ধর্ম

ডেলিভারির সময় পুরুষ ডাক্তারের সামনে মহিলাদের গোপন স্থান বের করা কি গুনাহ?

পুরুষ ডাক্তারের সামনে – নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ মতিউল ইসলাম।

আপনার জিজ্ঞাসার ২১৯৭তম পর্বে ডেলিভারির সময় নারীদের ডাক্তারের সামনে নাভি থেকে পা পর্যন্ত সতর বের করা গুনাহ কি না, সে সম্পর্কে ঢাকা থেকে চিঠিতে জানতে চেয়েছেন একজন দর্শক।

উত্তরে মুহাম্মদ মতিউল ইসলাম বলেন, আল্লাহকে ভয় কর সাধ্য অনুযায়ী। ডাক্তার যদি দ্বীনদার হয় তাহলে তিনি সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করবেন যতটুকু সম্ভব কাপড় না খোলার। এই বিষয়টি ওজরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ওজরের কারণে যতটুকু কাপড় তোলা প্রয়োজন ততটুকু কাপড় তুলবে এবং মহিলাদের জন্য একদল মহিলা ডাক্তার থাকা এখানে ফরজে কিফায়া।

সেক্ষেত্রে নারীদের শিক্ষাও কিন্তু এখানে ফরজে কিফায়া হয়ে যাচ্ছে। শুধু দ্বীনই শিক্ষা না তার পাশাপাশি বিজ্ঞানের শিক্ষা, ডাক্তারি শিক্ষাও অর্জন করতে হবে। এমনকি নিরাপত্তা শিক্ষাও গ্রহণ করা যেতে পারে। আমরা দেখি, মক্কার বায়তুল্লাহে মহিলা নিরাপত্তাকর্মীরা আছেন।

সুতরাং, আল্লাহকে ভয় করে যতটুকু কাপড় না তুললেই নয় ততটুকু কাপড় খুলতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ এটি ইচ্ছাকৃত নয়, ওজর।

যে সুরা ১ বার পড়লেই দশবার পূর্ণ কোরআন পড়ার সওয়াব পাওয়া যায় জেনে নিন

পবিত্র রমজান মাসে আপনি যে আমলই করবেন তার সওয়াব পাওয়া যায় বহুগুন। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা এই মাসটিতে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে আল্লাহর ইবাদতে মোশগুল থাকেন।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আমল করার সুবিধার্থে বুখারী শরীফ ও মিশকাত শরীফের ২টি হাদিস উল্লেখ করা হলো- রাসূলে করীম সা. এরশাদ করেছেন, দুটি বাক্য মুখে উচ্চারণ খুবই সহজ, কিন্তু সেগুলোর আমল মাপের পাল্লায় খুবই ভারী এবং আল্লাহর নিকট খুবই পছন্দনীয়।

“সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আজীম”। (বুখারী)

দশ খতম কুরআনের সওয়াব লাভের সুরা রাসূল সা. এরশাদ করেছেন, প্রত্যেকটি বস্তুর একটি অন্তঃকরণ থাকে। কুরআন মাজীদের অন্তকরণ হচ্ছে সুরা ইয়াসীন। কোন ব্যক্তি একবার সূরা ইয়াছীন পাঠ করলে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য দশবার পূর্ণ কুরআন শরীফ পাঠ করার ছাওয়াব লিখেন।

যে দোয়া পাঠ করলে নেকি বৃদ্ধি, গোনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়

হজরত মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি (রহ.) বর্ণনা করেন। একবার আমি মক্কায় গেলাম। আমার দ্বীনী ভাই সালিমের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলো। ভাই সালিম ছিলেন সাহাবি আবদুল্লাহ (রা.)-এর পুত্র এবং খলিফাতুল মুসলিমীন হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর নাতি।

তিনি নিজের পিতার সূত্রে দাদা থেকে একটি হাদিস আমার কাছে বর্ণনা করেন। নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বাজারে যেয়ে এ দোয়া পড়বে আল্লাহতায়ালা তাকে দশ লাখ নেকি দান করবেন; দশ লাখ গোনাহ মুছে দিবেন। তার মর্যাদা দশ লাখ ধাপ বৃদ্ধি করে দিবেন-

لا إِلهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَريكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، يُحْيِي ويُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لا يَمُوتُ، بِيَدِهِ الخَيْرُ وَهُوَ على كُلّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু। ওয়া লাহুল হামদু। ইয়ুহয়ি ওয়া ইয়ুমিতু। ওয়া হুয়া হাইয়ুন। লা ইয়ামুতু। বিয়াদিহিল খাইরু। ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। – তিরমিজি: ৩৪২৮

অর্থ: এক আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। তার কোনো শরিক নেই। তিনি সকল সার্বভৌমত্বের মালিক। সকল প্রশংসা তার জন্য। তিনি জীবিত করেন। তিনি মৃত্যু দান করেন। তিনি চিরঞ্জীব। তার মৃত্যু নেই। সকল কল্যাণ তার নিয়ন্ত্রণে। তিনি সবকিছুর ওপর সামর্থবান।

ছোট্ট এই দোয়াটি পাঠ করলেই কিয়ামতের মাঠে পাওয়া যাবে সুসংবাদ

হযরত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এবং বিকালে তিনবার এ দোয়াটি পাঠ করবে আল্লাহতায়ালা অবশ্যই কিয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করবেন। -মুসনাদে আহমাদ

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

উচ্চারণ : রাজিতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়াবিল ইসলামি দীনান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।

অর্থ : আমি আল্লাহতায়ালাকে প্রভু পেয়ে সন্তুষ্ট, ইসলামকে জীবনাদর্শ পেয়ে সন্তুষ্ট ও হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট আছি।

বিপদে পড়লে মহানবী (সাঃ) যে তিনটি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন।

দোয়া ৩টি হলো-

১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন : লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস)

অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০)

২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে : ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’

অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫)

৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন : আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা।

অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)

আপনার মতামত