জাতীয়

ঢাকা অচলের কর্মসূচির আহ্বান

ঢাকা অচলের- বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে ঢাকা অচলের কর্মসূচি চান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। আজ শুক্রবার রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় তিনজন বক্তা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এ আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, ‘আন্দোলন চাই, নির্দেশনা দেন। এক দফার কর্মসূচি চাই। আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না।’ এই সমাবেশের পর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে সমাবেশ থেকে।

নেতারা বলেন, ‘আজকের জনসভা পণ্ড করার জন্য রাজশাহী অভিমুখে বাস, ট্রাক, ট্রেন সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিচার চাই, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে শেখ হাসিনা বাইরে থাকতে পারেন না। শেখ হাসিনাকেও জেলে যেতে হবে।’

জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘হুদার অধীনে নির্বাচনে গেলে, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে গেলে, শেখ হাসিনা আজীবন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।

আর খালেদা জিয়া আমৃত্যু কারাগারে এবং তারেক জিয়া আজীবন নির্বাসনে থাকবেন। আমরা যদি সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করি, এ দেশের মানুষ আমাকে, আপনাকে ছাড়বে না। তাই বলছি, হুদাকে নামান, শেখ হাসিনাকে নামান। আমরা নির্বাচনে গেলে জয়ী হব যদি ভোট দিতে পারি।’

জনসভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের ভীত নড়ে গেছে। তারা পালাবার পথ খুঁজছে। সরকার যত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করুক না কেন, ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের পরাজিত করতে হবে। জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জনগণের বিপক্ষে গিয়ে কেউ কখনো বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান ক্ষমতাসীনরাও পারবে না।

জনসভায় আরো বক্তব্য দিয়েছেন অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, শহীদুল্লাহ কায়সার, আবদুল গোফরান, শাহজাহান মিয়া, আবদুর রউফ ইউছুপ, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, হারুনুর রশিদ, নাদিম মাহমুদ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শাহ আহমদ বাদল, মোস্তাক আহমেদ, এ টি এম গোলাম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, রফিকুল ইসলাম, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া প্রমুখ।

এর আগে আজ দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভা শুরু হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজকের জনসভায় যোগ দিতে পারেননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু।

এরই মধ্যে জনসভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।

এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন নগরীর সাহেববাজারে নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছেন। নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ সাত দফা দাবি আদায়ে নবগঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহীতে এটি চতুর্থ সমাবেশ।

Source : NTV BD

একই আসনে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন দুই ভাই

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং তার ছোট ভাই সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম।

দলীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ের নির্বাচনী অফিস থেকে সৈয়দ আশরাফুল ও তার ভাই এ মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

সৈয়দ আশরাফুলের পক্ষে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী তোফাজ্জল হোসেন ও সাফায়েতুল ইসলামের পক্ষে কিনেছেন সাবেক ছাত্রনেতা জহির।

সৈয়দ আশরাফ দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদের কার্যক্রম থেকে ৯০ কার্যদিবসের জন্য ছুটি নিয়েছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

তার অসুস্থতার কারণে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৭৯(২) অনুসারে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ৯০ কার্য দিবস তার ছুটি মঞ্জুর করা হয়।

উঁচুনিচু মাঠে খেলা হয় না : বি. চৌধুরী

বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ‘সংসদ ভেঙে দিন অথবা সংসদ সদস্যদের (এমপি) নিষ্ক্রিয় করুন। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দিতে হবে, উঁচুনিচু মাঠে খেলা হয় না।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ জন দল আয়োজিত এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি।

নির্বাচনের তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন,‘ভোট গ্রহণ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৬ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৯ নভেম্বর এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ৬ ডিসেম্বর করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

বি. চৌধুরী বলেন,‘নির্বাচন কমিশন এখন আর সরকারের নয়, রাষ্ট্রপতির অধীনে। সুতরাং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সংবিধানের বাইরে গেলে কমিশন এবং রাষ্ট্রপতি ইতিহাসে দায়ী হয়ে থাকবেন। ৫ বছর পর পর জাতীয় নির্বাচন হয় এত তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন করুন, আশা করি আমাদের এ আহ্বানের কথা স্মরণ থাকবে।’

তিনি আরও বলেন,‘নির্বাচনের সময় গোন্ডগোল হলে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে, এবারের নির্বাচনে এমন করলে তাৎক্ষণিক তাদের বিচার করতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করতে হবে। অতীতে দেখা গেছে পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে অথবা গ্রেফতার করা হয়। এটা যেন এ নির্বাচনে না হয়।’

আপনার মতামত