জাতীয়

যুবকের মাথা ন্যাড়া করলেন কাউন্সিলর

যুবকের মাথা ন্যাড়া – কক্সবাজার চকরিয়া উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে জোরপূর্বক মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়েছে ইব্রাহিম নয়ন নামের এক যুবকের।

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুজিবুল হক ওই যুবককে একটি সেলুনে নিয়ে মাথা ন্যাড়া করা হয়। সেলুনের এক কর্মচারীকে বাধ্য করা হয় যুবকের মাথা ন্যাড়া করে দিতে।

এ ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ইব্রাহিম নয়ন চকরিয়া পৌরসভার ফুলতলা গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে।

ভুক্তভোগী ইব্রাহিম নয়ন দাবি করেন, বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পৌর শহরের চিরিঙ্গা কাঁচাবাজার এলাকায় এক নারীকে উত্ত্যক্ত করে অপর এক বখাটে। এ সময় ওই নারীর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন ইব্রাহিম। তখন উত্ত্যক্তকারী সেই বখাটেকে ধরতে ওই নারী অনুরোধ করেন ইব্রাহিম নয়নকে। মূহুর্তের মধ্যে বখাটের ফোনে আরও কয়েকজন বখাটে পৌর শহরের এস আর প্লাজার সামনে উপস্থিত হয়। এ সময় ওই স্থান থেকে ইব্রাহিম নয়নকে ধরে নিয়ে যায় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুজিবুল হকের কার্যালয়ে। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে মারধরের পর নিয়ে যাওয়া হয় সেলুনে। এর পর কাউন্সিলরের নির্দেশ মতো ন্যাড়া করে দেয়া হয় তার মাথা।

এ ব্যাপারে চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা মুজিবুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘যুবকটি মূলত মোবাইল ফোন চোর। সে পৌরসভার সওদাগরঘোনা এলাকার এক ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা ধাওয়া দেয়। এ সময় সে আমার সামনে পড়ে গেলে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ীকে ফেরত দিই। পরে স্থানীয় জনতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেলুনে নিয়ে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দিই।’

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ওসি মো: বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ওই যুবক যদি কোন অপরাধ করেও থাকে, তাহলে তাকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার নিয়ম। জনপ্রতিনিধি হলেও কারো আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার নেই। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অবৈধ সম্পদের খোঁজ, ডিআইজি মিজানকে ফের দুদকে তলব

কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানকে দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই দিন তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে তাকে হাজির হতে বুধবার দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীর সই করা নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, একই দিন ডিআইজি মিজানের সঙ্গে তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৯ জুলাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুদক।

গত জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান রেখে আরেক নারীকে জোর করে বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই এক নারী সংবাদ পাঠককে হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে তাকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

ডিআইজি মিজান পুলিশের উচ্চপদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে শতকোটি টাকার মালিক হন বলে দুদকে অভিযোগ আসে।

এ অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের জন্য গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে দায়িত্ব দেয় দুদক।

এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ৩ মে মিজানকে প্রথম দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার সাভারে পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটিতে তার নিজের নামে পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে।

এ ছাড়া পূর্বাচল নতুন শহর এলাকায় ৫ কাঠা, পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির অধীনে অ্যাডভান্স পুলিশ টাউনে সাড়ে ৭ কাঠার প্লট ছাড়াও বরিশালের মেহেদিগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ৩২ শতাংশ জমিতে ২৪০০ বর্গফুটের দোতলা ভবন করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে এসেছে।

অন্যদিকে ডিআইজি মিজান স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নার নামে উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল মডেল টাউনে ১৭৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ৬৩ লাখ ৯০ টাকায় কিনেছেন বলে দুদকে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া মিজানের ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান স্বপনের নামে রাজধানীর নিউ বেইলি রোডে ২৪০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

মেহেদিগঞ্জে ওষুধ ব্যবসা করে মাহবুবুর ৫৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৪০ টাকা দিয়ে এ ফ্ল্যাট কিনলেও এতে তার বড় ভাই মিজানের বিনিয়োগ থাকতে পারে বলে দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়।

মিজানের ভাগ্নে রাজধানীর কোতোয়ালি থানার এসআই মাহামুদুল হাসানের নামে নগরীর পাইওনিয়ার রোডে ১৯১৯ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

২০১৬ সালের আগস্টে তিনি এসআই পদে যোগ দেয়ার আগে ৬৬ লাখ ১৮ হাজার ৮০ টাকা দিয়ে এ ফ্ল্যাট কেনা হয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে মিজানুর রহমানের বিনিয়োগের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

আপনার মতামত