জাতীয়

আবারও আসছে হরতাল-অবরোধের ঘোষণা

হরতাল-অবরোধের ঘোষণা- জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে জেলে পঠানোর পর থেকে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, অনশন ও সমাবেশের মতো কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি।

খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আবারো হরতাল, অবরোধের কথা ভাবছে বিএনপি। নেতারা বলছেন, তারা যে সব কর্মসূচি এখন করছেন, তা সরকারের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলছে না।

তাই তফসিল ঘোষণার কাছাকাছি সময়ে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারেন তারা। এসব কর্মসূচি সরকারের ওপর কোনো চাপ তৈরি করতে পারেনি বলে মনে করেন দলটির নেতারা।

মওদুদ আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তৃণমূল নেতাদের বৈঠকেও দাবি উঠেছে কঠোর কর্মসূচির। বিএনপির সর্বশেষ কর্মসূচিতেও কঠোর কর্মসূচিরই ইঙ্গিত ছিল বলে জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, এ অবস্থায় কর্মসূচির ধরণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে তাদের। তিনি বলেন, তারা অপেক্ষায় আছেন সঠিক সময়ের।

অতীতে দেশের মানুষ যেসব কর্মসূচি দেখে অভ্যস্ত, সে সব কঠোর কর্মসূচির কথাও বললেন বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান। সরকার বাধা না দিলে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণই থাকবে বলেও মন্তব্য বিএনপি নেতাদের।

হাজার সমর্থক নিয়ে জাপা নেতার আওয়ামীলীগে যোগদান

লালমনিরহাট -১ আসনের সাংসদ মোতাহার হোসেন এমপির হাতে ফুলের নৌকা উপহার দিয়ে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ আওয়ামীলীগে যোগদান করলেন জাতীয় পার্টির সাবেক উপজেলা সভাপতি এমজি মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলন।

রবিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আ’লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান ভেলুর সভাপতিত্বে উক্ত যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামলের উপস্থাপনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক ও আলিমুদ্দিন সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান, উপজেলা আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সোহাগ,

যুগ্ন সম্পাদক দীলিপ কুমার সিংহ, যুবলীগের সভাপতি হামিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন মিয়া, ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম শাহরিয়ার খান জিহান, রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি তুষার কিবরিয়াসহ অনেকেই।

আ’লীগে সদ্য যোগদানকারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এমজি মোস্তফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলন, সাবেক উপজেলা সহসভাপতি বজলার রহমানসহ অনেকেই।

‘আল্লাহর দোহাই, সৌদিতে একজন লোক পাঠাবেন না’

জীবিকার টানে বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ লোক যায় বিদেশে। আর তার বেশি সংখ্যকই পাওয়া যাবে মধ্য প্রাচ্যে।বিশেষ করে সৌদি আরবেও অসংখ্য বাংলাদেশি প্রবাসির দেখা মিলে ।

সেখানে বাংলাদেশিরা নানা ধরনের কােজ করে থাকেন জীবনের ঝুকি নিয়ে । তবে বর্তমানে সৌদিতে কাজ করার সুযোগ কম বেকার হয়ে পড়েছে লাখ লাখ প্রবাসীরা ।সৌদি অারবের বর্তমান কাজের করুন অবস্থা নিয়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিজের ক্ষোপ প্রকাশ করেছেন,

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মাতানিয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির আহমেদ গত ২১ বছর ধরে রয়েছেন সৌদি আরবে। এরপর কিছুদিন আগে পরিবারের পীড়াপীড়িতে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে ২৩ বছর বয়সী ছেলেকে মদিনায় নিয়ে আসেন। যে কোম্পানির মাধ্যমে এসেছেন তাদের ওখানে চাকরি না থাকায় গত সাত মাস ধরে বেকার বসে আসে ছেলেটা।

কবির জানান, তিনি গত ২১ বছরের প্রবাস জীবনে কখনো এমন দুরবস্থা দেখেননি। ২১ বছর ধরে তিনি মদিনা আল মনোয়ারায় বসবাস করছেন। বর্তমানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি।

সৌদির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে তিনি তার বেতনের উদাহরণ টেনে বলেন, ২৬০০ রিয়েল বেতন পাই। এরমধ্যে বাসাভাড়া ২০০, পরিবহন ১০০ ও আকামা বাবদ ২০০ রিয়েলসহ কোম্পানি ৫০০ রিয়েল কেটে নিলেও ২১০০ রিয়েল বেতন পেতাম। এখন কোম্পানি ১৬০০ রিয়েল দেয়। বাকী এক হাজার রিয়েল কেটে নেয়।

গত দুই দশক সৌদি আরবে রাজারহালে দিন কাটিয়েছেন কবির। চাকরি-ব্যবসা সব ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা ছিল, কিন্তু এখন চিত্র ভিন্ন। কবির চিন্তা করছেন তার ছেলেকে দেশে ফেরত পাঠাবেন। তিনি সহজেই অন্য কোথাও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে ধরা পড়লে দেশে ফেরত পাঠাবে এই ভয়ে ছেলেকে কাজে দেননি।

কবির আক্ষেপ করে বলেন, ‘আল্লাহর দোহাই, সৌদিতে লোক পাঠাবেন না, ভিসা পেলেই বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে লোক পাঠাবেন না। ভিসা নিয়ে আসতে পারলেও এখানে কাজ নাই। বেতন খুবই কম।’

আরও বলেন ওই বাংলাদেশি, সৌদি সরকার আকামা, ভ্যাট ও ইন্সুরেন্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ফি বৃদ্ধি করায় পুরনো-নতুন সব বাংলাদেশির জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পুরনোদের বেতন কমছে, নতুনরা কাজই পাচ্ছেন না।

দেশের মানুষ যেন সৌদি ভিসা পেলেই আসার জন্য পাগল না হয়, জেনেশুনে ও বুঝে যেন না আসে- সে ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।তবে,বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার লোক না বুঝে সৌদি আরবে যাচ্ছে।

আপনার মতামত