জাতীয়

প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে ১০ লাখ টাকা দেয়া প্রতিজ্ঞা কাদের সিদ্দিকীর

প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে- বর্তমান সরকারের সময়ে যারা পুলিশে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। শুক্রবার(৯ নভেম্বর) বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের আয়োজনে রাজশাহীতে চলা সমাবেশে এ প্রতিজ্ঞা করেন তিনি।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যে পুলিশরা ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছেন, তাদের রাজশাহীর এই মাঠে আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি তাদের টাকা আমি ফিরিয়ে দিব।

সব টাকা আমি দিতে পারব না, তবে আওয়ামী লীগের আমলে যেসব পুলিশ ভর্তি হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে ফিরিয়ে দিব। কারণ মন্ত্রী-পাতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী মিলে ১০ লাখেরও বেশি খেয়েছে ওরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি টাউন হল থেকে সড়ক পথে এখানে এসেছি। রাস্তায় রাস্তায় হাসিনার পুলিশেরা বাধা দিয়েছে। আমাদের ফেরাতে পারে নাই, এই মাঠের মানুষকেও ফেরাতে পারে নাই।

পুলিশ ভাইদের বলি, সংসদে থাকতে অন্তত সাত বার তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাব করেছিলাম। সেজন্য আজ এত বেতন। সুতরাং হাসিনার কথা নয়, আমার কথাও একটু-আধটু শুনবেন আপনারা।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এই মিটিংয়ে যে কয়টা মেয়ে এসেছে, আমার দলে এর অর্ধেক মেয়ে থাকলে আমি শেখ হাসিনাকে তিন দিনের মধ্যে সরকার থেকে ফেলে দিতে পারি।’

বক্তব্যের শুরুতে কাদের বলেন, ‘আমি কাদের সিদ্দিকী কিন্তু বিএনপি’র সভায় আসি নাই। কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের সভায় এসেছি। আপনারা যদি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চান তবে আপনাদের ঐক্যফ্রন্টকে অটুট রাখতে হবে।’

Source : Somoy News

অলির মান ভাঙ্গালো বিএনপি

সাত মাস পর ২০ দলীয় জোটে উপস্থিত হলেন এই জোটের অন্যতম নেতা এলডিপি সভাপতি কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমেদ। ২০ দলকে গুরুত্ব না দেয়া এবং এই জোটে বিএনপির একক আধিপত্যের প্রতিবাদে তিনি গত সাত মাস ধরে, খালেদা জিয়া কারান্তরীনের পর থেকেই মূলত ২০ দলে নিস্ক্রিয় ছিলেন।

এ সময় তিনি ২০ দলের একজন কট্টর সমলোচকও ছিলেন। ২০ দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ব্যাপারে তাঁর নেতিবাচক মন্তব্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ২০ দলের অনুষ্ঠিত গত ৫ টি বৈঠকের একটিতেও উপস্থিত হননি।

গতকাল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে ফোন করেন। আবেগঘন হয়ে ফখরুল অলিকে বলেন, ‘বিএনপির আপনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। বিএনপির এই দুর্দিনে আপনাকে প্রয়োজন। আপনাকেই ২০ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হবে।’

২০ দলের সমন্বয়কের শর্তে তিনি মিটিংয়ে আসেন এবং সভাপতিত্ব করেন। এই বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিও আলোচনা করা হয়। এই বৈঠক থেকে বের হয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনেও মূল বক্তব্য রাখেন।

আন্দোলনের হুমকি দেখছে না আ.লীগ

আন্দোলনের হুমকি দিলেও বিএনপির নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটে আসছে বলেই ধারণা আওয়ামী লীগ নেতাদের। তারা বলছেন, অতীতের আন্দোলনে সাফল্য আসেনি, এই বোধটিই তাদের নির্বাচনে আনতে যথেষ্ট।

আবার ভোটে না এলে বিএনপির নিবন্ধন হারানোর ঝুঁকি থাকে। কারণ, নিবন্ধন আইনের শর্ত অনুযায়ী পরপর দুইবার ভোট বর্জনের সুযোগ নেই।

তবে যদি বিএনপি আবার আন্দোলনে যায়, তাহলে ২০১৪ এবং পরের বছরের মতোই ব্যর্থ হতে হবে বলেও বলছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোট, তফসিল পেছানোর দাবিও পূরণ হয়নি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। তাদের ঘোষণা ছিল আন্দোলনের। তবে কর্মসূচি আসেনি। বরং সমালোচনার সুর আক্রমণাত্মক নয়।

এরই মধ্যে ২৩ ডিসেম্বর ভোট এবং ১৯ নভেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ধরে তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

এই পরিস্থিতিতে ২০১৪ সালের মতোই আবার আন্দোলন শুরু হয় কি না, এ নিয়ে আলোচনা আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। যদিও আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনে যাবে না। তফসিল ঘোষণার পর সব রাজনৈতিক দল একটা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

তফসিল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দলই চায় জনগণের সেবা করতে। সেজন্য নির্বাচনে আসতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় বসতে হবে। তারা যদি জনগণের সেবা করতে চায়-ই নির্বাচনে আসবে এমনটাই আমরা প্রত্যাশা করি।’

‘তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন হবে, এ নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন যে সিডিউল ঘোষণা করেছে, সে অনুযায়ী একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা মনে করি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হয়েছিল, সিডিউল ঘোষণার মধ্য দিয়ে তা কেটে গেছে।’

গুরুত্ব পাচ্ছে না ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনের হুমকি

দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের হুমকি এসেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে। যদিও কী ধরনের কর্মসূচি আসছে, সেটি চূড়ান্ত হয়নি এখনো।
তবে আন্দোলনের হুমকিকে আমলে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। তারা বলছে, আন্দোলনে তাদের নতিস্বীকার করানোর অবস্থানে নেই ঐক্যফ্রন্ট। আর অতীতের মতো সহিংসতা করলে প্রশাসনই ব্যবস্থা নেবে।

বিএনপি দুইবার আন্দোলনে গেছে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলকে নিয়ে। এবার অবশ্য তারা শক্তিবৃদ্ধি করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে।

যদিও আওয়ামী লীগ মনে করছে, ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, আ স ম আবদুর রবের জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য বা কয়েকজন ব্যক্তির কারণে জোটের এমন কোনো শক্তি নেই যে তারা আন্দোলন গড়ে তুলবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান বলেন, আন্দোলন করতে হলেও জনগণের সমর্থন দরকার। অতীতেও তারা অনেকবার আন্দোলনের কথা বলেছিল। কিন্তু জনগণ তাদের সঙ্গে যায়নি। জনগণতো যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে যাবে না। তারা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সঙ্গে থাকবে।’

‘তাছাড়া আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নাই। আওয়ামী লীগ জানে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনকে মোকাবেলা করতে হয়। আর যদি আন্দোলনের নামে অতীতের মতো কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ তা মোকাবেলা করবে। ’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।’

আপনার মতামত