চিত্র বিচিত্র

স্বামী বাইরে, ঘরে ভাবিকে একা পেয়ে দেবরের কাণ্ড!

স্বামী বাইরে – স্বামী কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে থাকে। এ কারণে গৃহবধূ একাই বাড়িতে থাকেন। আর এই সুযোগ টাই নেন দেবর। বউদিকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে ওই দেবরের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মালদার সাহাপুরের বাজারপাড়ায়। এ ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওই এলাকায়।

গত রবিবার রাতে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মালদার বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওই গৃহবধূর স্বামী কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন। রবিবার রাতে ওই গৃহবধূর বাড়িতে একাই ছিলেন।

অভিযোগ, সেই সময়েই সুযোগ বুঝে বাড়িতে ঢোকে তার দেবর হারু চৌধুরী। এরপর ওই গৃহবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে হারু। এতে বাধা দেয়ায় ওই নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় হারু এমনটাই অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।

পরে ওই গৃহবধূর চিৎকার-চেচামেচি শুনে প্রতিবেশিরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। এবং সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আহত ওই নারীকে। বর্তমানে সে সুস্থ আছেন।

এ ঘটনার পর থেকে ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। দোষীদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন ওই গৃহবধূ। মালদহ থানার পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

বঙ্গবীরকে জড়িয়ে ধরে আবেগে যা বললেন ড. কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন,‘আজ আমি অনেক সৌভাগ্যবান। আমার আর কোনো চিন্তা নেই।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদানের ঘোষণা শেষে দুপুরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মতিঝিলেড. কামালের সাথে দেখা ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গেলে ড. কামাল হোসেন এই মন্তব্য করেন।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে সামনে রেখে ড. কামাল হোসেন আরো বলেন,‘এমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন, ঝুঁকি নিয়েছেন। এখন আমার আর কোনো চিন্তা নেই। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ায় আমরা খুবই গর্বিত।’

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন,‘আমি এখন অবসরে চলে গেলেও আমার আর কোনো অতৃপ্তি থাকবে না।’

এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার ঘোষনা দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। আজ সোমবার দুপুরে মতিঝিলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চেয়াম্যান ড. কামাল হোসেনের সাথেও একাত্মতা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে কাদের সিদ্দিকীকে উদ্দেশ্য করে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন,‘আমরা দুই ভাই লড়াইয়ে জিতবো।’

সংবাদ সম্মেলনস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু ও মোহাম্মদ শাহজাহান এবং জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। পাশাপাশি গণফোরাম নেতা মোস্তফা মহসীন মন্টু, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মফিজুল ইসলাম কামাল ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাংবাদিক সম্মেলনস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনস্থলে বিএনপি, গণফোরামসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত হওয়ায় আগেই ধারণা করা হয়েছিল যে, আজকের সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার কথা বলবেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

এদিকে বঙ্গবীরের সাংবাদিক সম্মেলন উপলক্ষে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতা ভিড় করেন। একপর্যায়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা-কল্পনা চলছে কি করছেন বঙ্গবীর? ভবিষ্যতেও বা কি করতে যাচ্ছেন? তবে একটা নিশ্চিত খবর ছিল তিনি গত শনিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত জেল হত্যা দিবসের আলোচনায় তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান জানাবেন। এবং ড. কামাল হোসেনের হাত ধরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেই যোগ দিচ্ছেন।

ঐদিন অধীর আগ্রহে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মী জনগণ অধীর আগ্রহভরে অপেক্ষা করছিলেন। প্রায় পৌনে একঘন্টা বক্তব্যে একপর্যায়ে বঙ্গবীর জানালেন তিনি ঐদিন যোগ দিচ্ছেন না- চান আরও একদিন সময়।

গত ৩১ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান কি হবে তা তিনি জানাতে সকলকে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলেন।

তবে গত শনিবারের আলোচনা সভায় বিশিষ্ট আইনজীবি ড. কামাল হোসেন বঙ্গবীরের শুধু একাত্তরের রনাঙ্গণের বীরত্ব তুলে ধরেননি, তিনি সুস্পস্টভাবে ৭৫’ পনের আগস্টের পরে তার (বঙ্গবীরের) সশস্ত্র প্রতিবাদ-প্রতিরোধের প্রশংসা করেন।

এটা বঙ্গবীরসহ তার দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরনের প্রাণের সঞ্চারও করে। বিষয়টি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মী এবং ৭৫’ এ বঙ্গবীরের সহযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করে। জানা গেছে, এর আগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বঙ্গবীর ৭৫-এর প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মিলনমেলার আয়োজন করেছিলেন।

স্মৃতিচারণমুলক সে অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ালীগের অন্তত কয়েকজন শীর্ষ নেতার উপস্থিতি আশা করেছিলেন। কিন্তু তা হয়নি বলে তিনি মুনঃক্ষুন্নও হয়েছিলেন তিনি।

সেদিক থেকে এপ্রসঙ্গে বিশিষ্ট এই আইনজীবি ও জাতয়ি ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড.কামাল হোসেনের বক্তব্য কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ৭৫’ পনের আগস্টের পরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং স্বয়ং বঙ্গবীরের জন্য অনেক সম্মানজনক নিয়ে গেছে। আর এজন্য আজকে দলের যে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাতে এর প্রভাব পড়বে।

এদিকে গতকাল রাতে দলের পক্ষ থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগেরন যুগ্ম-সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

এতে জানান হয় আজ পূর্বঘোষণা অনুসারে আগামী ৫ই নভেম্বর সোমবার সকালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দলের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসভায় জাতীয় ঐক্যফ্্রন্টে যোগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে সভাশেষে বেলা সাড়ে ১২টায় প্রেসব্রিফিং এর মাধ্যমে বর্ধিতসভার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।

‘কাদের সিদ্দিকীর যোগদানে লড়াইয়ের শক্তি বেড়ে গেল’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর যোগ দেয়ায় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। মতিঝিলে আজ দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঐক্যফ্রন্টে যোগদানের ঘোষণা দেন কাদের সিদ্দিকী।

ওই অনুষ্ঠানে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। জেএসডির সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম রব তাৎক্ষণিকভাবে বঙ্গবীরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কাদের সিদ্দিকীর যোগদানে লড়াইয়ের শক্তি বেড়ে গেল। আমাদের এ লড়াই গণতন্ত্রের লড়াই, ভোটাধিকারের লড়াই।

সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ছলছাতুরি করে আর রেহাই পাবেননা। মানুষকে আর ফাঁকি দেয়া যাবেনা। জনগণের দাবি মানতে হবে। নির্বাচন করতে চাইলে দাবি মানতে হবে, সংঘাত হলে দায় দায়িত্ব সরকারের নিতে হবে।

কাদের সিদ্দিকীর যোগদানে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলু এবং মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ অন্যরা।

যোগদানের পর বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আশা করি আগামী ডিসেম্বরে আপনিও আমাদের সাথে আসবেন।

তিনি বলেন, এখন সংযত ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে সরকার। আমরা এটাই চেয়েছিলাম। দেশের মানুষ আজ মুক্তি চায়। আমরা একটু সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এই লক্ষ্যেই আমি ড. কামাল হোসেনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করলাম। আমি এই মুহূর্ত থেকে ঐক্যফ্রন্টের অংশ।

আপনার মতামত