরাক্‌ল মাইক বানাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তা হলে কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় বেঁচেছিল মাইক?

আসলে লয়েড যখন মাইকের মাথায় কোপ মারেন, তখন তার একটা কান বাদ দিয়ে চোখ, ঠোঁট-সহ গোটা মাথাটাই কেটে যায়। কিন্তু মুরগিদের মাথার পিছনেই থাকে মস্তিষ্কের মূল অংশটা। মাইকের ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনক ভাবে বেঁচে যায় তার মস্তিষ্কের ৮০ শতাংশ অংশই।

মাইকের মস্তিষ্কের এই অংশটাই তার শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদ্‌স্পন্দন, খিদে, হজম নিয়ন্ত্রণ করত। সময় মতো মাইকের ক্ষতর কাছে রক্তও জমাট বেঁধে গিয়েছিল, ফলে সে ভাবে রক্তক্ষরণও হয়নি।

মাথা না থাকায় একটি ড্রপারে করে তরল খাবার ও জল সরাসরি খাদ্যনালিতে ঢেলে দেওয়া হত। সিরিঞ্জ দিয়ে খাদ্যনালির চার দিকের ময়লা পরিষ্কার করে দিতেন লয়েড। এ ভাবেই সব চলছিল।

একবার পশ্চিম আমেরিকার ফিনিক্স শহরে প্রদর্শনীর শেষে একটি মোটেলে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন লয়েড দম্পতি ও মাইক। হঠাৎই একটা শব্দে দম্পতি চমকে ওঠেন। দম আটকে মাইকের প্রাণ তখন ওষ্ঠাগত। কিন্তু ওই যে সিরিঞ্জ, সেটি প্রদর্শনীতেই ফেলে এসেছিলেন লয়েডরা।

১৯৪৭ সালের মার্চ মাসের এই রাতে খাবার আটকে প্রাণ যায় মাইকের। আর পাঁচটা সুস্থ মুরগি যখন বড় হতেই রান্নার কড়াইতে জায়গা পায়, তখন মাথা হারিয়েও তাদের চেয়ে বেশি দিন বেঁচেছিল মাইক।

যদিও মারা গিয়েও বেঁচে ছিল মাইক। তার মনিব দীর্ঘ দিন তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যেই আনেননি। কেউ খোঁজ করলেই লয়েডরা বলতেন, বেচে দেওয়া হয়েছে মাইককে। এ ভাবেই মৃত্যুর পরেও বেঁচে ছিল মিরাক্‌ল মাইকের মিথ।

কলোরাডোর ফ্রুটা শহরে গেলে এখন মাথাহীন মুরগির স্ট্যাচুর দেখা মেলে। মাইকের স্মৃতিতে প্রতি বছর মে মাসে পালন হয় ‘হেডলেস চিকেন ফেস্টিভ্যাল’। আর লোকমুখে ঘুরে বেড়ায় এই আশ্চর্য মুরগির গল্প।

আপনার মতামত