ধর্ম

ফরজ গোসলের চার কারণ ও নিয়মবলী

ফরজ গোসলের-

যে সব কারণে গোসল ফরজ হয়

১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে।

২. নারী-পুরুষ মিলনে (সহবাসে বীর্যপাত হোক আর নাই হোক)।

৩. মেয়েদের হায়েয-নিফাস শেষ হলে।

৪. ইসলাম গ্রহণ করলে(নব-মুসলিম হলে)।

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়মঃ

১. গোসলের জন্য মনে মনে নিয়ত করতে হবে। বাড়তি মুখে কোন আরবি শব্দ উচ্চারণ করে নিয়ত করা বিদ’আত।

২. প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুতে হবে।

৩. এরপর ডানহাতে পানি নিয়ে বামহাত দিয়ে লজ্জাস্থান এবং তার আশপাশ ভালো করে ধুতে হবে। শরীরের অন্য কোন জায়গায় বীর্য বা নাপাকি লেগে থাকলে সেটাও ধুতে হবে।

৪. এবার বামহাতকে ভালো করে ধুইয়ে পেলতে হবে।

৫. এবার ওজুর নিয়মের মত করে ওজু করতে হবে তবে দুই পা ধুয়া যাবে না।

৬. ওজু শেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে।

৭. এবার সমস্ত শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে ৩ বার ডানে তারপরে ৩ বার বামে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশই বা কোন লোমও শুকনো না থাকে। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় পানি দিয়ে ধুতে হবে।

৮. সবার শেষে একটু অন্য জায়গায় সরে গিয়ে দুই পা ৩ বার ভালোভাবে ধুতে হবে।

মনে রাখতে হবেঃ

১. পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজতে হবে।

২. এই নিয়মে গোসলের পর নতুন করে আর ওজুর দরকার নাই, যদি ওজু না ভাঙ্গে।

বাদশা হযরত সোলায়মান (আঃ) এর মৃত্যুর বিস্ময়কর ঘটনা #একদিন এক রাত্রে তিনি তার দলবল নিয়ে…

বাদশা হযরত সোলায়মান (আঃ) এর মৃত্যুর বিস্ময়কর ঘটনা তিনি তার দল বল দিয়ে সব সময় বের হতেন।
হযরত সোলায়মান (আঃ) অদ্বিতীয় ও অনুপম সম্রাজ্যের অধিকারী ছিলেন। কেবল সমগ্র বিশ্বের নয়, বরং জিন জাতি বিহঙ্গকুল ও বায়ুর উপরও তাঁর আদেশ কার্যকর ছিল।

কিন্তু এতসব উপায় উপকরণ থাকা সত্বেও তিনি মৃত্যুর কবল থেকে রেহাই পেলেন না। নির্দিষ্ট সময়ে তার মৃত্যু আগমন করেছে। বায়তুল মোকাদ্দাসের নির্মান কাজ হযরত দাউদ (আঃ) শুরু করেছিলেন এবং হযরত সোলায়মান (আঃ) তা শেষ করেন। তাঁর মৃত্যুর পুর্বে কিছু কাজ অবশিষ্ট ছিল।

কাজটি অবাধ্যতা প্রবণ জিনদের দায়িত্বে ন্যস্ত ছিল। তারা হযরত সোলায়মান (আঃ) এর ভয়ে কাজ করত। তারা তাঁর মৃত্যু সংবাদ অবগত হতে পারলে তৎক্ষণাৎ কাজ ছেড়ে দিত। ফলে নির্মাণ অসমাপ্ত থেকে যেত। হযরত সোলায়মান (আঃ) আল্লাহর নির্দেশে এর ব্যবস্থা এই করলেন যে, মৃত্যু পূর্বক্ষণে তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে তার মেহরাবে প্রবেশ করলেন।

মেহরাবটি স্বচ্ছ কাঁচের নির্মিত ছিল। বাইরে থেকে ভিতরের সব কিছু দেখা যেত, তিনি নিয়মানুযায়ী এবাদতের উদ্দেশ্যে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন যাতে আত্মা বের হয়ে যাওয়ার পরও দেহ লাঠির সাহায্যে স্বস্থানে অনড় থাকে। যথা সময়ে তার আত্মা দেহপিঞ্জর ছেড়ে গেল।

কিন্তু লাঠির উপর ভর করে তাঁর দেহ অনড় থাকায় বাইরে থেকে মনে হত তিনি এবাদতে মশগুল রয়েছেন। কাছে গিয়ে দেখার সাধ্য জিনদের ছিল না। তারা জীবিত মনে করে দিনের পর দিন কাজ করতে লাগল।

অবশেষে এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলে বাইতুল মোকাদ্দাসের নির্মাণ কাজও সমাপ্ত হয়ে গেল। হযরত সোলায়মান (আঃ)-এর লাঠিতে আল্লাহ তায়ালা উইপোকা লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

কোরআন পাকে একে ‘দাব্বাতুল আরদ ’ বলা হয়েছে। উইপোকা ভিতরে ভিতরে লাঠি খেয়ে ফেলল। লাঠির ভর খতম হয়ে গেলে সোলায়মান (আঃ) এর অসার দেহ মাটিতে পড়ে গেল। তখন জিনেরা জানতে পারল তার মৃত্যু হয়ে গেছে।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে আরও বর্ণীত আছে যে, মৃত্যুর পর হযরত সোলায়মান (আঃ) লাঠিতে ভর দিয়ে এক বছর দন্ডায়মান থাকেন। -[কুরতুবী] কতক রেওয়াতে আছে, জিনরা যখন জানতে পারল যে, হযরত সোলায়মান (আঃ) অনেক পুর্বেই মারা গেছেন কিন্তু তারা টের পাইনি।

তখন তাঁর মৃত্যুর সময় কাল জানার জন্য একটি কাঠে উইপোকা ছেড়ে দিল। একদিন এক রাত্রে যতটুকু উইপোকা খেল সেটি হিসাব করে তারা আবিস্কার করল যে, হযরত সোলায়মান (আঃ)-এর লাঠি উইয়ে খেতে এক বছর সময় লেগেছে।

হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহ্তা য়া’লাকে জিজ্ঞেস করলেন, জান্নাতে আমার সাথে কে থাকবে? আল্লাহ্ পাক বললেন একজন কসাই! কসাইয়ের নাম শুনে মুসা (আঃ) খুবই আশ্চর্য হলেন। অনেক খোঁজ করার পর…

মা কে খেদমত করলে কি হতে পারে ? একটু পড়ুন একটু মন দিয়ে পড়ুন”হযরত মুসা (আঃ) এর জামানার একটি চমৎকার ঘটনা। আল্লাহর নবী হযরত মুসা (আঃ) একবার আল্লাহ্তা য়া’লা কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্!

জান্নাতে আমার সাথে কে থাকবে? জবাবে আল্লাহ্ পাক জানিয়ে দিলেন হে মুসা (আ:) একজন কসাই ! কসাইয়ের নাম শুনে মুসা (আঃ) খুবই আশ্চর্য হলেন। অনেক খোঁজ করার পর মুসা (আঃ) তাকে বের করলেন। দেখলেন, কসাই গোস্ত বিক্রিতে ব্যস্ত! সবশেষে কসাই একটুকরো গোস্ত একটি কাপড়ে মুড়িয়ে নিলেন।

অতঃপর বাড়ির দিকে রওয়ানা হলেন। মুসা (আঃ) তাঁর সম্পর্কে আরো জানার জন্যে অনুমতি নিয়ে পিছুপিছু তাঁর বাড়ি গেলেন। কসাই বাড়ি পৌঁছে গোস্ত রান্না করলেন। অতপর রুটি বানিয়ে তা গোস্তের ঝোলে মেখে নরম করলেন।

তারপর ঘরের ভিতরের কামরায় প্রবেশ করে শয়নরত এক বৃদ্ধাকে উঠিয়ে বসালেন । তারপর তার মুখে টুকরো টুকরো রুটি পুরে দিতে লাগলেন। খাওয়ার পর বৃদ্ধা কি যেন কানেকানে বললেন। অমনি কসাই মুচকি হাসলেন। দূর থেকে মুসা (আঃ) সব-ই দেখছিলেন। কিন্তু, কিছুই বুঝলেন না।

মুসা (আঃ)বৃদ্ধার পরিচয় এবং মুচকি হাসার বিষয়টি কসাইকে জিজ্ঞেস করলেন। কসাই বললেন, ওনি আমার মা আমি বাজার থেকে আসার পর সর্বপ্রথম আমার মাকে রান্না করে খাওয়াই। আর, মা খাওয়ার পর খুশি হয়ে আমার কানের কাছে এসে আল্লাহ্ তায়া’লার কাছে এই বলে দোআ করেন, “আল্লাহ্ তায়া’লা তোমাকে বেহেস্ত দান করুক এবং মুসা (আঃ) এর সাথে রাখুক”!

আমি এই দোয়া শুনে এই ভেবে মুচকি হাসি যে, কোথায় মুসা (আঃ)আল্লাহর নবী,আর কোথায় আমি একজন কসাই!! ইশ সে কত ভাগ্যবান সে কত দামি হয়ে গেল মায়ের খেদমত করার জন্য। সুবহানাল্লাহ্।। আল্লাহু আকবার।।।

ইয়া আল্লাহ্ আমাদের ভাগ্যে মা /বাবার খেদমত ওলীআউলীয়ার সহবত ,নবী (সা:)মহাব্বত নসিব করুন। আমাদের সকল কে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুণ, “আমিন” সুম্মা আমিন।

আপনার মতামত