খেলাধুলা

তামিমের ভাই নাফিস যে অনুরোধ করল দর্শকদের কাছে

তামিমের ভাই নাফিস- তামিমের ভাই নাফিসএশিয়া কাপে বাংলাদেশের দুর্দান্ত সূচনাকে ছাপিয়ে গেছে এক হাতে তামিম ইকবালের ব্যাটিং। ক্রিকেট দুনিয়ায় বইছে প্রশংসার জোয়ার।

এদিকে তামিমের ভাই বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবাল ছোট ভাইয়ের এমন সাহসিকতায় গর্বিত। পাশাপাশি দর্শকদের কাছে অনুরোধ করেছেন নাফিস।

হাতে চোট নিয়েই ইউনিমনি এশিয়া কাপ ২০১৮ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে খেলতে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল।তবে এতে বেড়েছে আরও বিপত্তি। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন তামিম।

ব্যথার পরিমাণ বেশি থাকায় চোটের ধরন জানতে এরপর স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। স্ক্যানে তামিমের বাঁহাতের কব্জিতে চিড় ধরা পড়ে।

এরপর হাসপাতাল থেকে মাঠে ফিরে দলের বিপদে ৪৭তম ওভারের শেষ বলে এক হাতে ব্যাট নিয়ে উইকেটে নেমে পড়েন তামিম। মুশফিকের সাথে শেষ উইকেট জুটিতে মহাগুরুত্বপূর্ণ ৩২ রান যোগ করেন।

ভাইয়ের এমন সাহসিকতায় গর্বিত নাফিস ইকবাল। সম্প্রতি চ্যানেল আই অনলাইনের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নাফিস বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের সবাইকে অনুরোধ করবো এই জিনিসটা যাতে মনে রাখে।

এখন সবাই প্রশংসা করছে হয়তো দুদিন পর মানুষ তাকে নিয়ে অন্যরকম মন্তব্য করতে পারে। ভাই হিসেবে আমি গর্বিত, দেশকে সে গর্বিত করেছে। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবেও আমি গর্বিত। তাকে এই কাজের জন্য যেন সবাই মনে রাখে।’

সর্বশেষ উইন্ডিজ সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন তামিম। ফর্ম ধরে রাখতে দেশে ফিরে এশিয়া কাপের জন্য কঠোর অনুশীলন শুরু করেন। কিন্তু ২৬ আগস্ট হাতে চোট পান। এরপর সুস্থ হয়ে দলের সাথে যোগ দেন। কিন্তু এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচেই আবার পড়লেন ইনজুরিতে।

ইনজুরি প্রসঙ্গে নাফিস বলেন, ‘ওর (তামিম) যখন ইনজুরি হয়েছে আমি খুবই আপসেট ছিলাম। শেষ সিরিজে (উন্ডিজের বিপক্ষে) এত ভাল খেলেছে, ভাল যাচ্ছিল…যাই হোক এসব কারণে একটু আপসেট ছিলাম। হাতে একটু ব্যথা নিয়েই দুবাই গেল।

তারপর যখন শুরুর ম্যাচেই আঘাত পেল আরও হতাশ হয়ে পড়লাম। কিন্তু তামিম যখন উইকেটে ফিরে আসল একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি খুবই অবাক হই। গ্লাভস পরতে পারছে না, যেভাবে ব্যাটিং করেছে আঘাত লাগতে পারতো। এটা অনেক প্রেরণাদায়ক একটা সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য।’

আপনি কী জানেন বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছেন তামিম-মুশফিক?

বহুল আলোচিত শনিবারের এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচটা এমনিতেই ইতিহাস হয়ে গেছে তামিম ইকবালের দেশপ্রেম, মুশফিকের সেঞ্চুরি আর বাংলাদেশের বিশাল জয়ের জন্য।

এই ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত ছিল ৯ম উইকেট পতনের পর মুশফিককে সঙ্গ দিতে আহত তামিম ইকবালের মাঠে নেমে আসা। ঠিক ওই মুহূর্তেই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। আর ওই মুহূর্তে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলে এই জুটি।

শেষ উইকেটে ওপেনারের উপস্থিতিতে জুটিতে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তামিম ও মুশফিক। দুজনে মিলে শেষ উইকেটে ৩২ রান যোগ করেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে এতোদিন এমন ঘটনা একবারই ঘটেছে।

সেটি ২০০০ সালে করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ড্যামিয়েন মার্টিন ও গ্লেন ম্যাকগ্রা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ওপেনার হিসেবে খেলতে নেমেছিলেন মার্টিন।

শেষ উইকেটে ম্যাকগ্রাকে নিয়ে জুটি গড়ে ৩১ রান যোগ করেন মার্টিন। যা এতদিন শেষ উইকেটে ওপেনারের উপস্থিতিতে জুটিতে সর্বোচ্চ রানের জুটি।

১৮ বছর মার্টিন ও ম্যাকগ্রার ওই বিশ্বরেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন তামিম ও মুশফিক। ওপেনার হিসেবে মার্টিন সেঞ্চুরির স্বাদ নিলেও, তামিম ২ রানে অপরাজিত থাকেন।

মুশফিক খেলেন ১৪৪ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। তামিমের সঙ্গে তার জুটিতে ১৬ বলে আসে ৩২ রান। যার সবটাই এসেছে মুশফিকের ব্যাট থেকে। এক বল খেলে মুশফিককে স্ট্রাইক পাইয়ে দিয়েছেন তামিম। সেই একটি ডট বল ম্যাচের রং বদলে দিয়েছিল।

মাঠে নামার আগে মাশরাফিকে নিয়ে কি বললেন রোহিত শর্মা?

এশিয়া কাপ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। এই টুর্ণামেন্ট নিয়ে প্রতিটি দলের নিজ নিজ চিন্তা ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় দলনেতা রোহিত শর্মারও অবশ্য নিজস্ব প্লান আছে।

যা ফুটে ওঠে তার কথার মধ্যে দিয়েই। বাংলাদেশের দলনেতা মাশরাফি বিন মুতর্জারও প্লান আছে বলে উঠে আসে তার বক্তব্যে।
এশিয়া কাপের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানের পর ছয় দলের অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনে রোহিত বলেছেন,

‘আমি মনে করি এখানে প্রতিটি দলই আগামী বিশ্বকাপের দল যা হবে, সেই চিন্তা থেকে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিবে। সবাই চাইবে নিজ নিজ দলের জন্য মানানসই কম্বিনেশন দাঁড় করাতে, বিশ্বকাপের আগে।’

অংশ নেয়া অন্যান্য দলের পরিকল্পনা কি হতে পারে, সেই প্রশ্নের জবাব নেই রোহিতের কাছে, ‘আমি অ্যাঞ্জি (অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস) বা সরফরাজ কি ভাবছে ও কেমন কম্বিনেশন দাঁড় করাতে চাইছে, সেটা তারাই ভালো জানে। পরে আসে মাঠে নামার আগে মাশরাফিকে নিয়ে কি বললেন রোহিত শর্মা? যে প্রসঙ্গ।

টাইগারদের নিয়ে বলতে গিয়ে রোহিত বলেন, মাশরাফি তাঁর দল নিয়ে কি করতে চাইছে সেটা আমি জানব না, বাকি অধিনায়কদের জন্যও কথাগুলো সত্য। তাদের শক্তি ও দুর্বলতা আমি জানব না।

রোহিত বলেন, দারুণ একটি আসর এটি। প্রতিটি দল তাদের মত করেই ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চায়। এখানে প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। খেলাটা কেমন হবে তা আঁচ করাটা এখন জটিলই হবে। কয়েকটি ম্যাচ হলে কিছুটা বোঝা যাবে।

আপনার মতামত