জাতীয়

যে কারণে নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ ২৩শে ডিসেম্বর?

ভোট গ্রহণের তারিখ- বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলা মতপার্থক্য আর বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা আগামী ২৩শে ডিসেম্বর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে বলে ঘোষণা দেন।

নির্বাচনে ভোট গ্রহণে সীমিত আকারে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন।

মি. হুদা বলেছেন, “তাদের মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থেকে থাকলে রাজনৈতিকভাবে তা মীমাংসার অনুরোধ জানাই। প্রত্যেক দল একে অপরের প্রতি সহনশীল, সম্মানজনক এবং রাজনীতিসুলভ আচরণ আমি প্রত্যাশা করছি।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, “সংবিধান মোতাবেক ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ সালের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্য বাধকতা রয়েছে।”

বর্তমান সংসদের মেয়াদ রয়েছে ২০১৯ সালের ২৮শে জানুয়ারি পর্যন্ত। সংবিধান অনুযায়ী সরকার সংসদ বহাল রেখে এই মেয়াদের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে চেয়েছে ।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক জোট, অর্থাৎ বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে মেয়াদ পূর্তির পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। সেজন্য তারা তফসিল পিছানোরও দাবি করেছিল।

কিন্তু তাদের দাবি না মেনে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলো। সংসদের মোট ৩০০টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন করবেন প্রার্থীরা।

এর আগে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন বর্জন করেছিলো দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তাদের পুরনো ২০-দলীয় জোটের মিত্ররা।

ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন এবং নির্বাচনটিকে দেশে বিদেশে বিতর্কিত হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচন নিয়ে সেবার যে ধরনের সংকট ছিল সেই একই ধরনের সংকটময় পরিস্থিতি এখনো রয়েছে। বিএনপি একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করে আসছে গত নির্বাচনের সময় থেকেই।

তবে এবার তারা নতুন গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোটের অংশ হিসেবে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছে। জোটের নেতা ড. কামাল হোসেন এখনই তফসিল ঘোষণা না করতে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন।

সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন, নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি সহ সাত দফা দাবি রয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট নির্বাচনের তারিখ না পেছানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সিইসি নূরুল হুদা নির্বাচন পরিচালনায় সবার সহযোগিতা, সাহায্য এবং সমর্থন কামনা করেছেন। তিনি আশা করেছেন একটি ‘অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য’ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে কমিশন সফল হবে।

ইভিএমের ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। “আমরা বিশ্বাস করি ইভিএম ব্যবহার করা গেলে নির্বাচনের গুণগত মান উন্নত হবে এবং সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হবে।”

তিনি জানিয়েছেন, সরাসরি অথবা অনলাইনেও মনোনয়নপ্রত্র দাখিলের বিধান রাখা হয়েছে। সিইসি বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। সকলের জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, ভোটার, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, প্রার্থীর সমর্থক ও এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃপক্ষের উপর কঠোর নির্দেশ থাকবে।

এদিকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তফসিল ঘোষণার মধ্যদিয়ে নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কেটে গেছে বলে জানিয়েছে দলটি। সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও আশাবাদ তাদের।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। এরপর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে দলের পক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন: আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সে মর্মে সিডিউল ঘোষণা করেছে। তফসিল ঘোষণার পর সকল রাজনৈতিক দল একটা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এটি আমাদের প্রত্যাশা

ঐক্যফ্রন্টের পুনঃতফসিলের দাবির প্রেক্ষিতে হানিফ বলেন: সেটার কোন প্রয়োজন নেই। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই চায় জনগণের সেবা করতে। সেজন্য নির্বাচনে আসতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় বসতে হবে। তারা যদি জনগণের সেবা করতে চায়ই, নির্বাচনে আসবে এমনটাই আমরা প্রত্যাশা করি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে কোন শঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি বলেন: আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন যে সিডিউল ঘোষণা করেছে, সে অনুযায়ী একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আমরা মনে করি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হয়েছিল; সিডিউল ঘোষণার মধ্য দিয়ে তা কেটে গেছে। দেশের মানুষ এখন আনন্দমুখর। তারা বিশ্বাস করে নির্দিষ্ট সময় ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ নভেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ২৯ নভেম্বর।

আপনার মতামত