বিনোদন

মা বাহারাইন, বাবা-ছেলে ঢাকা, ঈদে কি দেখা হবে বাবা-ছেলের?

মা বাহারাইন- ঢাকাই ছবির সুপারস্টার শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ভালোবেসে সুখের সংসার সাজিয়েছিলেন গোপনে। তাদের ঘর আলো করে আসে পুত্র সন্তান আব্রাম খান জয়। পুত্র জয়কে শাকিব মেনে নিলেও মেনে নেননি অপুকে। শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক গড়ায় বিচ্ছেদে।

তাদের বিচ্ছেদের পর থেকে মায়ের কাছেই আছেন জয়। ছেলেকে খুব মিস করেন শাকিব খান, এমনটা প্রায়ই বলে থাকেন তিনি। এইতো কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, “ছেলে তো খুব ছোট। আপনি এত আউটডোরে থাকেন, ও আপনাকে মিস করে?’

জবাবে শাকিব খান বলেছেন, ‘করে তো বটেই। আমিও ভীষণ মিস করি। কিন্তু কী করব। কাজ তো করতেই হবে।” একই শহরে থাকলেও নিয়মিত হয়না বাবা-ছেলের দেখা। আর একদিন পর পবিত্র ঈদুল আযহা। এবারের ঈদে কি বাবা-মা কাউকেই কাছে পাচ্ছে না ছোট্ট আব্রাহাম খান জয়?

এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। কারণ, ঈদুল আজহার সময় দেশের বাইরে থাকবেন (আব্রাহামের মা) চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বাহরাইনে একটি শোয়ে অংশ নিতে আজ সোমবার সকালের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন অপু। যদিও ঈদের পরের দিনেই দেশে ফিরবেন অপু। কিন্তু তাতে কি?

এবারতো একসঙ্গে করা হলো মা-ছেলের ঈদ! এদিকে শাকিব খান সব-সময় শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। দেশে-বিদেশে নিয়মিত যাতায়াত ও অবস্থান করতে হয়। যার দরুন একমাত্র ছেলের সঙ্গে ঠিকমতো দেখাই হয় না।

কথাটি শাকিব নিজেই অকপটে শিকার করছেন। সারা বছর শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকলেও এবারের ঈদ ঢাকায় করবেন শাকিব। অনান্য ঈদে তার বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেলেও এবার পাচ্ছে মাত্র একটি সিনেমা ‘ক্যাপ্টেন খান’। তাই শাকিব ভক্তদের সিনেমাটিকে ঘিরে প্রত্যাশাও বেশি।

আর শাকিব নিজেই গনমাধ্যমে বলেছেন ঈদের দিন দর্শকদের সঙ্গে বসে সিনেমা দেখবেন। ভাগাভাগি করবেন ঈদের আনন্দ। এতে বোঝা যাচ্ছে খান সাহেব বেশ ব্যস্তই থাকবেন দিনটিতে। কিন্তু কটতা ব্যস্ত থাকবেন তিনি?

এই ব্যস্ততার মাঝে কিছুক্ষণ সময় হবে তার একমাত্র ছেলে আব্রাহের সঙ্গে দেখা করার জন্য, কিছুটা সময় বাপ-ছেলে কি কাটাবেন একসাথে? সে প্রশ্ন তোলা থাকলো সময়ের হাতে।

সময়ই বলে দিবে একমাত্র ছেলের জন্য বাবার হৃদয়ে টান কতটুকু। আর যদি বাবা-ছেলের দেখা না হয় তাহলে বাবা-মা বিহীন ঈদ কাটাতে হবে শাকিব-অপুর একমাত্র ছেলে ছোট্ট আব্রাহাম খান জয়কে।

অভিনেত্রী নওশাবার ঈদ কারাগারেই
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় মডেল ও অভিনয়শিল্পী কাজী নওশাবা আহমেদের জামিন নাকচ করেছেন আদালত। আর এ ঈদে নওশাবাকে কারাগারেই ঈদ করতে হচ্ছে।

আজ সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার এ আদেশ দেন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) শওকত আকবর জানান, আজ নওশাবার জামিন আবেদন করা হলে বিচারক তা নাকচ করেন। তবে নওশাবা অসুস্থ থাকায় তাঁর আইনজীবী উন্নত চিকিৎসার জন্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য অনুমতি চাইলে বিচারক তাতে সায় দেন।

গত ৪ আগস্ট রাজধানীর জিগাতলায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় দুই ছাত্রের মৃত্যু এবং একজনের চোখ তুলে ফেলার গুজব ফেসবুকে ছড়ানোর অভিযোগে উত্তরা এলাকা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়।

পরের দিন ৫ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম নওশাবার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ড শেষে ১০ আগস্ট তাঁকে আদালতে হাজির করে ফের রিমান্ডের জন্য আবেদন করে ডিবি পুলিশ। আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

-এনটিভি অনলাইন

পশু ক্রয় করলে চাঁদা দিতেই হবে, তর্ক করলে টাকার পরিমান বাড়বে!

পশু ক্রয় করলে চাঁদা দিতেই হবে, তর্ক করলে টাকার পরিমান বাড়বে!

পশু ক্রয় করছেন হাজার হাজার টাকা। আমাদের একশ টাকা দিন। বছরে তো একদিনই ভাই। আমরা হাট এলাকার বাসিন্দা। পশু ক্রয় করলে চাঁদা দিতেই হবে।

তর্ক করলে টাকার পরিমান বাড়বে। টাকা দিয়ে গরু নিয়ে বাড়ি যান, নইলে অসুবিধায় পড়বেন, এই কথাগুলো চাঁদাবাজ চক্রের। বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছেন ক্রেতারা। অনেক সময় ক্রেতারা টাকা না দিলে হট্রগোল সৃষ্টি হয়। তখন বিপাকে পড়ে পশুবাহী যানবাহনের চালকরা চাঁদার টাকা দিয়েছে।

এ যেন মগের মুল্লুক !

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা সদরের প্রধান পশুর হাট ওমরপুরে। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাট বসে এখানেই। কিন্তু পশু ক্রয় করেই বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা।

বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা সহ বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা আসেন নন্দীগ্রামের ওমরপুর হাটে। পশু, কাঠের আসবাবপত্র, চাল, দা-বটি, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী পাওয়া যায় এই হাটে।

এজন্যই দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতাদের আগমনে ওমরপুর হাটে ভিড় লেগে যায়। এই হাটে ক্রেতাদের জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে ওমরপুর এলাকার ফেরদৌস আলম নামের এক শ্রমিকলীগ নেতা ও নাজির হোসেন নামের এক আওয়ামীলীগ নেতা।

গত শুক্রবার কোরবানির পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে চাঁদাবাজির চিত্র। গরু ক্রয় করে ভটভটিতে নিয়ে বাড়ির পথে যাচ্ছেন ক্রেতারা। কিছু পথ যেতেই ভটভটি দেখে হাটের পাশে মহাসড়কের ওপর চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা ছুটে এলেন।

১০টি ভটভটি লাইনে থেমে গেছে। গরুসহ একটি ভটভটি প্রতি একশ টাকা করে চাইছে শ্রমিকলীগের কয়েকজন কর্মী। টাকা না দিতে চাইলে তর্ক সহ অকথ্যভাষায় গালিগালাজ।

অনেক সময় ঘটনার পর ভটভটি আটকে রেখে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় ওই চক্রটি। এছাড়া প্রত্যেক অটো থেকে নেয়া হয় ৫০ টাকা। পশুর হাটে অবৈধভাবে এই চাঁদা নেয়ার সময় সরেজমিনে গিয়ে গোপনে মোবাইল ফোনে কয়েকটি ভিডিও ধারণ করে সময়ের কন্ঠস্বর অনুসন্ধানী দল।

পশুর হাট নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজি বন্ধে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশের কঠোরতাও চোখে পড়ে। চাঁদাবাজির বিষয়টি পুলিশ সদস্যরা টের পেলেই সেখানে ছুটে যান। কিন্তু ওই চক্রের সদস্যরা পুলিশ দেখলেই কিছুটা আড়ালে যায়।

পুলিশ চলে গেলেই আবারো শুরু করে চাঁদাবাজি। পশুবাহী ভটভটি ও অটো থেকে চাঁদা নেয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রায় ১০ বছর ধরেই এই চক্রটি চাঁদাবাজি করে আসছে।

এই চক্রের নেতৃত্ব নিয়ে আসছেন ওমরপুর এলাকার শ্রমিকলীগ নেতা ফেরদৌস আলম। প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় কতিপয় কিছু গণমাধ্যম কর্মীদের ম্যানেজ করে এই চাঁদাবাজ চক্রটি লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা নেতা নাজির হোসেন নিজেই গরু প্রতি চাঁদা নিয়েছেন ২০টাকা থেকে ৩০টাকা। ফেরদৌস ও নাজিরের দুটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহকালে আফজাল হোসেন, মেহের আলী, এখলাস, আবু হাসান, উজ্জল হোসেন, আলী রেজা ও এনামুল সহ প্রায় অর্ধশত ক্রেতাদের সাথে কথা এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ক্রেতারা সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, কোরবানির পশু কিনতে বগুড়া সহ বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা ওমরপুর হাটে এসে পশু কিনেছেন।

কিন্তু পশু কিনে ফেরার পথে হাটের দুটি রাস্তার মুখে মহাসড়কের ওপর উঠতেই চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা পশুবাহী ভটভটি আটকিয়ে জোর করে একশ টাকা করে নিয়েছে। টাকা না দিলে গালিগালাজ করা সহ ভটভটি আটকিয়ে রেখে ডাবল টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। ভিডিও এবং ছবি আছে জানালে ওই চক্রটি চাঁদা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

চাঁদা নেয়ার ভিডিও চিত্র সহ তথ্যটি বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞাকে ফেসবুকের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

পশুবাহী ভটভটি ও অটো থেকে চাঁদা নেয়ার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শ্রমিকলীগ নেতা ফেরদৌস আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ৯ মাস ধরে ভটভটি ও অটো থেকে চাঁদা নেয়া বন্ধ রেখেছি। আমার কর্মীরা তো ঈদ করবে ভাই।

তবে কোরবানির ঈদে পশুর হাটে একদিনই টাকা নেয়া হয়েছে। আমরা স্থানীয় হাট এলাকার বাসিন্দা। এলাকার ছেলেরা একদিন চাঁদা নিয়েছে। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, এরকম আর কখনো হবে না।

এদিকে গরু প্রতি টাকা নেয়ায় অভিযুক্ত স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা নাজির হোসেনও মুঠোফোনে চাঁদা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, আমরা অভাবগ্রস্ত মানুষ। বছরে একটি ঈদেই ক্রেতাদের কাছ থেকে আমরা টাকা নিয়ে থাকি।

ক্রেতারা লাখ লাখ হাজার হাজার টাকার পশু কিনছেন, সেখানে মাত্র ২০টাকা তারা খুশি হয়েই আমাদের টাকা দেয়।

এপ্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত