আন্তর্জাতিক

মৃত্যু থেকে জেগে উঠল ছেলে! মা-কে বলল যে ৪টি শব্দ, জানলে কেঁদে ফেলবেন

মৃত্যু থেকে জেগে উঠল ছেলে- মায়ের স্নেহ কেমন হতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরকে আজও কেউ সে ভাবে শব্দে বেঁধে উঠতে পেরেছেন কি না, সন্দেহ রয়েছে। আসলে মা আর সন্তানের স্নেহ এমন এক অপার্থিব আনন্দ, যা শুধুই অনুভব করা যায়। এমনই এক অনুভবের কাহিনি রুথ স্কুল্লি এবং তাঁর চার বছরের ছেলে নোলানের।

বাথরুমের দিকে যখন রুথ স্কুল্লি যাচ্ছিলেন তখন চেয়ে ছিল ৪ বছরের নোলান। প্রাণ ভরে দেখছিল মায়ের সুদীর্ঘ স্নেহভরা চেহারাটা। আসলে এক মুহূর্তের জন্য মা-কে কাছছাড়া করতে চায় না নোলান। রুথ-ও তেমনি ছেলের জন্য পাগল। এক দৃষ্টিতে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা নোলানের দিকে চেয়ে থাকেন।

মাঝে মাঝে অজানা আতঙ্কে কেপে ওঠে রুথের মন। আর তখনই অভিমানভরা কণ্ঠে নোলানের কাছে তাঁর অভিযোগ। চার বছরের একরত্তি ছেলেটাকে রুথ বলতেন, ‘নোলান তুমি মায়ের কথা ভাবছ না, তুমি কিন্তু লড়াই করছ না, হাল ছেড়ে দিচ্ছ।’ ছোট্ট নোলানের উত্তর থাকত, ‘আমি জানি আমাকে মায়ের জন্য লড়াই করতে হবে, আমি লড়াই করব, শুধু তোমাকে ভালবাসার জন্য।’ চোখটা ছলছলিয়ে উঠত রুথের।

আমেরিকার মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা নোলানের শরীরটা দুরূহ ক্যানসারে যেন আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে পড়ছিল। রুথ এবং নোলান দু’জনেই বুঝতে পারছিলেন সময় আসন্ন। তাই নোলানকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন রুথ। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।

রুথ চেয়েছিলেন, নোলানকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে। কিন্তু, নোলান আর সময় নষ্ট করতে চায়নি। পরবর্তী ৩৬ ঘণ্টা সে একান্তে মা-এর সঙ্গে কাটাতে চেয়েছিল। নোলানই ঠিক করে দিয়েছিল, প্রথমে তারা ইউটিউবে কার্টুন দেখবে।

ছবি আঁকবে। মা-কে আদর করবে। কী ভাবে তাকে শেষযাত্রায় নিয়ে যাওয়া হবে, সে কথাও এক ফাঁকে মা-কে জানিয়ে দিয়েছিল নোলান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এ ভাবেই একে অন্যের সঙ্গে জুড়েছিলেন রুথ ও নোলান। একটু ফ্রেশ হওয়ার জন্য বাথরুমে যেতে চেয়েছিলেন রুথ।

নোলান চেয়ে ছিল বাথরুমের দরজার দিকে। ২ সেকেন্ড সময় ছেলের কাছে চেয়েছিলেন রুথ। ওই সময়ের মধ্যে যখন দরজা খুলে বাইরে এলেন দেখেন মেডিক্যাল টিম ঘিরে রয়েছে নোলানকে। মেডিক্যাল টিম জানিয়ে দিল গভীর কোমায় চলে গিয়েছে নোলান। রুথ নাকি বাথরুমের দরজা বন্ধ করতেই চোখ বন্ধ করেছিল নোলান। ব্যস, গভীর কোমায় চলে গিয়েছিল সে।

রুথ পাগলের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ছেলের বেডের উপরে। দু’হাতে ছেলের দুই গালকে তুলে ধরেছিলেন। পাগলের মতো কাঁদছিলেন এক অসহায় মা। তাঁর জীবনটাই যেন শেষ হয়ে গেল। এমন হাহাকারে ডুকরে কেঁদে উঠেছিলেন রুথ।

এমনই সময় আচমকা নড়ে উঠেছিল নোলানের শরীরটা। ছোট্ট শিশুর চোখ খোলা। রুথের দু’হাতের তালুতে ছেলের মুখটা ধরা। ছোট্ট শিশুর মুখটা নড়ে উঠল। বেরিয়ে এল ৪টি শব্দ- ‘আই লাভ ইউ মাম্মি।’ এর পরই আস্তে আস্তে রুথের দিকে চেয়ে থাকা নোলানের চোখ দু’টো যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

মৃত্যু ঘুমের কোল থেকে ফিরে এসে মা-কে বলে যাওয়া ছেলের এই চারটি শব্দের ব্যাখ্যা কী ভাবে করা যায়! ২ মাস আগের এই ঘটনা এখন ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ইন্টারনেটে। রুথ এখনও নোলানের স্মৃতিকে বুকে আঁকড়ে রেখেছেন। নোলান এখন রুথের হিরো। নোলান যা বলে গিয়েছে তাঁকে তার থেকে বড় পাওনা তো তাঁর কাছে আর নেই। এই ভেবেই এখন নিজেকে সান্ত্বনা দেন রুথ।