আন্তর্জাতিক

রাস্তায় ধরে মুসলিম নারীদের বোরকা কেটে দিচ্ছে পুলিশ !

মুসলিম নারীদের- চীনের উইঘুরে মুসলিম নারীদের ওপর নতুন নির্যাতন শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। রাস্তায় বের হওয়া নারীদের ধরে জোর করে বোরকা বা রোরকা সদৃশ লম্বা পোষাক কেটে ফেলা হচ্ছে। খবর ইয়ানি শাফাকের।

দীর্ঘ দিন ধরে চীনের উইঘুরে মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। রমজান মাসে সেখানে মুসলমানদের রোজা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা ও মুসলিম প্রথা অনুযায়ী শিশুদের নাম রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চীনের উইঘুর এলাকায় মুসলিম নারীদের পোষাক বিশেষ কোমরের নিচে পোষাক ঝুলে থাকলে বা বোরকা সদৃশ হলে তা কেটে নেয়ার নতুন এ নির্যাতন শুরু করেছে পুলিশ।

ডকুমেন্টিং এগেইনিস্ট মুসলিম (ডিওএম) নামক একটি সংগঠন জানিয়েছে, মুসলিম নারীদের পোষাক লম্বা হলে রাস্তার মাঝে তাকে ধরে তার পোষাক ছোট করে কেটে দেয়া হচ্ছে।

অন্যরা যা পড়ছেঃ

যে কারাগারে রাখা হয়েছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার মেয়ে মরিয়ম শরিফকে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার মেয়ে মরিয়ম শরিফকে লাহোর বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (১৩ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি বিমানে লাহোরের আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ ও তার মেয়ে মরিয়ম।

এসময় কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিমানটির ভেতর প্রবেশ করে যাত্রীদের বের হয়ে যেতে বলেন। পরে তিন সদস্যের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) টিম নওয়াজ ও মরিয়মের পাসপোর্ট জব্দ করে। এর কিছুক্ষণ পরই তাদেরকে জিম্মায় নেয়।

জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর একটি ভাড়া করা বিমানে করে নওয়াজ ও তার মেয়েকে লাহোর বিমানবন্দর থেকেই ইসলামাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়। ইসলামাবাদ থেকে তাঁদের রাওয়ালপিন্ডির রিয়ালের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে নওয়াজ ও মরিয়মের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। একই সময়ে ‘শিহালা ট্রেনিং কলেজ রেস্ট হাউস’কে সাব-জেল ঘোষণা করে ইসলামাবাদের চিফ কমিশনার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং মরিয়ম নওয়াজকে রাখতে শিহালা ট্রেনিং কলেজ রেস্ট হাউসকে সাব-জেল হিসেবে ঘোষণা করা হলো। এরপর আরেকটি প্রজ্ঞাপনে শিহালা সাব-জেলে শুধু মরিয়মকে রাখার নির্দেশ জারি করা হয় এবং আগের প্রজ্ঞাপনটি অকার্যকর ঘোষণা করা হয়।

তবে নওয়াজ শরিফকে রিয়ালের কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হবে না কি অন্য কোথাও নেওয়া হবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবু ধাবিতে যাত্রাবিরতির সময় নওয়াজ শরিফ সাংবাদিকদের বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই তিনি প্রস্তুত। পাকিস্তান যে পরিণতির দিকে যাচ্ছে, তা বদলাতে তিনি দেশে ফিরছেন।

লন্ডন থেকে দেশের পথে রওনা হয়ে এক ভিডিও বার্তায় নওয়াজ বলেন, দেশ আজ এক সঙ্কটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। আমার পক্ষে যা করা সম্ভব ছিল আমি তা করছি। আমি জানি, আমার ওপর দশ বছরের কারাদণ্ড ঝুলছে; আমি জানি, আমাকে সোজা জেলে পাঠিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু পাকিস্তানের মানুষকে আমি বলতে চাই- আমি এটা করছি তাদের জন্যই।

এদিকে, নওয়াজের দেশে ফেরার খবরে তার দল পিএমএল-এন-এর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী লাহোরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। কিছু বিক্ষোভকারী বিমানবন্দরের ভেতর ঢুকতে সক্ষম হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য। লাহোরে মোবাইল সার্ভিসও বন্ধ রাখা হয়।

গত ৬ জুলাই দুর্নীতির দায়ে নওয়াজ শরিফকে ১০ বছর এবং তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় একটি আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি নওয়াজকে ৮০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড ও মরিয়মকে ২০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড জরিমানা করা হয়।

আদালত একইসঙ্গে মরিয়মের স্বামী ক্যাপ্টেন মুহাম্মাদ সফদারকেও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরইমধ্যে সফদারকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পার্সটুডে