সংবাদ | বিনোদন | সারাক্ষন

জানলে অবাক হবেন, শীতকালে গায়ে রোদ লাগালে কী হয়

গায়ে রোদ – রোদে কালো হয়ে যাওয়ার ভয়ে, অনেকেই রোদ গায়ে লাগান না৷ তবে চিকিৎসকরা বলছেন, দিনে কয়েক ঘণ্টা যদি গায়ে রোদ লাগানো যায়, তাহলে শরীর উল্টে ভালো থাকে ৷

১. ইমিউন সিস্টেম যত শক্তিশালী হবে, তত নানাবিধ সংক্রমক রোগ দূরে থাকবে। সেই সঙ্গে নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে। এই কাজটি করতে প্রতিদিন সকালে কিছু সময় সূর্যের আলো গায়ে লাগতে দিন। এতে শরীরে শ্বেত রক্ত কণিকা এবং গামা গ্লোবিউলিনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। ফলে কোনও ধরনের সংক্রমণই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না।

২. রোদে কিছু সময় হাঁটলে কী হয় জানেন? খুব ঘাম হতে থাকে। সেই সঙ্গেও পিপাসাও পায়। আর তখন আমরা লিটার লিটার জল খেয়ে থাকি। যত বেশি করে জল খাই, তত বেশি বেশি প্রস্রাব হয়। ফলে শরীরের অন্দরে জমে থাকা টক্সিন বেরিয়ে যায়। সেই সঙ্গে ঘামের মাধ্যমে ত্বকের ছিদ্রে জমে থাকা ময়লাও বেরিয়ে যায়। ফলে ত্বক এবং শরীর, উভয়ই সুন্দর হয়ে ওঠে। তবে তাই বলে ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে হাঁটবেন না যেন, শরীর খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু!

৩. টানা চার সপ্তাহ অল্প সময়ের জন্য সূর্যের আলো গায়ে লাগালে সোরিয়াসিসসহ একাধিক ত্বকের রোগ সেরে যায়। তবে বেলা ১২টার আগে এই কাজটা করবেন। কারণ বেলা বাড়লে রোদের তেজও বেড়ে যায়। ফলে এমন সময় সূর্য়ের আলো গায়ে লাগাতে কষ্ট হতে পারে।

৪. ব্রেস্ট, কোলোন এবং প্রস্টেট ক্যান্সার রোধে সূর্যের আলোর কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, সারা শরীরে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দিয়ে ক্যান্সার সেলকে ধ্বংস করে ফেলতেও সূর্যের আলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে বেলা বাড়ার পর বেশিক্ষণ সূর্যের নিচে কাটালে স্কিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই যতটা পারবেন সকাল বেলা সূর্য়ের আলো গায়ে লাগানোর চেষ্টা করবেন।

৫. যারা অনিদ্রায় ভুগছেন, তারা কাল থেকেই রোদ লাগানো শুরু করুন গায়ে। এমনটা করলে দেখবেন রাতে ঘুম না আসার সমস্যা দূর হবে। আসলে সূর্যের আলো চোখে লাগা মাত্র অপটিকাল নার্ভ মারফত আমাদের মস্তিষ্কে একটি বিশেষ সিগনাল যায়, যা মেলাটোনিন রাসায়নিকের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এই রাসায়নিকের ক্ষরণ যত বাড়তে থাকে, তত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৬. একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে সূর্য়ের আলো গায়ে লাগলে আমাদের মস্তিষ্কে বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা নিমেষে মনকে ভাল করে দেয়। সেই সঙ্গে শারীরিক ক্লান্তিও দূর করে।

৭. বিশ্বের নানা প্রান্তে হওয়া একাধিক গবেষণা একথা প্রমাণ করেছে যে সূর্যের আলো রক্তচাপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে শরীরে বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা যাতে বৃদ্ধি না পায়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। আর একথা তো সকলেরই জানা আছে যে কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন সকালে রোদ গায়ে মেখে ১ ঘন্টা বাইরে বসে থাকুন। তাহলেই দেখবেন হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে। সেই সঙ্গে নানাবিধ হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে।

৮. লোহিত রক্ত কণিকা বেশি বেশি করে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত শরীরের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিয়ে শরীরকে যাতে চাঙ্গা রাখতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে সূর্যালোক। কিছু সময় রোদে কাটালে শরীরে এনার্জির ঘাটতি দূর হয়, সেই সঙ্গে দেহের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

৯. স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটায়: সূর্যালোক মস্তিষ্কে একাধিক উপকারি কেমিকেলের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধির পাশাপাশি মস্তিষ্কের সার্বিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, যাদের পরিবারে ডিমেনশিয়া বা অ্যালজাইমারের মতো রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের প্রতিদিন কিছুটা সময় সূর্যের সঙ্গে কাটানো উটিত। এমনটা করলে দারুন উপকার পাওয়া যায়!

Comments
লোড হচ্ছে...