জাতীয়

সেহেরি পার্টির নামে এ ক্যামন অশ্লীলতা

সেহেরি পার্টির নামে- বাসায় বানানো হয়েছে নানা পদের খাবার। এরপরও বাইরে থেকে আনা হয় হালিম, জিলাপি, টানা পরোটাসহ নানা মুখরোচক খাবারের পদ। উপলক্ষ দিনশেষে ইফতার। কিন্তু আয়োজনের বাহুল্যটা একনজরেই বোঝা যায়।

আজ রাতে সেহরি খেয়ে শুক্রবার থেকে রোজা দিয়ে শুরু হচ্ছে রমজান। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মাসজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রাখবেন রোজা। রোজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো সংযম।

সেই সংযম আচার ব্যবহার থেকে শুরু করে খাবার গ্রহণসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে। কিন্তু অনেকে সংযম পালনের নামে অসংযমের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটান। উপরের ঘটনা তারই একটি।

এ তো ঘরে কোনো অসংযম ইফতারের কথা। এবার আসি ঘরের বাইরে। রমজান উপলক্ষে এরই মধ্যে সাজ সাজ রব পড়েছে রাজধানীসহ সারাদেশের আনাচে কানাচে থাকা হোটেলগুলোতে। বিলাসবহুল হোটেলগুলোতেও থাকে ইফতার আয়োজন।

অনেক হোটেলে বুফে ইফতারের নামে চলে খাবার নষ্টের উৎসব। বিলাসবহুল হোটেলের বুফেতে কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে ইফতারে অংশ নেওয়া অনেকেই থালায় এত খাবার নেন যা এভারেস্টকেও হার মানাবে।

এর কতটা তারা খেতে পারেন আর কতটা নষ্ট করেন? হোটেলগুলোতে রমজানে যে পরিমাণ খাবার খাওয়া হয় একই পরিমাণ বা এর চেয়ে বেশি খাবার নষ্ট হয়। রমজানের ইফতারে সারাদিন না খেয়ে সবটাই একবারে খেয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা থাকে অনেকের।

অসংযমের ইফতার না করে দরিদ্র মানুষদের ইফতার করানোর মধ্যে দিয়ে সংযম পালনের দৃষ্টান্ত কয়টা চোখে পড়ে? আর অসংযত ইফতার স্বাস্থ্যের জন্যও খারাপ তা বর্তমান সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমের কল্যাণে কারও অজানা নয়।

রাজধানীসহ দেশের অনেক স্থানেই এখন শুরু হয়েছে সেহরি পার্টি। পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কোথাও সেহরি করার বিষয় খারাপ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আয়োজন এখানেই যে থেমে থাকে না। গত রমজানের এক সেহরি পার্টির কথাই ধরুন।

মঞ্চে গান গাইছেন জনপ্রিয় একজন শিল্পী। গভীর রাতে শুরু এই আয়োজন। আড়াইটার পর শুরু হয় সেহরি খাওয়ার ধুম। এই পার্টিতে সংযমের কোনো বিষয়ই ছিল না। এবারও এমন পার্টি থাকবে। গতবারের চেয়ে বেশিই থাকবে তা অনুমান করা যায়।

সেহেরি পার্টির নামে এ ক্যামন অশ্লীলতা
সেহেরি পার্টির নামে এ ক্যামন অশ্লীলতা

বাংলাদেশে রমজানের সময় কে রোজা রাখছে , রাখছে না, কে বাইরে খাচ্ছে এগুলোকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। কিন্তু অনেকের মতে, এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের নিজেদের সংযম। আমরা যেন গরীব দু:খী মানুষের দিকে তাকাই। আমরা যেন আত্মশুদ্ধি করি। অপচয় যেন না করি। ইফতারের নামে ডালা ডালা খাবার যেন নষ্ট না করি। সেহরি পার্টির নামে যেন বন্য উল্লাস না করি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সব মানুষের প্রতিই সংযম ও সহানুভূতিশীল থাকা। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এখানে অনেক সংখ্যালঘু আছে, অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির মানুষ আছে। ধর্ম যাঁর যাঁর, রাষ্ট্র হলো সবার। যারা সংখ্যালঘু রমজানে তাদের সম্মানও যেন রক্ষা করা হয় ।

হুটহাট করে হোটেল বন্ধ করে দেওয়া, প্রকাশ্যে খাওয়াঅপরাধে দৃষ্টিতে দেখাকে কেউ সংযম বলে মানতে পারেন না। এছাড়া অনেকে শারীরিক অসুস্থতার কারণেও সারাদিন না খেয়ে থাকতে পারেন না। রোজা তাঁদের পক্ষেও রাখা সম্ভব হয় না। তাঁদের সম্মান করাও রোজার সংযমের একটি শিক্ষা নয় কি?

সবকিছু মিলিয়ে এই রমজানে যেন আমরা সত্যিকারের সংযম করি। রোজা যেন সংযম বিলাসে পরিণত না হয়। সংযমের নামে মানুষকে চরম সংকটে ফেলাও যেন না হয়।