লাইফস্টাইল

সিক্স প্যাক নয়, পুরুষদের এই বিষয়গুলিই বেশি আকর্ষণ করে মহিলাদের

সিক্স প্যাক নয় – টল-ডার্ক-হ্যান্ডসাম। এই তিন গুণের অধিকারী হলেই যে কোনও মহিলার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারেন। এমন ধারণা অনেক পুরুষেরই রয়েছে। বর্তমান ফ্যাশনের নিরিখে আবার মহিলাদের পছন্দে খানিকটা রদবদল হয়েছে। এই যেমন বিরাট কোহলির মতো বিয়ার্ড লুক কিংবা জন আব্রাহামের মতো সিক্স প্যাক অ্যাব।

কিন্তু ওই যে কথায় আছে, নারীর মন বোঝা এত সহজ নয়। মনের মানুষটি চকোলেট বয় হোক কিংবা মাচো ম্যান, মহিলাদের জন্য সেসবই হল গৌণ্য। আসলে পুরুষদের অন্য কয়েকটি বিষয়ই মহিলাদের বেশি আকর্ষণ করে। আপনি কি এখনও সিঙ্গল? তাহলে অবশ্যই জেনে রাখুন কীভাবে কোনও মহিলার মন জয় করা যাবে। গার্লফ্রেন্ড থাকলে বা সংসারি হলেও জেনে নিন কীভাবে পার্টনারকে সন্তুষ্ট রাখতে হবে।

পোশাক নিয়ে কোনও মন্তব্য নয়: গার্লফ্রেন্ডকে নিজের পছন্দের মতো পোশাক পরতে দিন। যদি সেই পোশাকের প্রশংসা করতে পারেন তাহলে খুবই ভাল। তবে ভুল করেও নাক সিঁটকোবেন না। অনেকেই পুরুষেরই পোশাক নিয়ে নানা ছুৎমার্গ থাকে। যা একেবারেই পছন্দ নয় মহিলাদের। তাদের দাবি, তাঁরা যখন পুরুষের পোশাকে নাক গলান না, তখন উলটো দিক থেকে তেমনটাই আশা করেন তাঁরাও।

মহিলার পেশাকে সম্মান করুন: আজকালকার মহিলারা পরনির্ভরতায় বিশ্বাসী নন। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাধীনভাবেই বাঁচতে ভালবাসেন। তাই পড়াশোনা, খেলাধুলো বা মডেলিং করে মনের মতো পেশাটি বেছে নন। প্রতিযোগিতার বাজারে একটি চাকরি পেতে কিংবা ব্যবসা করতে যথাসম্ভব পরিশ্রমও করেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা আশা করেন সঙ্গীটি তাঁর পেশার প্রশংসাই করবেন। তাঁর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনাও করবেন। কর্মক্ষেত্রে কীভাবে আরও উন্নতি করা যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। কোনও পুরুষ ঠিক যেমন নিজের পেশাকে ভালবাসেন, তেমনই গার্লফ্রেন্ড বা স্ত্রীর পেশাকেও সম্মান করবেন।

আবেগপ্রবণ হতে দ্বিধা করবেন না: এমন কোনও স্পর্শকাতর বিষয়, যা হয়তো আলোচনা করতে গিয়ে আপনার চোখে জল চলে আসতে পারে। আসলে আসুক। লজ্জা পাবেন না, প্রিয়জনের থেকে তো কিছু লুকোনোর নেই। তাই আপনি যদি পার্টনারের সঙ্গে মন খুলে কথা বলেন আর তাতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, তাতে খুশিই হন মহিলারা।

অতীত ঘাঁটবেন না: পার্টনারের অতীত নিয়ে অযথা জলঘোলা করলে সম্পর্কে বোঝাপড়ার অভাব হতে পারে। তাই যা হয়ে গিয়েছে, তা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। বরং আগামী দিনগুলি কীভাবে সুন্দর করা যায়, তা ভাবুন।

জোর করবেন না: মহিলা যে কাজটি করতে ইতস্তত বোধ করেন, তা নিয়ে জোর করবেন না। বিশেষ করে যৌনজীবনের ক্ষেত্রে। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে কে-ই বা ভালবাসে!

অকারণ সন্দেহ: কর্মক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিটি কে? কিংবা ওই বন্ধুর সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠতা কেন? এসব প্রশ্ন করে নিজের মনকে অকারণ উত্তেজিত করে তোলার মানেই হয় না। অকারণ সন্দেহ বা রাগ করা কোনও মহিলাও পছন্দ করেন না। পরস্পরের প্রতি ভালবাসা আর বিশ্বাসটাই প্রয়োজন।

পার্টনারের পরামর্শও নিন: কাজ কিংবা পারিবারিক ক্ষেত্রে কোনও বিষয়ে সমস্যায় পড়লে পার্টনারের সঙ্গে আলোচনা করুন। তাঁর মতামত শুনুন। পরামর্শ নিন। তারপর নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। এতে মহিলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মিথ্যে বলবেন না: একটা কথা চাপার জন্য আর পাঁচটা মিথ্যে কথা বলা কখনওই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই সত্যি কথাটা সবার আগে আপনার মুখ থেকেই শুনতে চান আপনার স্ত্রী বা গার্লফ্রেন্ড। এতে সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস বাড়ে।

অন্যকে সম্মান: রেস্তরাঁয় খেতে গিয়ে ওয়েটারকে সিটি বাজিয়ে ডাকার অভ্যেস অনেক পুরুষেরই আছে। কিন্তু সাধারণত মহিলাদের তা অপছন্দ। তাঁর প্রিয় পুরুষ সমাজের প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষকে সম্মান দিয়েই যেন কথা বলেন, এমনটাই চান মহিলারা।

সারপ্রাইজ দিন: বাঁধাধরা জীবনযাপনের মধ্যে একটু টুইস্ট না হলে একঘেয়ে লাগাটা স্বাভাবিক। তাই গার্লফ্রেন্ডের মুখে নতুন করে হাসি ফোটাতে মাঝে মধ্যে সারপ্রাইজ দিতেই পারেন। তবেই না আপনিও পার্টনারের থেকে সারপ্রাইজ আশা করতে পারেন।