সংবাদ | বিনোদন | সারাক্ষন

‘প্রকাশ্যে গুলি করার ঘোষণা’ দিয়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ছাড়তে দুইদিনের চুড়ান্ত আলটিমেটাম সেনাবাহিনীর!

প্রকাশ্যে গুলি করার ঘোষণা – আগামী দুইদিনের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যাবার চুড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংসহ নানা প্রচারনা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গারা দেশ না ছাড়লে ‘গুলি করে মেরে ফেলার প্রকাশ্য হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদসুত্রমতে, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) এর মধ্যে মায়ানমার ছেড়ে না গেলে গুলি করে মেরে ফেলা হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

গত শুক্রবার, শনিবার ও আজ রবিবার মায়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজার জেলার পালংখালী উখিয়ার কুতপালং, বালুখালীর বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে আসা শরণার্থীরা জানিয়েছেন, সেখানে মাইকিং করে বলা হচ্ছে, ‘‘মায়ানমার তোমাদের দেশ নয়।১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তোমরা মায়ানমার ছেড়ে চলে যাও। তোমরা বাঙালি। তোমাদের দেশ বাংলাদেশ। না গেলে তোমাদের গুলি করে হত্যা করা হবে আর না হয় কেটে হত্যা করা হবে ।’’’

উখিয়ার কুতপালং এলাকায় পালিয়ে আসা একজন শরনার্থী যুবক আলি হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে চলে যেতে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আবার অতর্কিত এসেও ঘরে আগুন দেয়া হচ্ছে । বার্মার মগরা যা ইচ্ছা তা-ই করছে।’

সম্পর্কিত সংবাদ

রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ওআইসি সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা রাষ্ট্রপতির

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মিয়ানমারের জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর সংস্থা ওআইসির সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রোববার কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানাতে প্যালেস অব ইন্ডিপেন্ডেন্সে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)’র প্রথম ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলন’-এ ভাষণ দানকালে তিনি একথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেছেন, নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের ওপর বারংবার অত্যাচারের ফলে তাদের অস্তিত্ব যেমন হুমকির মুখে পড়ছে এবং তেমনি বাংলাদেশকে বিপুল সংখ্যক অসহায় রোহিঙ্গার বোঝা বহনের মতো মারাত্মক সংকটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

আবদুল হামিদ বলেন,’নিজ দেশের নাগরিকত্বসহ সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত অসহায় রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আমি আপনাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই রোহিঙ্গারা উপর্যুপোরি নির্মমতা ও বাস্তুচ্যূতির শিকার। তাই মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে।’

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর ‘সরাসরি বিরূপ প্রভাব’ সৃষ্টি করেছে। রাখাইন রাজ্যে তাদেরকে নির্মমভাবে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ফলে প্রাণ রক্ষার্থে পার্শ্ববর্তী দেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মিয়ানমারের এই সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

কাজাকস্তানের রাজধানীতে এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলনে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও মুসলিম বিশ্বকে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জগতে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন।

একই রকম পোস্ট
Comments
লোড হচ্ছে...