স্বাস্থ্য

দিনে কতবার প্রস্রাব করা স্বাভাবিক জানেন কি?

দিনে কতবার প্রস্রাব – প্রয়োজনের চেয়ে বেশি প্রস্রাবের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। কোথাও বেড়াতে গেলে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়তে চায় না। পুরুষদের যাও বা রেহাই আছে, মহিলাদের তা নেই। এটা এমন নয় যে অধিকমাত্রায় পানি খেলেই প্রস্রাব হয় বেশি। অনেকেই আছেন, দিনে অনেকবার প্রস্রাব করেন, কিন্তু বেশি পরিমাণে পানি খান না। অন্যদিকে অনেক পানি খেয়েও স্বাভাবিক মাত্রায় প্রস্রাব হয় না অনেকের। কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ৬-৭বার প্রস্রাব স্বাভাবিক। দু’বার বেশি বা কমও হতে পারে। প্রস্রাব কম বা বেশি হওয়ার জন্য দায়ি আরও কয়েকটি বিষয়। যেমন-

তরল পান: তরল খাওয়ার পরিমাণের উপর নির্ভর করে প্রস্রাব। যে ব্যক্তি প্রতিদিন ৫ লিটার জল খান, হিসেব করে তাঁর ১০বার প্রস্রাব হওয়ার কথা। যিনি এর চেয়ে কম জল খান, তাঁর আরও কম প্রস্রাব হওয়ার কথা। তবে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রস্রাব হয় বেশি। কেননা, এই ধরনের পানীয় মূত্রথলিকে উত্তেজিত করে।

খাদ্যাভাস: যে ব্যক্তির খাদ্য তালিকায় তরল বেশি, যেমন সুপ, ফ্রুট জুস, ইত্যাদি, তাঁর প্রস্রাবের পরিমাণ বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু যিনি শুকনো খাবারই বেশি খান, তার ব্যাপারটা ঠিক উলটো। সুতরাং, খাবারে তরল কতখানি খাচ্ছেন তার উপরও নির্ভর করে প্রস্রাবের মাত্রা।

বয়স: আবার বয়স যত বাড়ে, মূত্রথলি সঙ্কুচিত হতে থাকে ততবেশি। তাই বৃদ্ধ/বৃদ্ধাদের কম প্রস্রাব হওয়াই স্বাভাবিক। আবার কোনও কোনও ৪০ ঊর্ধ্ব পুরুষ রাতে বারংবার প্রস্রাবে যান। এই সমস্যা তৈরি হলে ইউরোলজিস্টের কাছে যেতে হবে। এর কারণ হতে পারে প্রস্টেটের আয়তনে বৃদ্ধি বা প্রস্টেট ক্যান্সার।

ত্বকের ধরন: নিজেই যাচাই করে দেখতে পারেন বিষয়টি। যদি শরীরে ঘামের পরিমাণ বেশি হয়, প্রস্রাব বেশি হবে না। তার কারণ, এক্ষেত্রে কিন্তু শরীরের জল রোমকূপ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ফলত, প্রস্রাবের বদলে জল বেরনোর বিকল্প প্রক্রিয়া কিন্তু ঘাম। ঠিক একইভাবে ঘাম কম হলে শরীরের জল প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। স্বাভাবিকভাবেই পরিমাণ বাড়বে।

বাসস্থান: প্রস্রাব হওয়ার পিছনে অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে ভৌগোলিক অবস্থান। যেসব জায়গায় আর্দ্রতা বেশি, সেসব জায়গায় প্রস্রাব কম। কারণ, সেখানে শরীরের অর্ধেক জল ঘাম হয়ে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে শুষ্ক অঞ্চলে ঘাম কম, তাই প্রস্রাব বেশি।

জীবিকা: যে ব্যক্তি সারাদিন এসি ঘরে বসে কাজ করেন, তাঁর প্রস্রাবের পরিমাণ বেশি। কিন্তু যাঁকে রাস্তায় বেরিয়ে কাজ করতে হয়, সেই ব্যক্তির ঘাম অনেকবেশি। প্রস্রাব কম।

‘ট্রাম্পের সঙ্গে বিছানায় সুখ পাইনি’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে আলোচনা আসা স্টর্মি ড্যানিয়েলস একটি বই লিখেছেন। যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করেছেন এই পর্নস্টার।

অতীতে স্টর্মি দাবি করেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শয্যা সঙ্গী হয়েছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরেই নিজের ‘ফুল ডিসক্লোসার’ বইতে তিনি লিখেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিছানায় কোনো সুখই হয়নি তাঁর। এবং ভবিষ্যতে তিনি আর ট্রাম্পের সঙ্গে বিছানা ভাগ করতে চান না বলেও জানিয়েছেন এই পর্নস্টার।

ফুল ডিসক্লোসার’-এ স্টর্মি জানিয়েছেন গল্ফ প্রতিযোগিতায়-ই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম দেখেছিলেন তিনি। এবং সেখানেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। সেদিন লাল রঙের টুপি পড়েছিলেন ট্রাম্প, সে কথাও বইতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ওই গলফ প্রতিযোগিতার পর ট্রাম্পের পেন্টহাউস-এ নৈশভোজের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন স্টর্মি। সেখানেই না কি তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বিছানা শেয়ার করেন।

বইটির বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক মাস আগে আগামী ২ অক্টোবর বইটি প্রকাশ পাওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্যানিয়েলস ২০১৬ সালে ট্রাম্পের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের বিষয়টির উল্লেখও করেছেন। ‘এটা কখনই ঘটেনি। তিনি প্রেসিডেন্ট হতে চাননি কখনও’,ড্যানিয়েলস লিখেছেন।

এই পর্ন তারকা আরও জানান, এর পরের বছরেও ট্রাম্পের রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ এ তাকে ডাকা হবে এই আশায় তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। ‘তিনি আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং এটি শতভাগই তার পরিকল্পনামাফিক’ লিখেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।

ড্যানিয়েলসের আইনজীবী মাইকেল অ্যাভেনত্তি, দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের পর টুইট করেছেন যে ‘ট্রাম্পের সঙ্গে ড্যানিয়েলসের যৌনতার বর্ণনাই এই বইয়ের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বরং এটি তার জীবন নিয়ে এক আধুনিক নারী হিসেবে সত্য কথা বলার কাহিনী।’

এদিকে শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তার সম্পর্কের ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তার আইনজীবী মাইকেল কোহেনের কথা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতে ড্যানিয়েলসকে ঘুষ হিসাবে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দেন ট্রাম্প।

আপনার মতামত