লাইফস্টাইল

শীতের প্রস্তুতি

শীতের প্রস্তুতি- আসি আসি করছে শীত। এরই মধ্যে প্রকৃতিতে আমরা ঠাণ্ডার আভাস পেতে শুরুও করেছি। শীতকে বরণ করে নিতে আমাদের কিছু প্রস্তুতি তো অবশ্যই দরকার। কারণ আমাদের জীবনধারাকে শীত পুরোই পাল্টে দেয়। তাই শীতের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে, শীতের ঘোরাঘুরি নিয়ে, শীতের ফ্যাশন, সুস্থতা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিন আজ থেকেই-

কী খাবেন

শীতে প্রচুর ভিটামিন সি জাতীয় ফল ও সবজি খেতে হবে। এতে কোল্ড অ্যালার্জির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। গরম খাবার হিসেবে হালকা লিকারের লেবু চা কিংবা ঘরে তৈরি ভেজিটেবল স্যুপ খেতে পারেন। এছাড়াও মৌসুমের শাকসবজি খেতে হবে। গাজর এবং টমেটো ভালো করে ধুয়ে কাঁচা খেতে হবে। অ্যান্টি অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার ত্বক ভালো রাখে।

শীতকালে অনেকেই পানি কম খান। ত্বক ভালো রাখতে প্রচুর পানি খেতে হবে। সঙ্গে খাবার তালিকায় প্রোটিন এবং ফ্যাটও রাখা জরুরি।

ত্বক ও চুলের যত্ন

শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে। সেই সাথে বাতাসে বেড়ে যায় ধুলা। এমন আবহাওয়ায় ত্বক হয়ে যায় খসখসে ও মলিন। ফলে ত্বক ফেটে যাওয়া, চুলকানি, ফুসকুড়িসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই শীতকালে ত্বকের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দরকার বাড়তি যত্ন ও সতর্কতা।

এই সময়ে ময়েশ্চারাইজারযুক্ত সাবান ব্যবহার করতে হবে। গোসলের পরে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই পুরো শরীরে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত দুইবার গরম পানির মধ্যে সামান্য সোডা বাই কার্বোনেট মিশিয়ে পা ভিজিয়ে রাখতে হবে কিছুক্ষণ। এরপর ঝামা পাথর অথবা ব্রাশ দিয়ে পায়ের গোড়ালি ভালো করে ঘষতে হবে। এতে পা ফাটার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে হবে। ঠোঁটের মরা চামড়া টেনে তোলা যাবে না কিছুতেই। এছাড়াও বার বার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো যাবে না। এতে ঠোঁট ফাটার প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।

শীতকালে চুলও রুক্ষ হয়ে যায়। চুলের রুক্ষতা দূর করতে তেলের বিকল্প নেই। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন গরম তেল ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এরপর ভালো মানের কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এছাড়া মাসে কমপক্ষে দুইবার ডিম, কলা ও অলিভ অয়েল একসঙ্গে ব্লেন্ড করে প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করুন। এতে চুল থাকবে মোলায়েম।

শীতের পোশাক

সোয়েটার, শাল, চাদর, জ্যাকেট, মাফলার, কান টুপি ইত্যাদি পোশাক দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ফলে ধুলো-ময়লা এবং জীবাণু জমে যায়। তাই ব্যবহারের আগে ভালো করে ধুয়ে অবশ্যই কড়া রোদে শুকিয়ে রাখতে হবে। ধোয়ার জন্য ডিটারজেন্ট ব্যবহার না করে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এতে উলের কাপড় নরম থাকবে। রোদে শুকিয়ে আলমারিতে রাখার আগে ন্যাপথালিন দিয়ে রাখুন। এতে কাপড়গুলোতে পোকামাকড়ের আক্রমণ হবে না। আপনার ওয়ারড্রবটি সুন্দর করে গুছিয়ে সাজিয়ে ফেলুন।

লেপ-কম্বল

গত শীতে তুলে রাখা লেপ-কম্বল বাইরে বের করে রাখুন। যেদিন কড়া রোদ থাকে সেদিন রোদে দিয়ে রাখুন সারাদিন। কয়েকদিন কড়া রোদে দেওয়ার পরে ভালো করে ঝেড়ে নিতে হবে। এতে ধুলাবালি থাকলে সেগুলো ঝরে যাবে। এরপর পরিষ্কার করে কভারে লেপ বা কম্বল ভরে নিন। ভাঁজ করে আলমারিতে তুলে রাখুন। যদি কম্বল বেশি ময়লা হয়ে গিয়ে থাকলে ড্রাই ওয়াশ করিয়ে নিতে পারেন।

ঘরের প্রস্তুতি

শীতে ঘরের মেঝে যেহেতু ঠাণ্ডা থাকে তাই মেঝেতে ব্যবহার করতে পারেন শতরঞ্জি, ফ্লোর ম্যাট কিংবা মাদুর। কার্পেটে ধুলা আটকে যায় তাই কার্পেট ব্যবহার না করাই ভালো। যাদের ধুলা-বালিতে অ্যালার্জি আছে তাদের কার্পেটে সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও ঘরের জানালায় ভারি পর্দা ব্যবহার করতে পারেন এই সময়টাতে। তবে ঘরের যে জানালা দিয়ে রোদ আসে, ঘরে রোদ ঢোকার জন্য সেই জানালার পর্দা সরিয়ে রাখুন। রুম হিটার, ওয়াটার হিটার, গিজার ইত্যাদি যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা দেখে নিন। নষ্ট হয়ে থাকলে এখনই সারিয়ে ফেলুন সেগুলো।

বাগানের যত্ন

শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে শীতে ত্বকের মতোই বারান্দার বা বাগানের গাছগুলোও মলিন হয়ে যায়। তাই এইসময়ে গাছেরও বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। খেয়াল রাখুন যেন প্রতিদিন সকালের হালকা রোদ পায় গাছগুলো। প্রতিদিন টবের মাটির দিকে খেয়াল রাখুন। মাটি শুকিয়ে গেলেই পানি দিন। তবে অতিরিক্ত পানি দেয়া যাবে না। আর খুব বেশি কুয়াশা কিংবা ঠাণ্ডা পরলে গাছগুলোকে রাতের বেলা ঘরে ঢুকিয়ে রাখুন। দিনের বেলা রোদ উঠলে আবার বারান্দায় দিয়ে দিন।

শীতে প্রচুর ধুলা থাকে বাতাসে। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন গাছের পাতা ধুয়ে দিন এবং পাতায় পানি স্প্রে করুন। অনেক গাছেরই পাতা ঝরে যায় এই সময়ে। কিন্তু গাছ কিন্তু বেঁচে থাকে। তাই পানি দেওয়া বন্ধ করা যাবেনা পাতা ঝরে গেলেও।

সূত্র- বাংলা ইনসাইডার

আপনার মতামত