আন্তর্জাতিক

ভারতীয় রুপিকে ধরে ফেলছে টাকা!

ভারতীয় রুপিকে- ভারতীয় মুদ্রা রুপির রেকর্ড দরপতন ঘটেছে। গত তিন যুগের মধ্যে বর্তমান সময়ে এসে রুপিকে ধরে ফেলার উপক্রম করেছে টাকা। ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ৮৫ রুপি। আবার লেনদেন হুন্ডির মাধ্যমে হলে এর বেশিও মিলছে।

বিষয়টি সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের খুশির আমেজ ছড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ ভারতের বড় বড় শহরের শপিং মলে বাংলাদেশিদের কেনাকাটাও বেড়েছে। ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বেড়েছে চোরাচালানও।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভারতে রুপির মান নিম্নমুখী হতে শুরু করে। ফলে রুপির বিপরীতে টাকার মূল্যমান বাড়তে থাকে।

ডলারের দাম বৃদ্ধি ও সংকট, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে রুপির এই দরপতনে টাকার মর্যাদা বেড়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশি মুদ্রা ১০০ টাকায় সমান সমান ভারতীয় ১০০ রুপি পাওয়া যেত। এরপর টাকার মান কমতে থাকে। একপর্যায়ে তা রুপির চেয়ে অর্ধেকেরও কমে এসে দাঁড়ায়।

দরপতনের কারণে অনেকেই টাকা দিয়ে রুপি কিনে রাখছে। পর্যটনসহ বিভিন্ন কারণে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরাও বাড়তি সুবিধা ভোগ করছে।

একই কারণে আগের চেয়ে বেশিসংখ্যক পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে ভারত থেকে পণ্য আমদানি বেড়েছে। বেড়েছে চোরাচালানও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের পেট্রাপোলে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের স্বত্বাধিকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন-চার দিন ধরে বাংলাদেশি ১০০ টাকায় ভারতীয় ৮৫ রুপি পাওয়া যাচ্ছে। মুদ্রা বিনিময়ের এই হার গত তিন যুগের মধ্যে রেকর্ড।

পেট্রাপোলের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়কারী পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ‘জ্বালানি তেল কেনার জন্য আমাদের প্রচুর পরিমাণ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। বর্তমানে ১০০ টাকায় আমরা ভারতীয় ৮৫ রুপি দিচ্ছি। এ কারণে আগের চেয়ে ভারতে পর্যটক আসার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

কলকাতার রিপন স্ট্রিটের ব্যবসায়ী মুন্নাভাই বলেন, ‘রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কলকাতা নিউ মার্কেট এলাকায় কেনাকাটা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে।

চোরাচালানের পাশাপাশি ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে নানা কারণে রুপির দরপতন হওয়ায় টাকা সামনে চলে এসেছে।’

খুলনার খালিশপুর থেকে আসা পর্যটক ইয়াসিন আলী খান বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছি। টাকা ভাঙিয়ে ১০০ টাকার বিনিময়ে ৮৫ রুপি পেয়ে খুব খুশি লাগছে। মনে হচ্ছে, আগামী দিনে টাকা রুপিকে ধরে ফেলবে।’

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রুপির দরপতনের কারণে আমরা লাভবান হচ্ছি।

তবে প্রতিবেশী দেশের মুদ্রার মান কমে যাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কেও আমাদের সতর্ক থাকা দরকার। অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি বন্ধ, রেমিটেন্স বৃদ্ধি, গার্মেন্ট-সামগ্রীর রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটরিংয়ের কারণে টাকার মান বেড়েছে।

শুধু রাশিয়া নয়, দুবাইয়েও দেখা গেল আমাদের গর্ব করার মতো সেই দৃশ্য

বর্তমান ক্রীড়া জগতে জনপ্রিয় খেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ক্রিকেট। বাইশ গজের ক্রিজে প্রতি বলে বলে যেমন চলে প্রতিযোগিতা, তেমনি গ্যালারিতেও চলে বাঁধ ভাঙ্গা গর্জন।

শুধু রাশিয়া নয়, দুবাইয়েও দেখা গেল আমাদের গর্ব করার মতো সেই দৃশ্য

এসবের মাঝেই অনেক সময় এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায় যা পুরো বিশ্বকে অবাক করে দেয়। তেমনই এক ঘটনা ঘটে গেল গতকাল এশিয়া কাপের বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী ম্যাচে।

এদিন ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর আমাদের প্রবাসী বাঙালি দর্শকরা গোটা স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে দিয়ে গেছেন। তাদের পরিচয় না জানা গেলেও গায়ে পরা টি-শার্ট দেখে বোঝা যাচ্ছে সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। কেননা গায়ে পরা টি-শার্টে লেখা ছিল ‘চট্টগ্রাম টাইগারস’।

এদিন ম্যাচটিকে ঘিরে মাঠে প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। ম্যাচের শুরু থেকে একদম শেষ পর্যন্ত, এমনকি ম্যাচ শেষ পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও গ্যালারি থেকে শোনা গেছে ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ স্লোগান। দূর দেশে খেলতে গিয়েও মাশরাফিরা যেন পাচ্ছিলেন নিজ মাটির গন্ধ, নিজ দেশের সমর্থন।

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী সেই ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। রানের হিসাবে প্রতিযোগিতায় এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়।

তাই এই প্রবাসী বাঙালিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুল করেননি টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। শুধু ধন্যবাদ জানিয়েই ক্ষান্ত হননি বাংলাদেশ দলপতি, আসরে নিজেদের প্রথম জয়টাও উৎসর্গ করেছেন প্রবাসী বাঙালিদের জন্যই।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের সঙ্গে জাপান হেরে গেলেও ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে থাকা সব ময়লা নিজ হাতে পরিষ্কার করে গিয়েছিলেন জাপানিরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছিল। এবার প্রবাসী টাইগার ভক্তরাও ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে মাঠ ত্যাগ করলেন। যা এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।

বন্যার পানির দানবীয় দেয়ালে বন্দী আবহাওয়াবিদ!

প্রবল ঘূর্ণিঝড় আর বৃষ্টিতে তীব্র বন্যা যখন দানবীয় আকার ধারণ করল, সেই পানিকে আর স্বাভাবিক পর্যায়ের কিছু মনে হচ্ছিল না।

বন্যার পানির দানবীয় দেয়ালে বন্দী আবহাওয়াবিদ!

সমুদ্র থেকে টেনে আনা ঘোলা সেই জলরাশিকে মনে হচ্ছিল ভয়ানক অশুভ, অনতিক্রম্য একটি দেয়াল, যা ১৫-১৬শ’ কেজি ওজনের বড় বড় গাড়ি তুলে ফেলার, চলার পথে এলাকার পর এলাকা এক আঘাতে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার ক্ষমতা রাখে।

অথচ মাত্র ৫ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার আবহাওয়াবিদ এরিকা নাভারো পেছনে এই ৯ ফুট উঁচু কলজে কাঁপানো পানির স্রোতের দেয়াল নিয়েও একেবারে শান্ত ভঙ্গিতে ক্যামেরার সামনে কথা বলে যাচ্ছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝানোর জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু ছাড়া আর বিন্দুমাত্র উৎকণ্ঠা নেই তার মাঝে।

যদিও দেখে মনে হচ্ছে, অদৃশ্য একটি কাচের দেয়াল দিয়ে কোনোমতে আটকে রাখা হয়েছে পানির এই বিপুল স্রোতকে। যে কোনো সময় দেয়াল ভেঙে এরিকার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে বন্যার পানি।

এর মাঝে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক স্বরে জোর দিয়ে বলছেন এরিকা: ‘পানি যদি এই ৯ ফুট সীমা পর্যন্ত চলে আসে, তাহলে বুঝতে হবে এটি একেবারেই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি। আপনি যদি এমন অবস্থায় পড়েন, দয়া করে তক্ষুণি সেই এলাকা থেকে সরে পড়ুন!’

যে কেউ দৃশ্যটি দেখলে আঁতকে উঠবে। কিন্তু এরিকার এই শান্ত থাকতে পারার পেছনে রহস্য একটাই: তিনি নিজেকে প্রতি মুহূর্তে বুঝিয়েছেন, পেছনে থাকা ভয়ঙ্কর পানির দেয়ালটি আসল নয়, ভার্চুয়াল!

আসলেই তাই। ‘ইমারসিভ মিক্সড রিয়েলিটি’ (Immersive Mixed Reality IMR) হিসেবে পরিচিত নতুন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিষয়ক টিভি স্টেশন দ্য ওয়েদার চ্যানেল তৈরি করেছে এমন একটি স্টুডিও সেট।

এই সেটে অ্যাংকরের পেছনে এবং আশপাশে সবুজ স্ক্রিন বা ক্রোমা ব্যবহার করে অত্যাধুনিক গ্রাফিক্সের সাহায্য নেয়া হয়। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার থেকে পাওয়া প্রতি মুহূর্তের পূর্বাভাসমূলক তথ্য-উপাত্তকে কাজে লাগিয়ে সেই গ্রাফিক্সকে এমন ভার্চুয়াল দৃশ্যে পরিণত করা হয়, যা দেখলে যে কেউ তাকে বাস্তব ভাবতে বাধ্য।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনায় হারিকেন ফ্লোরেন্সের আঘাতে তীব্র বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় পরিস্থিতি সর্বোচ্চ কতটা খারাপ হতে পারে এবং ওই সময় আক্রান্তদের কী করণীয়, তা বোঝাতে এরিকা নাভারোর জন্য ওই গ্রাফিক্সটি তৈরি করা হয়েছিল।

যদিও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পানি ৯ ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর মতো ভয়ঙ্কর অবস্থা হওয়ার কথা না। কিন্তু তারপরও সাবধানতার জন্য এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল।

আবহাওয়াজনিত জরুরি কোনো পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অবস্থা বোঝাতে এই প্রযুক্তি এখন ব্যবহার শুরু হয়েছে, যা আবহাওয়ার খবরকে একদিকে যেমন আকর্ষণীয় করবে, তেমনি দর্শকদের জন্য পূর্বাভাসগুলো বোঝাটাও সহজ হবে।

আপনার মতামত