জাতীয়

বন্ধুর লাশ বাসার সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাতভর প্রেমিকার সঙ্গে ফোনে কথা বলে পিন্টু!

বন্ধুর লাশ বাসার- অবশেষে নারায়ণগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যার জট খুলতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। মনের ভেতরে পুষে রাখা ক্ষোভ থেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে একাই নৃশংসভাবে খুন করেছেন পিন্টু। এরপর লাশ টুকরো করে ফেলে দেন নিজের ভাড়া বাসার সেপটিক ট্যাঙ্কে।

সেখানে সব টুকরোর সংকুলান না হওয়ায় খণ্ডিত পা দুটি ফেলা হয় বাসার পাশের একটি নর্দমার ড্রেনে। এরপর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একের পর এক চতুরতার আশ্রয় নেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। পুলিশের অব্যাহত জিজ্ঞাসাবাদে নতি স্বীকার করেন। জানান- কীভাবে, কী কারণে খুন করেছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন রাতে প্রবীরকে খুন করার পর দোতলা থেকে নিচে নামে পিন্টু। এরপর প্রায় ৪০ মিনিট প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলে। পিন্টু যখন প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলছিল তখন তার ফ্ল্যাটে পড়েছিল ‘প্রিয়’ বন্ধু প্রবীরের রক্তাক্ত লাশ। কথা বলার মাঝখানে বিরতি দিয়ে সে লাশ ছয় টুকরো করে সিমেন্টের বস্তায় ভরে। এরপর বস্তাসহ সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। এভাবে ২১ দিন নিজের ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংকিতে লাশ রেখে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন পিন্টু।

সামান্য নকশাকার থেকে কোটি টাকার স্বর্ণের দোকানের মালিক বনে যাওয়া পিন্টু সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। পিন্টু ২০ থেকে ২২ বছর ধরে এই স্বর্ণপট্টিতে রয়েছে। তার বাড়ি কুমিল্লার চন্দনপুরে। স্বর্ণালঙ্কারে নকশা করার কাজ শেখার মাধ্যমে তার এই লাইনে যাত্রা শুরু।

স্বর্ণ পোলিশ ও নকশার কাজ করতে গিয়ে প্রবীরের সঙ্গে পিন্টুর বন্ধুত্ব হয়। স্বর্ণ বিক্রি ও বন্ধক নিয়ে প্রবীর ও পিন্টুর মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

একটি সূত্র জানায়, ইতালি প্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো প্রায় অর্ধকোটি টাকা সুদের ব্যবসায় খাটা ছিল প্রবীরের। আর এ ব্যবসার অংশীদার ছিলেন পিন্টু। ব্যবসার হিসাবপত্রও ছিল পিন্টুর কাছে। এই টাকা ফেরত দেয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

মামলার তদন্তকারী দলের সদস্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, খুব সুচতুর ও ঠাণ্ডা মাথার খুনি বলেই পিন্টু এতটা স্বাভাবিক ছিল।

আপনার মতামত