জাতীয়

‘যে আমার গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে, আমি ওদের মাথা ঘুরিয়ে দেব’

যে আমার গাড়ি- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, রাজশাহীর সমাবেশে আসতে যেসব পুলিশ আমার গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে আমি ওদের মাথা ঘুরিয়ে দেব।

পুলিশদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আপনি এ রকম বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষদের সামনে বললেন আপনাদের মিটিং করতে বাধা নেই, আমার গাড়ি তো পাঁচবার ধরছে পুলিশ, তারপরেও আমাকে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছে।

আল্লাহ যদি আমাকে দুটি বছর সময় দেয় তাহলে আমি খুঁজে বের করব, আমি খুঁজে বের করব, যে বেটারা আমার গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে আমি ওদের মাথা ঘুরিয়ে দেব।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কথা দিয়েছিলেন, আর পুলিশ ধরবে না, সভা সমাবেশে বাধা দেবে না। আপনারা রাস্তায় মিটিং করবেন না, আপনারা মাঠে মিটিং করবেন।

আপনারা রাজশাহীর নেতারা, আপনার রাজশাহীর পুলিশরা আমাদের রাস্তায় মিটিং করতে বলেছিল। আপনি (শেখ হাসিনা) বলেন রাস্তায় মিটিং করবেন না আর আপনার পুলিশরা বলে রাস্তায় মিটিং করতে।

সমাবেশে বঙ্গবীর বলেন, আমি টাঙ্গাইল থেকে সড়কপথে এসেছি, আমি গরিব মানুষ, গরিবের মতো চলাফেরা করি, রাস্তায় রাস্তায় শেখ হাসিনার মাইটা পুলিশরা বাধা দিয়েছে, আমাকেও ঘুরাতে পারে নাই, এই মাঠের মানুষকেও ঘুরাতে পারে নাই।

পুলিশদের উদ্দেশে কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, আমরা সংসদে থাকতে অন্তত ৭ বার পুলিশদের সুযোগ-সুবিধার জন্য প্রস্তাব করেছিলাম সেই জন্য আজকে এত বেতন।

শুধু হাসিনার কথা নয় আর কদিন পর আমাদের কথাও শুনবেন আপনারা। যে পুলিশরা ঘুষ দিয়ে ভর্তি হয়েছেন, আমি এই রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে কথা দিয়ে গেলাম, আপনাদের ঘুষের টাকা আমি ফিরিয়ে দেব।

সব টাকা দিতে পারব না। আমি একটা মনে মনে হিসাব করে রেখেছি যারা আওয়ামী লীগের আমলে পুলিশে ভর্তি হয়েছে তাদের প্রত্যককে আমরা ১০ লাখ টাকা আমরা ফিরিয়ে দেব।

শুক্রবার বিকালে রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

Source : Somoyer Konthosor

রাজশাহীর জনসভায় বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে যা বললেন কাদের সিদ্দিকী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব ঘুচিয়ে দেবেন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী। শুক্রবার বিকালে রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমার এখানে আসার কথা ছিল না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য আমি জীবন ঝরিয়েছি, তার জন্য আমি রাজনীতিতে এসেছি, যতদিন বেঁচে থাকব আমি বঙ্গবন্ধুকে লালন করে বেঁচে থাকব।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও জিয়াউর রহমানের এই যে দ্বন্দ্ব, এই দ্বন্দ্ব করে যারা বাংলাদেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে আল্লাহ যদি আমাকে সময় দেন তাহলে শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব আমি ঘুচিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।

তিনি বলেন, বিএনপি রাজাকারের গাড়িতে পতাকা দেয় নাই। শেখ হাসিনা রাজাকারের গাড়িতে প্রথম পতাকা তুলে দিয়েছেন। কাদেরিয়া বাহিনী যাকে বন্দি রেখে জামালপুর জেলে রেখেছিলাম সেই জামালপুরের সরিষাবাড়ির নুরুকে প্রথম পতাকা দিয়েছে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে।

তারপর রংপুরের আশিকুর রহমান, চাঁদপুরের মহিউদ্দিন আলমগীরকে ময়মনসিংহের ডিসি, টাঙ্গাইলের ডিসি আমার ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান আশিকুর রহমানকে পাছায় লাথি মারতে মারতে জেলখানায় ঢুকিয়েছিল।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি হাত চালাই না। মুক্তিযুদ্ধের সময় শুধু আমার সঙ্গে সিলেটের একটি মানুষ ছিল, সে আমার পিঠে হাত দিয়ে বলেছিল বজ্রভাই, চিন্তা করবেন না আমি আছি, আমার মনে হয়েছিল সারা বাংলাদেশ আমার পেছনে আছে।

তিনি বলেন, আমি হাত তুলি না, আমি কারো গায়ে হাত লাগাই না। রাসূল বলেছেন, যার হাত থেকে আর জিহবা থেকে মুমিন মুক্ত নয় মুসলমানই নয়। আমি আমার হাতের ব্যবহার জানি না, আমি আমার বাবা-মায়ের হাতে মার খেয়েছি কিন্তু আমার গায়ে আমার একটি পশমও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। আমি আমার হৃদয় দিয়ে লড়াই করি।

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৩ পুলিশ সদস্যকে পেটাল গ্রামবাসী

ডিবি পুলিশের তিন কনস্টেবলকে গণপিটুনি দিয়েছে গ্রামবাসী। গণপিটুনির শিকার আহতরা হলেন কনস্টেবল মুরাদ হোসেন, শিমুল হোসেন ও মামুন আলী। এসময় প্রাইভেটকার চালক শাওনকে মারধর করে গ্রামবাসী। তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামে এক মাদক বিক্রেতাকে ধরতে অভিযানে যায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

কিন্তু ডিবি পুলিশকে ভুয়া মনে করে গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসময় গণপিটুনিতে আহত হন ডিবির তিন কনস্টেবল ও প্রাইভেটকার চালক। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

পুলিশ সুপার মঈনুল হক ব্রিফিংকালে আরও জানান, আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটাতে কোনো চক্র পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

আপনার মতামত