জাতীয়

এইমাত্র নির্বাচন নিয়ে যে সিদ্বান্ত নিলো বিএনপি

নির্বাচন নিয়ে যে সিদ্বান্ত- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণার সমালোচনা করলেও নির্বাচনি ট্রেন কোনোভাবেই মিস করতে চায় না দলটি।

এদিন রাতে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সক্রিয় সদস্যদের নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার (১০ নভেম্বর) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে স্থায়ী কমিটি নির্বাচনি পরিকল্পনা তৈরি করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিজেরা উদ্ধৃত হতে চাননি। প্রত্যেকের ভাষ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বয়কট করলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াইয়ে থাকবে বিএনপি।

এক্ষেত্রে শনিবার গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দিনব্যাপী আলোচনা করে দলের নির্বাচনি পরিকল্পনা, ইশতেহার ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন নীতি-নির্ধারকরা।

এরআগে, শুক্রবার (৯ নভেম্বর) রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ আছে, সেই সমাবেশ থেকে তফসিল ঘোষণার সমালোচনা করা হবে। একইসঙ্গে তফসিল পেছানোর দাবিও জানানো হবে। তবে নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেওয়া হবে না, এমন ইঙ্গিতও দিতে পারেন নেতারা।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বরের নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি নেবে বিএনপি। একইসঙ্গে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে ঘোষণার আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে এর সম্ভাব্য কৌশল, পরবর্তী নীতি নির্ধারণ করবে বিএনপি। এক্ষেত্রে ফ্রন্টের নেতাদের অভিমত অনুযায়ী নির্বাচনি কৌশল ঠিক করবে দলটি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু সব দলকে নিয়ে নির্বাচন করা সরকার ও ইসির দায়িত্ব। কিন্তু তারা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সঠিক আচরণ করছে না।

তফসিল ঘোষণা দুই-তিনদিন পরও করা যেতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনা করবেন না—এই আলোচনা তিনি ৫ বছর করেছেন। যদিও শেষপর্যন্ত তিনি রাজি হয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা সংবিধানের বাইরে নয়। যেমন, নির্বাচনকালীন সরকার ছিল, আওয়ামী লীগই পরিবর্তন করেছে।’

ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাতদফার কোনও দাবিই সরকারের পক্ষ থেকে মানা হয়নি। এক্ষেত্রে নির্বাচন পেছানোর দাবি কতটা মানবে, এমন প্রশ্নে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘নির্বাচন প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কথা হবে। কথা বলার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমাদের কী অবস্থান হবে, তা রাজশাহীর সমাবেশের পর ঠিক করবো।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ২০ দলীয় জোটের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। এখানে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।’

তফসিলের বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে, অভিমত জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল তফসিল পেছানোর। এটা নির্বাচন কমিশন মানেনি। জনগণের দাবি না মানলে জনগণই জবাব দেবে।’

এদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম একজন নেতা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন করবে। ফ্রন্টের অন্যতম দল বিএনপির প্রতীক ধানের শীষেই নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশি।

সূত্র জানায়, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের সময়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম কার সইয়ে নির্বাচন কমিশনে যাবে, এরও একটি পন্থা বের করা হচ্ছে। শনিবারের বৈঠকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানান স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য।

তবে বিশ্বস্ত একটি সূত্রের দাবি, এক্ষেত্রে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সম্ভাবনা বেশি। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে শনিবার। এদিন ২০ দলীয় জোটের বৈঠকও ডাকা হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্ত জোটের বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সময় মিলিয়ে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করে দলীয় অবস্থান তুলে ধরে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

শনিবার বা রবিবার রাতে বা সন্ধ্যায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন করার সম্ভাবনা আছে। সে সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি খোলাসা করবে বিএনপি।

লন্ডন থেকে ও নির্বাচন নিয়ে বিএনপির পরিষ্কার সিদ্বান্ত

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গুলশানে বিএনপি দলীয় চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে। ২০ দলীয় জোটের বৈঠকের পর পরই জাতীয় ও স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে তারেক রহমান টেলিফোনে সংযুক্ত হন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, যদিও ৭ দফা দাবির কোনটাই অর্জিত হয়নি, বেগম খালেদার মুক্তির দাবিতেও সরকার অনড় অবস্থান নিয়েছে, তারপরও আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তারেক রহমান।

তারেক রহমানের এ সিদ্ধান্তের পরেই বিএনপি নেতাদের অবস্থান পাল্টে যায়। যারা কিছুক্ষন আগেও নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থানে ছিলো, তারেক রহমানের নির্দেশের পর তাঁরা নির্বাচনের পক্ষে যাওয়ার নানা যুক্তি খুঁজতে শুরু করেছেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে তারেক রহমান চাইছেন বিএনপি মনোনয়নপত্র দাখিল করুক। দাখিলের পর তাঁরা পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচনে সরকার কতটুকু নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচন কমিশন কতটুকু শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে।

যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপি দেখে, নির্বাচনে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না সেক্ষেত্রে তাঁরা নির্বাচন বর্জনের পথে হাঁটবে। তাঁরা মনে করছে, তখন যে আন্দোলন হবে সেটি জোরালো হওয়া সম্ভব হবে।

তারেক তাঁর এই বার্তা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে পৌছে দিতে বলেছে। তবে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সদস্যরা মনে করছে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার জন্য এটি খু্বই সংক্ষিপ্ত সময়।

যে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা পিছিয়ে দেওয়া দরকার। এদিকে বিকল্পধারা গতকাল রাতেই নির্বাচনের তফসিল ৭ দিন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আজকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া

নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আজ রাত থেকে জনসভা করবেন। জনসভার আগে পরে নিজেদের মধ্যে তাঁরা নির্বাচনের ব্যাপারে সলা-পরামর্শ সেরে নেবেন বলে বিভিন্ন সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আপনার মতামত