আন্তর্জাতিক

ফুটে উঠল ‘মৃত্যুর ফুল’, ১৫ বছরে এক বার বিরল দৃশ্য!

মৃত্যুর ফুল- হান্টিংটন লাইব্রেরিতে মৃত্যুকুসুম দেখতে আসা উৎসাহীদের মতে, এই ফুল দেখা সারা জীবন মনে রাখার মতো এক ঘটনা।

তার নাম ‘মৃত্যুকুসুম’। না কোনও রহস্য উপন্যাস থেকে উঠে আসা কল্পনা নয়, সত্যিই এই ফুল রয়েছে এই পৃথিবীতেই। যার ডাক নাম ‘কর্পস ফ্লাওয়ার’।

সম্প্রতি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার হান্টিংটন লাইব্রেরির বাগানে পুটে উঠল এই ফুল, যা দেখতে হাজারে হাজারে ভিড় জমাচ্ছেন কৌতূহলীরা।

সংবাদ সংস্থার খবরে প্রকাশ, এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অ্যামরফোফ্যালাস টাইটানাম’। কিন্তু এক বিশেষ কারণে এই ফুলকে ‘স্টিংক’ বলে ডাকা হয়।

কারণটি এই— ফোটার পরে এই ফুল থেকে যে গন্ধ ছড়ায়, তা পচা মাংস বা মৃতদেহের গন্ধ। হান্টিংটন লাইব্রেরির মুখপাত্র লিজা ব্ল্যাকবার্ন জানিয়েছেন, এই ফুল ফুটতে সময় নেয় ১৫ বছর। কিন্তু এর ফুটে ওঠার প্রকৃত সময় মাত্র ২৪ ঘণ্টা।

২০১৪-এর ২৩ অগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ কর্পস ফ্লাওয়ারটি ফুটেছিল সান ম্যারিনোয়। হান্টিংটন লাইব্রেরিতে মৃত্যুকুসুম দেখতে আসা উৎসাহীদের মতে, এই ফুল দেখা সারা জীবন মনে রাখার মতো এক ঘটনা।

এক সময়ে এই ফুল ফুটতো জাভা ও সুমাত্রার কিছু কিছু অঞ্চলে। পরে উদ্ভিদবিদ্যা চর্চাকারীরা তা বিভিন্ন দেশে নিয়ে যান। বলাই বাহুল্য, মার্কিন মুলুকে এই ফুল পৌঁছেছিল বোট্যানি-চর্চার হাত ধরেই।-এবেলা

মাছ ধরেন না, তাহলে কেন তিনি প্রতিদিন নদীতে জাল ফেলেন?

দারুণ সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রতিদিন লেকের পানিতে জাল ফেলেন তিনি। তবে মধ্য চীনের ডংজিয়াং লেকের নৌকায় রঙিন পোশাক পরা সাবেক এ মৎস্যজীবী মাছের জন্য নয়, জাল ফেলেন একটি অদভুত কারণে।

মাছ ধরেন না, তাহলে কেন তিনি প্রতিদিন নদীতে জাল ফেলেন?

অন্যদের আনন্দ দেওয়ার জন্য ডংজিয়াং লেকে জাল ফেলেন ৬৩ বছর বয়সি হুয়াং চ্যাংতিয়ান। আর তাই এখন তার পেশা আর মৎস্যজীবী বলা যায় না বরং অভিনেতাই বলতে হবে!

লেকটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। এখানে সর্বদাই ভিড় করেন পর্যটকরা। তাদের আনন্দের জন্যই জাল ফেলেন হুয়াং। পর্যটকরা তার জাল ফেলার দৃশ্য দেখে আনন্দ পায়। ছবি ও ভিডিও করে তার কর্মকাণ্ড।

বিখ্যাত লেকটি দেখাশোনা করে হুনান ডংজিয়াং লেক টুরিজম কম্পানি। সে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেই কাজ করেন সাবেক এ মৎস্যজীবী।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখানে চারপাশে রয়েছে অপূর্ব সুন্দর পর্বত ও স্বচ্ছ পানি। পাহাড়গুলো খুব সুন্দর আর এজন্য দারুণ কুয়াশাও তৈরি হয়। সুবিধামতো ছবি তোলার জন্য পর্যটকদের সামনে বিভিন্ন কোন থেকে জাল নিক্ষেপ করতে হয়।

তিনি বলেন, আমার তিনটি জাল রয়েছে- সাদা, হলুদ ও লাল। এগুলো দিয়ে সুন্দর ছবি তোলা যায়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সে এলাকায় সবুজ পর্যটনকে উৎসাহিত করছে। আর এ কারণে স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হচ্ছে।

মাছটির দাম উঠল ৮ লক্ষ!

ভারতের এক জেলের জালে মাছটি ধরা পড়েছে। প্রায় ৮ লক্ষ টাকায় বিক্রি হল মাছটি। ভোলা মাছটির ওজন ৪০ কেজি। বুধবার দীঘার মোহনায় নিলামে উঠে মাছটি। সেখানেই মাছটি কিনেছেন দেবাশিষ জানা নামক এক মৎস ব্যবসায়ী।

মাছটির দাম উঠল ৮ লক্ষ!

জানা গেছে, মাছটি বিক্রির জন্য আড়তে নিয়ে গেলে কেজি প্রতি মাছটির দাম দাড়ায় ১৯ হাজার টাকা। সেই হিসেবে ৩৮ কেজি ৫০০ গ্রামের মাছটির দর হয় ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এমআরএফটি সংস্থা কিনে নেয় বিশাল আকারের ভোলা মাছটি।

মাছটি তেলিয়া ভোলা শংকর প্রজাতির মাছ। এই মাছ সাধারণত গভীর সমুদ্রে থাকে। তবে আর পাঁচটি সামুদ্রিক মাছের মতোই তেলিয়া ভোলা মাছও প্রজননের সময় ডিম পাড়ার জন্য উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে। ঠিক তখনই মৎস্যজীবীদের জালে ধরে পড়ে যায় মাছটি।

‘ইসলাম ধ্বংস করতে এসে নিজেই মুসলিম হয়ে গেলাম’

ইসলাম শব্দের আরবি মূল ‘সিলমুন’যার অর্থ শান্তি। আর ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ করা ইসলাম মানবতার ধর্ম, ইসলাম কল্যাণ ও শান্তির ধর্ম।আর ইসলাম ধর্ম নিয়ে অনেকেই অনেক রকমভাবে অপকর্ম করতে এসে বিপদে পড়েছে।

কেউ আবার আল্লাহর রাস্তাকেই বেছে নিয়েছে। এমনই একজন শরিফা কার্লোস। শরিফা কার্লোসের মুসলিম হওয়ার বিস্ময়কর গল্প।

যখন আমি তরুণী ছিলাম, আমি একটি দলের নজরে পড়ে যাই, যারা মূলত একটি অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করত। তারা ছিলো, সম্ভবত এখনো আছে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে যারা মূলত সরকারের বিভিন্ন দফতরে কাজ করেন এবং তাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো ইসলামের সর্বনাশ করা। ইসলাম ধ্বংস করতে এসে নিজেই মুসলিম হয়ে গেলাম।

যতদূর জানি এটি কোন সরকারি দল নয় কিন্তু তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দফতরগুলোকে ব্যবহার করে থাকে। তাদের একজন সদস্য আমাকে পছন্দ করেছিলেন, কারণ তিনি দেখেছিলেন আমি নারীবাদী আন্দোলনের ব্যাপারে অগ্রগামী।

তিনি আমাকে বললেন, যদি আমি আরব বিশ্বকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে অধ্যয়ন করি তবে সুনিশ্চিত ভাবেই আমাকে মিশরের আমেরিকান দূতাবাসে চাকরি পেয়ে যাবো।

তিনি চাচ্ছিলেন আমি যেন সেখানে আমার দেশের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সেখানকার নারীদের মাঝে নারীবাদী আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেই।আমার কাছে তা অত্যন্ত ভালো কিছুই মনে হয়েছে।

টেলিভিশনে আমি মুসলিম মহিলাদের দেখতাম। আমি জানতাম তারা ছিলো অত্যন্ত নির্যাতিত সম্প্রদায়, তাই আমিও চাচ্ছিলাম তাদের বিংশ শতকের আলোর দিকে নিয়ে আসতে।

এই উদ্দেশ্যে নিয়ে আমি কলেজে ভর্তি হলাম ও লেখাপড়া আরম্ভ করলাম। আমি কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অধ্যয়ন করেছি। আমার অধ্যয়ন ছিল মূলত কীভাবে তা নিজের কাজে লাগাবো সে কেন্দ্রিক।

আমি শিখেছিলাম নিজের উদ্দেশ্য হাসিলে কিভাবে বিষয়গুলোকে বিকৃতরূপে উপস্থাপন করতে হবে। এটিই ছিল সর্বাপেক্ষা মূল্যবান অস্ত্র। যখন আমি শিখতে শুরু করে ক্রমাগত বিভ্রান্ত হতে থাকলাম। এর মর্মার্থও ছিলো অত্যন্ত ভয়াবহ।

এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠার জন্য আমি খ্রিষ্টবাদের উপর ক্লাস করতে শুরু করলাম। হার্বার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধর্মতত্ত্বের উপর পি,এইস,ডি. ধারী স্বনামধন্য প্রফেসারের সাথেই ক্লাস নিতে পছন্দ করতাম।

আমার কাছে মনে হয়েছিলো আমি অত্যন্ত ভালো কারো তত্ত্বাবধানে আছি। আমি জানতে পারলাম তিনি একেশ্বরবাদী খ্রিষ্টান। তিনি ত্রিতত্ত্ববাদ কিংবা যিশুর দেবত্বে বিশ্বাস করতেন না।

বরং তিনি বিশ্বাস করতেন, যিশু একজন নবী ছিলেন।গ্রিক, হিব্রু ও আর্মারিক বাইবেল দিয়েই তিনি প্রমাণ করেছেন কিভাবে বাইবেল পরিবর্তিত হয়েছে। সেই সাথে তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলোও তিনি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছিলেন।

সময়ের সাথে সাথে এই ক্লাসগুলো শেষ হয়ে গেল, আমার ধর্মও তার আবেদন হারিয়ে ফেলেছিলো কিন্তু আমি ইসলাম গ্রহণে তখনো প্রস্তুত ছিলাম না। এ সময় আমি বিভিন্ন মুসলিমকে তাদের বিশ্বাস সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে আরম্ভ করি। MSA [Muslim Student Association] এর এক ভাইকে এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্ন করেছিলাম।

ইসলামের প্রতি আমার আগ্রহ দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। একদিন এই মানুষটি আমার কাছে এসে বললেন, একটি মুসলিমদল আমাদের শহরে এসেছেন।

তিনি চান আমি যেন তাদের সাথে দেখা করি। আমি রাজি হলাম। এশার নামাজের পর আমি সেখানে গেলাম। আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে গেলেন যেখানে প্রায় জনা বিশেক লোক বসে ছিলেন। সবাই আমাকে দেখে বসার জন্য যায়গা ছেড়ে দিলেন।

একজন বয়োবৃদ্ধ পাকিস্তানির মুখোমুখি আমাকে বসানো হলো। মাশাল্লাহ, খ্রিস্টবাদ সম্বন্ধে ভাইটি অত্যন্ত জ্ঞান রাখেন। আমরা দুজন ফজর পর্যন্ত কোরআন ও বাইবেল নিয়ে নানান বিষয়ে আলোচনা ও যুক্তিতর্ক চালিয়ে যাই।

ওনার বক্তব্য শোনার পর আমি যা খ্রিষ্টবাদ সম্বন্ধে ক্লাসে জেনেছিলাম তাই যেন নতুন করে জানলাম, তিনি এমন এক কাজ করে বসলেন যা উনার পূর্বে আর কেও করেননি। তিনি আমাকে মুসলিম হতে আহবান জানালেন।

গত তিনটি বছর আমি ইসলাম সম্বন্ধে জানতে চেয়েছি, গবেষণা করেছি কিন্তু কেও আমাকে দাওয়াত দেয়নি। আমি শিখেছি, যুক্তিতর্ক করেছি এমনকি অপমানিতও হয়েছি কিন্তু কখনো দাওয়াত পাইনি।

তাই, যখন তিনি দাওয়াত দিলেন, তা আমার মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। আমি তা বুঝতে পেরেছিলাম। আমি জানতাম আমি সত্যের মুখোমুখি হয়েছি, তাই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য), আল্লাহ আমার অন্তর খুলে দিলেন, আর আমিও বললাম, “আমি মুসলিম হতে চাই।”অতঃপর তিনি আমাকে আরবি ও ইংরেজিতে শাহাদাৎ পাঠ করালেন।

মনে হচ্ছিলো বুকের উপর চেপে থাকা বিরাটকায় পাথরটা নেমে গেল। মনে হচ্ছিল জীবনের প্রথমবারের মত নিশ্বাস নিচ্ছি যার জন্য এতদিন আমি হাঁসফাস করছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ জান্নাতের পথে আমাকে পরিচ্ছন্ন এক নতুন জীবন দান করেছেন, দোয়া করি আল্লাহ যেন বাকি জীবন এমনকি মুসলিম হিসেবেই মৃত্যু দান করেন।

আপনার মতামত