বিনোদন

সাংবাদিক যখন শোবিজ তারকা

সাংবাদিক যখন শোবিজ – মৌসুমী ঘোষণা দিলেন তিনি একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করবেন। তিনিই তার সম্পাদক। মৌসুমী বেশ কয়েক বছর আগে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘প্রিয়জন’ -এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইলিয়াস কাঞ্চনেরও রয়েছে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টার। তিনি যেমন নায়িকা থেকে সাংবাদিক বনে গেলেন, অতীতে অনেকে সাংবাদিকতা থেকে পা বাড়িয়েছেন শোবিজে।

আসাদুজ্জামান নূরের কথাই ধরা যাক। উনার নাটকের সঙ্গে পরিচয় হয় কীভাবে তা জানেন? অভিনেতা আলী যাকেরের একটি ইন্টারভিউ করতে গিয়েছিলেন। তখন তার সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ। আগ্রহ জাগে মঞ্চ নাটকের প্রতি। সাংবাদিক হিসেবেই নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। তিনি ১৯৭২ সালে বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক চিত্রালীতে কাজ করার মধ্যদিয়ে কর্মে প্রবেশ করেন। অভিনেতা, আবৃত্তিশিল্পী, সংস্কৃতির সব,মাধ্যমেই ছিল তার পদচারণা। এখন তিনি একজন দক্ষ মন্ত্রীও।

আফজাল হোসেন, বিপাশা হায়াত, তৌকীর আহমেদ, মিনার লেখা নিয়ে সাংবাদিকতার সঙ্গে না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন পত্রিকায় কার্টুন, গ্রাফিক্স, ইলাস্ট্রেটরের কাজ করেছেন।

নির্মাতা ও নাট্যকার অরুণ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ম্যাগাজিন আনন্দধারার। চ্যানেল আইতে এখন কাজ করছেন তিনি।

মুশফিকুর রহমান গুলজার ১৯৮৭ সালে ‘বাংলার বাণী’ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন বিনোদন সাংবাদিক হিসেবে। বিনোদন সাংবাদিকতা করতে গিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হন।

খ্যাতনামা সাংবাদিক ছিলেন সঞ্জীব চৌধুরি। আজকের যারা সিনিয়র বিনোদন সাংবাদিক। তাদের বেশিরভাগই সঞ্জীব চৌধুরির শিষ্য। প্রয়াত এই কন্ঠশিল্পী বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ ও যায়যায়দিনে কাজ করেছেন। আমৃত্যু যুক্ত ছিলেন সাংবাদিকতার সঙ্গে। কথা প্রধান গান, আর গানে গানের মানুষের সুখ-দুঃখ ফেরী করে বেড়ানো এক শিল্পীর নাম সঞ্জীব চৌধুরী। দলছুটের জন্য বহু জনপ্রিয় গান লিখেছেন, সুর করেছেন ও গেয়েছেন।

অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া হাসান মাসুদও দীর্ঘদিন ছিলেন সাংবাদিকতার সঙ্গে। নিউ নেশান, ডেইলি স্টার ও বিবিসি সব মিলিয়ে ১৫ বছরের অধিক সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা হাসান মাসুদ। এর আগে ছায়ানট থেকে নজরুল সংগীতের উপর ৫ বছরের একটি কোর্স সম্পন্ন করেন। অভিনয়ের সঙ্গে তিনি ভালো গানও গাইতে পারেন।

অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ ছিলেন সঞ্জীব চৌধুরির শিষ্য। কর্ম জীবন শুরু করেছিলেন তিনি সাংবাদিক হিসেবে। তাজিন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করে ভোরের কাগজের সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন। এরপর প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। আনন্দ ভুবন ম্যাগাজিনের কলামিস্টও ছিলেন তিনি। এ বছর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনাকালীন বিনোদন পাতায় লিখতেন অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ। কাজ করেছেন তিনি পূর্ণিমা নামের একটি ম্যাগাজিনে। সেখানে কাজের সুবাদে ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে পরিচয়। তারই পরামর্শে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কোন কাননের ফুল’-এ ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করার মধ্য দিয়ে টিভি নাটকে নাম লেখান।

এলিটা গানের যে সাংবাদিকতাতেই বেশি সময় দেন। বিভিন্ন কনসার্ট ও টেলিভিশনে গানের পরিচয়ে নিয়মিত দেখা গেলেও তিনি সাংবাদিকতা করছেন বহুদিন ধরে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন সময় থেকেই তিনি ডেইলী স্টারে লেখালেখি করতেন। সেখানেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত আছেন।

অভিনেতা সুমন পাটোয়ারি গানের মানুষ হিসেবেও পরিচিত। তবে তিনি সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন অনেকদিন। দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলী স্টারে কাজ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন ফেরদৌস। আনন্দ আলো ম্যাগাজিনেও সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে প্রয়াত নৃত্য পরিচালক আমির হোসেন বাবু`র হাত ধরে। তখন আমির হোসেন বাবু পরিচালক হিসেবে নাচভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র ‘নাচ ময়ূরী নাচ’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু আমির হোসেন বাবু সেই ছবির কাজ আর শুরু করতে পারেননি। তাই ফেরদৌস অভিনীত মুক্তি পাওয়া প্রথম চলচ্চিত্র প্রয়াত নায়ক সালমান শাহের অসমাপ্ত কাজ ‘বুকের ভিতর আগুন’। এটির পরিচালক ছিলেন ছটকু আহমেদ।

অনেকেরই অজানা যে আসিফ আকবরও করেছেন কিছুদিন সাংবাদিকতা। কয়েক বছর আগে মানবজমিন প্রত্রিকায় বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে তার অনেক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানেও তার তত্বাবধানে আর্ব নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল রয়েছে। তার লেখালেখির হাত তার ফেসবুক ফলো করলেই ভালো বুঝা যায়।

নায়িকা বুবলীও এক সময়ে ছিলেন নিউজ প্রেজেন্টার। অনার্স সেকেন্ড ইয়ার পার হওয়ার পরেই নিউজ প্রেজেন্টের উপর কোর্স করেন। এরপর বাংলাভিশনে সংবাদপাঠিকা হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। এরপরই শাকিব খানের নায়িকা বনে গেলেন।

সৈয়দ হাসান ইমাম মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দৈনিক ইত্তেফাকসহ বাংলাদেশ বেতারে নানাভাবে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। মামুনুর রশীদ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আলী যাকেরও মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসিতে যুদ্ধ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। এখনও তিনি পত্রিকায় কলাম লিখেন।

অভিনেত্রী শমী কায়সার বড় হয়েছেন সাংবাদিকতার আবহে। নিজেও লিখতে ভালোবাসেন। ভোরের কাগজে একসময় নিয়মিতই দেখা যেত তার কলাম। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে গায়ক বাপ্পা মজুমদার ও জয়া আহসানও ভোরের কাগজে ফিচার লিখেছেন। ফাহমিদা নবীও কলাম লিখছেন বেশ কিছু গণমাধ্যমে।

এছাড়া অনেক সাংবাদিক আছেন যারা গীতিকার, নাট্যকার জগতেও খ্যাতি রয়েছে।

সূত্র- বাংলা ইনসাইডার

আপনার মতামত