ক্লান্ত থাকলে ভুলেও এই ৮ কাজ করবেন না

ক্লান্ত থাকলে – নিত্যদিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন নিয়ে আসলেই শারীরিক ক্লান্তি মুছে ফেলা সম্ভব। চলুন তাহলে দেখে নিই কোন ৮টি অভ্যাসে দূর হবে ক্লান্তি।

দিনের ঘুম পরিহার করুন – ক্লান্ত অবস্থায় দিনের বেলায় অনেকেই দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘুমিয়ে পড়েন। এতে রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। এমনকি এর ক্লান্তি পরদিন পর্যন্ত রয়ে যায়। ক্লান্ত অবস্থায় বেশি হলে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ঘুমানোর কথা বলেন চিকিৎসকরা। এতে আপনি আগের তুলনায় আরও কর্মঠ হয়ে যাবেন।

কফিকে ‘না’ বলুন – দিনের বেলা ক্লান্ত অবস্থায় অতিরিক্ত কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে শরীরের ক্লান্তি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে সহজেই কাজ করার শক্তি কমে যায়। আপনি যখন কফি পান করেন, পরবর্তী পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত এর ক্যাফেইন পাকস্থলীতে রয়ে যায়। তাই এই দীর্ঘ সময়ে মধ্যে আবার কফি পান করলে রাতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।

সময়মতো ঘুমান –‘ক্লান্ত আছি, তাই একটু বেশি ঘুমানো দরকার।’ এই মনোভাব কখনই সুফল বয়ে আনে না। উল্টো আপনার নিত্যদিনের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। গবেষণায় দেখা গেছে, আপনি যদি প্রতিদিনের তুলনায় ৩০ মিনিট বেশি ঘুমান তবে শরীরের ক্লান্তি আরও বেড়ে যায়।

জাঙ্ক ফুডকে ‘না’ বলুন – ক্লান্ত অবস্থায় ক্ষুধা পাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এ সময় জাঙ্ক ফুড পরিহার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। জাঙ্ক ফুড খাওয়াতে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় সবজি, মুরগীর মাংস ও লাল চালের ভাত খেতে পারেন। এতে ক্ষুধাও মিটলো, আপনার মানসিক অশান্তিও কমে গেল।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন – ক্লান্ত অবস্থায় যতটুকু সম্ভব সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন। কেননা, আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজ করলেন মানেই মাঝরাত পর্যন্ত সজাগ থাকার টিকেট কেটে নিলেন। এ ছাড়া মোবাইলে আলো অল্পতেই মস্তিষ্কের চাপ বাড়ায়। এতে সহজেই ঘুম আসবে না।

ছুটির দিনে অতিরিক্ত ঘুম পরিহার করুন – ছুটির দিন আসলেই সব ক্লান্তি দূর করে দীর্ঘ সময় নিয়ে অনেকেই ঘুমিয়ে থাকেন। তবে এ অভ্যাসটি শরীরের জন্য আসলেই কি কোনো সুফল বয়ে আনবে নাকি এ বিষয়ে মাথাব্যথা নেই কারো। সপ্তাহব্যাপী একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘুমিয়ে হুট করেই একদিন বেশি ঘুমানো শরীরে আরও ক্লান্তি নিয়ে আসে। ফলাফল, পরের দিন কর্মক্ষেত্রে অনেকেই সময়মতো পৌঁছাতে পারেন না।

ভোর রাতে স্ন্যাক্স না খাওয়া – যথেষ্ট ক্লান্ত থাকা অবস্থায় ভোর রাতে কোনো স্ন্যাক্স না খাওয়াই ভালো। কারণ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি ঘুমিয়ে পড়লে শরীরের পরিপাক ক্রিয়া কাজ করতে পারবে না। এ সময় বার্গার, চিপস, চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। কেননা এতে বুকে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। তখন ঘুম আসাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

ইয়োগা থেকে বিরত থাকা – ইয়োগা বা শারীরিক কসরত যদিও মানসিক শান্তিসহ শরীরের আরাম দেয়। এর পরও ক্লান্ত অবস্থায় ব্যায়াম বা ইয়োগা করা ঠিক নয়। কারণ শারীরিক কসরতে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তির দরকার। তাই ক্লান্ত থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত শক্তি খরচ না করাই ভালো।

একই রকম পোস্ট
Comments
লোড হচ্ছে...