জাতীয়

সিলেটে বিএনপি সভাপতির বাসায় গোলাগুলি

সভাপতির বাসায় গোলাগুলি- সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীমের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

এসময় ৪টি মোটরসাইকেল ও ৩টি পাসপোর্ট জব্দ করে পুলিশ। পাসপোর্ট গুলো হচ্ছে, চৌধুরী ফাহিম, শাকিল আহমদ ও শাকির আহমদ নামের। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যতরপুরস্থ মৌবন ২৫ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি হামলায় তাদের তিন সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশ টহলে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। তবে বিএনপি বলছে কোনো কারণ ছাড়া পুলিশ নাটক সাজিয়ে বাসায় গুলি করে ৫/৬ জন মেহমানকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে নিয়ে গেছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, রোববার সন্ধ্যার দিকে যতরপুর এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীমের বাসার সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নাশকতার লক্ষে জড়ো হয়।

সিলেটে বিএনপি সভাপতির বাসায় গোলাগুলি

এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ওই বাসার সামনে গেল পুলিশ সরকারের গুণ্ডা বাহিনী, পুলিশ এখানে কেন, বলেই পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় ও হামলাকারীরা পুলিশের ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা (সিলেট থ ১২-৭১৬৬) ভাঙচুর করে।

এসময় পুলিশের এএসঅাই তরুণীসহ ৩ জন আহত হন। তাদেরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ১২ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। ঘটনাস্থল থেকে ৫/৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি আটক নেতাকর্মীদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম বলেন, বিএনপির রাজনীতি করি বলেই পুলিশ আমার বাসায় অহেতুক অভিযান চালিয়ে ফাকা গুঁলি ছোড়ে।

এসময় পুলিশ আমার বাসায় দেখা করতে আসা কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ নাটক সাজিয়ে সবকিছু করেই যাচ্ছে। আমার বাসার সামনে পুলিশের ওপর হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেই পুলিশ এমন নাটক করেছে।

মানুষ দেখলেই বয়স কমে যায় এরশাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, আমি সারাজীবন মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি। এখন আমার বয়স হয়েছে, কিন্তু মানুষ দেখলে আমার বয়স কমে যায়।

রোববার সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সরকারি জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, প্রখর রোদের মধ্যে আপনারা ছুটে এসেছেন। মিসবাহ বলেছিল, সম্মেলনে ৫০ হাজার লোক হবে। এখন দেখছি, মানুষ আরও বেশি হয়েছে। আমি নিজের জন্য কিছু চাই না। মানুষের মুক্তি চাই, মানুষের অধিকার চাই।’

তিনি বলেন, এ দেশের সমাজব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রতিদিন কত মানুষ মারা যায়, খুন হয়, গুম হয়, তার হিসাব নেই। জীবনের নিশ্চয়তা নেই।

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। ক্ষমতার পালাবদল নয়, মানুষ পরিবর্তন চায়। মানুষ শান্তি চায়, জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

এ সময় এরশাদ বলেন, সুনামগঞ্জ সদর আসনে আপনাদের মিসবাহকে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়ে গেলাম। তাকে বিজয়ী করবেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সিলেট বিভাগ থেকে আটটি আসনে জয়লাভ করেছিল। এবার আরও বেশি আসনে জয়লাভ করতে হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে, দলীয়করণ হবে না, দেশে গুম-খুন থাকবে না। দেশের মানষ শান্তিতে থাকবে।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, যুগ্ম মহাসচিব সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি যখন ক্ষমতায় ছিল, নানা সমালোচনা হয়েছে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে।

কিন্তু কাউকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়নি। দেশে অন্যায় অবিচার চলবে, কিন্তু প্রতিবাদ করা যাবে না; প্রতিবাদ করলেই মামলার ভয় দেখানো হয়।

সভাপতির বক্তব্যে পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, গত পাঁচ বছর সংসদ সদস্য হিসেবে আপনাদের সেবা করেছি, আপনাদের হাতে হাত রেখে চলেছি। যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা সাধ্যমতো বাস্তবায়ন করেছি। আবার বিজয়ী হলে সুনামগঞ্জের চেহারা পাল্টে দেব।

আবারও আসছে হরতাল-অবরোধের ঘোষণা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে জেলে পঠানোর পর থেকে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, অনশন ও সমাবেশের মতো কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি।

খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আবারো হরতাল, অবরোধের কথা ভাবছে বিএনপি। নেতারা বলছেন, তারা যে সব কর্মসূচি এখন করছেন, তা সরকারের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলছে না।

তাই তফসিল ঘোষণার কাছাকাছি সময়ে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারেন তারা।এসব কর্মসূচি সরকারের ওপর কোনো চাপ তৈরি করতে পারেনি বলে মনে করেন দলটির নেতারা।

মওদুদ আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তৃণমূল নেতাদের বৈঠকেও দাবি উঠেছে কঠোর কর্মসূচির। বিএনপির সর্বশেষ কর্মসূচিতেও কঠোর কর্মসূচিরই ইঙ্গিত ছিল বলে জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, এ অবস্থায় কর্মসূচির ধরণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে তাদের। তিনি বলেন, তারা অপেক্ষায় আছেন সঠিক সময়ের।

অতীতে দেশের মানুষ যেসব কর্মসূচি দেখে অভ্যস্ত, সেসব কঠোর কর্মসূচির কথাও বললেন বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান।সরকার বাধা না দিলে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণই থাকবে বলেও মন্তব্য বিএনপি নেতাদের।

আপনার মতামত